• মানব-উদ্বোধন

    মানুষের মন অতল গভীর, জিজ্ঞাসা-জর্জর—
    কোথা পাবে সব উত্তর তার খুঁজে ফিরে অহরহ,
    কোথা গিয়ে প্রাণ জুড়াবে নিভৃতে, পাবে প্রেম-নির্ঝর—
    সে বাতাস কোথা, যার তীরবেগে কেটে যাবে সব মোহ!
    দেবস্বরূপ অনুভবে মন কোথায় ধন্য হবে—

  • লীলাসভা

    লীলসভায় দাঁড়াব—আমি
    বাতাসকে জানি, মা!
    সঙ্গ দেবে আমাকে এই
    চৈত্ৰপূর্ণিমা।

  • উদ্বোধন ১২৫

    আকাশ নেমেছে মাটির বুকের কাছে
    মাটির কান্না আকাশকে ছুঁতে চায়,
    দিগন্ত রেখা সরে যায় দূরে দূরে
    এগিয়ে গেলেই অনন্ত পাওয়া যায়।

  • দিব্যবাণী

    মাতঃ প্রণমি শ্রীপদে৷৷
    মঙ্গল-কারিণী শিবা, ত্রাতা শম্ভু উমাপতি,
    সিদ্ধিদাতা গণেশাদি আছেন যত দেবতা,
    রবি গুরু যত গ্রহ, পুরন্দরাদি দিক্‌পতি

  • বোধবৃক্ষ

    হাওয়ার ভিতর দিয়ে যে আলো নিভৃতে আসে,

    যে আলো পাথর বাঁধা শীতল বাড়ির পাশে

  • কৌতূহল

    পাখিটি কি তোমায় নাম ধরে ডাকে?

    আরেকটা বিকেল ফুরোয়। ম্লান হয় গানের খাতা।

    হাওয়া খেয়ে যায় বিবিধ বাসনার সুর।

  • প্রতিক্রিয়া

    হার্পসিকর্ড কনচের্তো আর ঢাকের আওয়াজ
    মিশে যাচ্ছিল সেই সন্ধ্যায়,
    পাঠক সরে যাচ্ছিলেন দূরে
    একটি বইয়ের সন্ধানে হন্যে হয়ে

  • নিসর্গ

    দুপুরের রঙে

    আবৃত—

    ঝরাপাতা, পথ, বনরেখা, প্রান্তর—

             সুন্দরে সুন্দরে পরিস্নাত।

  • দু’একটি ধূসর পালক

    সাবলীল বাঁশিসুরে নৌকোর স্মৃতি আয়ুরেখা হয়ে যায়

    মুষ্টিভি‌ক্ষা থেকে জমা হয়

    দু’একটি ধূসর পালক

    হারানো মৃতকাল ভাঙা সেতুটির গায়ে

  • চক্রব্যূহ

    সেকথা জেনেই, শোনো,
    কাঁটাগুল্ম পায়ে দলে দেবীতটে এগোচ্ছেন রামপ্রসাদ সেন…

  • ভ্রমণ

    “বড় ‌ক্ষতি নিয়ে যাও এই দুই মাটির পুতুল,
    আধা দামে দেব”…
    দু’টাকা খুচরো আমি ফিরত না নিয়ে ভাবি
    আবার কখনো আমি ভ্রমণে আসব।

  • অভিযোজন

    তোমার দেহাতি আলোয় আমার মেখে নেওয়া ভোরের আজান
    শীতলপাটি পাঁচালির গানে বাবুইর বাসা

  • প্রতিবেশীদের জন্য

    সবুজ শস্যের মানে
    গাঁ গঞ্জের ইস্টিশান জানে
    আড়তদার আরও ভাল বোঝে…

  • দিবানিশি

    দিন শুরু নবারুণে
    ধরণি আলোকিত কিরণে
    ভোর হয় নিশা অবসানে
    কোলাহল বিহগের গানে

  • শিব নয়, ক্লীব নয়, জীব

    যুগান্ত পেরিয়ে আজ কার কাছে দাঁড়াব এখন,
    কে বা দেবে পাপমন জতুগৃহে পুণ্যের দহন?

  • সন্ধান

    কোথায় ভাবলে তাঁকে
    অন্তরী‌ক্ষে, পাথরে না জলে?

  • অজানা উত্তর

    ফতুয়ার পকেটে রঙিন মার্বেল গুলি,
    একবার কি ফিরে যাওয়া যায়
    শৈশবের খোলা মাঠে দু’হাত ছড়িয়ে?

  • একটু বেলা করে জেগে

    শব্দহীন নির্জনতম কোনো এক মরু-সকালে
    সতেজ নির্মল হিমেল হাওয়া উত্তর কোণ থেকে

  • ধ্রুবতারা

    জেগে আছে ধ্রুবতারাটি
    অন্ধকারের গর্ভে,
    সাতটি তারারা প্রশ্ন
    চিরকাল তুলে ধরবে।

  • করতালির ডাকে

    বিক্ষুব্ধ জলের বুক থেকে
    ছিনিয়ে নেওয়া তোমায়, স্বাধীনতা;
    যেন এই আলোর ডিঙি থেকে
    নেমে আসছে গৃহস্থ পালক।

  • স্বাধীনতা লেখা আছে বাড়িটার গায়ে

    ঐ যে বেনিয়াটোলার ট্রাম-লাইনের ধারে
    বট আর অশ্বত্থের ঝুরি নেমে আসা বাড়িটাকে দেখছ,
    ওখানেই বিপিন থাকত, ওর বাপ-কাকা, ঠাকুরদা,
    দুই বোন, আইবুড়ো পিসি, ওর মামাতো ভাই নরেশ

  • প্রতীতি, প্রবহমান

    যে-ভাবনা স্বাধীন জেনেছিল ইচ্ছাকে—তার শেষে,
    স্বতন্ত্র মনে-করা সমস্ত গঠন ও সংগ্রাম পেরিয়ে
    নিজের সামনে এসে দাঁড়াই।

  • নয়নতারার পরী

    শোনো আমি নয়নতারার পরী
    আমার ফুলের রঙ হালকা বেগনি, আমি

  • ঘড়ি

    চোখের সামনে কত দৃশ্য বদলে যায়!
    পৃথিবীর একাকী দেহ…

  • সরণি সন্ধান

    আলোর দারিদ্রে যা ঢাকা পড়ে গেছে
    খুঁজে পেতে চাই সেই সত্যের মহিমা।

  • স্থাপন

    এই মুহূর্তটি চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
    হাজার সমুদ্র কেটে নীলকান্ত মণি।

  • ছায়াসঙ্গী

    যেখানেই যাই, যে কাজই করি, মনে হয়
    তুমি যেন আমার ছায়াসঙ্গী, আমার পাশে পাশে আছো—

  • অমানী

    চাপাটি-ঘ্যাঁটের দম্ভ। চা-পাউরুটির দৃপ্ত অহংকার।
    দ্যাখো, দেখুন, দ্যাখ্ রে, নানা কিসিমেরই অ্যালকেমি ‘অস্মিতা’…

  • প্রত্যয়

    তোমরা যত ক্ষতির নেশায় মেতে উঠবে
    নাছোড় আমার জেদ তত দৃঢ় হবে

  • জেগে আছি শুকতারার দিকে চেয়ে

    এক আকাশ কালো তারার নিচে
    জেগে আছি শুকতারার দিকে চেয়ে

  • গ্রন্থজগৎ

    একটা দু’টো তিনটে নয়, শ’য়ে শ’য়ে বই,
    হাজার হাজার বই ল‌ক্ষ ল‌ক্ষ সাদা পৃষ্ঠা,

  • সেই মানুষটার কথা

    সে কারও হাত ধরে হাঁটতে চায়নি
    মানুষটা অশ্বারোহীও নয়, আপাদমস্তক

  • সংকেত

    মেঘ ও আঁধির মাঝে
    আলো হয়ে বসে আছে যে নির্ণয়

  • চুপ

    তোমার জন্য আসন পেতেছি ভুঁয়ে
    তোমার জন্য ঘণ্টা ঘড়ির সাজ

  • ত্রাণ

    আমার ভেতর থেকে উঠে আসছে একটি নিঃশ্বাস।
    এখন ভীষণ কোন সত্য নেই। আশেপাশে ধ্বংসস্তূপ আছে

  • ঘুমে লেখা

    যা নিয়ে কেউ কখনো ভাবেনি
    যা নিয়ে কেউ কখনো লেখেনি

  • বেলুড় মঠ

    মাথার উপর ছায়া মেলে যেন
    প্রাচীন বট—

  • ধার্মিক

    একটা ছেলে ছোট্টবেলায়
    মুসলমানের তামাক খেলো,
    আমেরিকায় সহজ করে

  • সেই স্বামীজীকে

    ধর্মের নামে গোঁড়ামিগুলোকে
    করে দিয়ে ছারখার

  • একক রঞ্জন

    প্রিয় সন্ধ্যায় লেখা হল ল‌ক্ষতারার সন্ন্যাস চিঠি
    ঠিকানাসব এক, সময় ও আঁধারে একক রঞ্জন

  • তোমাকে কবিতায়

    একটি কবিতা নির্মাণে ব্রতী হয়েছি যা হবে সত্য ও নিত্য।
    এদিকে তুমি বললে—

  • কবিতার কুচি

    পাখির ডানা অঢেল স্বপ্ন দেখায়, ভেঙে যায়
    বৃে‌ক্ষর মজ্জায় বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে

  • তোমার পায়ের ধুলো করো

    যখন ধুতির খুঁট দিয়ে তুমি মুছে দিতে পারো
    যাবতীয় কান্না আর গ্লানি আর মিথ্যে অভিযোগ

  • জীবন-মৃত্যু

    রাত্রির ভিতর কিছু ফুল ফুটে আছে, ফুল নাকি তারার পেখম
    এই অন্ধকার, ঘন যামিনীর; মেঘচ্ছায়া নয়।

  • যে রাধা ফিরে আসেনি

    আসলে ঈশ্বরের বাসনা দিয়ে আদিখণ্ডের শুরু
    যেখানে দর্পণে নিজের রূপে মোহিত স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ বাসুদেব

  • আদুরে পালক

    আমি অন্ধকারে পথ খুঁজতে থাকি
    তিনি এসে যখন দাঁড়ান

  • মো‌ক্ষ

    বাঁধন মজবুত করার জন্য শক্তহাতে গিঁট বেঁধেছিলাম।
    অবাক হয়ে ল‌ক্ষ্য করলাম স্বার্থ, অবিশ্বাস, ঘৃণা,

  • অনাদি

    নতুন হোটেল, পাশে পুরনো মন্দির—
    সামনে সমুদ্র, ওপরে আকাশ
    —কখনো নতুন নয়,

  • করুণা হে

    বেলা শুরুই হয়নি
    এখনই সে আনন্দ গান শোনাতে চায়
    আনন্দ গান হবে শেষবেলায়,

  • দক্ষিণেশ্বরে

    রামকৃষ্ণ বসে আছেন
    দক্ষিণেশ্বরে
    সন্ধ্যারাতের একটি পাখি
    ঢুকল তাঁর ঘরে
    বসল পাখি হাঁটুর

  • মায়ের নতুন সাজ

    আজ ভোরে উঁচু বেদি আলো করে বসা মা-কে দেখেছি আনন্দে
    একে অপরের সঙ্গে মৃদু কথাবার্তা হল শিশুর মতন

  • মাটি জল নতুন ঈশ্বর

    এ-কথা সবাই জানে, শত প্রতিরোধ ভেঙে
    অবশেষে বাগানে ঢুকেছি,

  • সমবেত হৃদয়ের গান

    মন্দিরের সব দ্বার রুদ্ধ হয়ে আছে!
    কেউ নেই মন্দিরের আর ততো কাছে,

  • জরাজীর্ণ

    আমি আর কিছু লিখি না।
    মনে হয় না, আমার আর কিছু লেখার আছে।