“কালীপুজোর জাঁক দেখবা? তবে বঁধু এড়োল যাবা।” গ্রামের নাম ‘এড়োয়ালী’। আশপাশের দশ-বিশটা গাঁ-গেরামের লোকে বলে ‘এড়োল’, আবার কেউ কেউ ‘এড়ুল’ও বলে থাকে। থানা ও ব্লক খড়গ্রাম বা ‘খড়গাঁ’, আর সাব-ডিভিশন কান্দি, জেলা মুর্শিদাবাদ। শুধু মুর্শিদাবাদ জেলায় নয়, বীরভূম ও বর্ধমানের বেশ কিছু অংশেও এড়োলের কালীপুজোর রীতিমতো নামডাক আছে। প্রায় পৌনে তিনশো বছর আগে রাজা রামজীবন রায়ের বংশধর এড়োয়ালীর রায়চৌধুরীরা এই পুজো শুরু করেন। আজ বিভিন্ন শরিক-ঘর মিলিয়ে রায়চৌধুরী পরিবারের কালীর সংখ্যা পুরো এক ডজন। তাছাড়াও দৌহিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় বংশের একটি পুজোকে ধরে গ্রামে মোট তেরোটি কালীর অধিষ্ঠান। রাজা রামজীবন কোথাকার রাজা ছিলেন, এড়োয়ালীই কি তাঁর রাজ্যপাট ছিল কিংবা ‘রায়’রা কীভাবে ‘রায়চৌধুরী’ হলেন—এমনতর অনেক প্রশ্ন মনে ভিড় করে আসা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু সেসব কথা আরেকটু পরে এড়োল পৌঁছেই না হয় বলাযাবে। এড়োলের যাত্রাপথে পদে পদে মৌন বিস্মৃতপ্রায় আঞ্চলিক ইতিহাস বাঙ্ময় হয়ে উঠতে চায়। অজস্র কিংবদন্তি আর অদ্ভুত সব লোকাচার বাতাসের স্বরে ফিসফিস করে হারিয়ে যাওয়া অনেক কথা শোনাতে চায়। সুতরাং চলার পথে এমন অনেক কথাই আসবে যাদের সঙ্গে আপাতদৃষ্টিতে এড়োলের কালীপুজোর কোনো সম্পর্কই যেন নেই, মনে হবে ‘ধান ভানতে শিবের গীত’! আবার একটু অন্যভাবে দেখতে গেলে কিন্তু সবই এক জাদু-বাস্তব, যারা সবাই সবার সঙ্গে জড়িয়ে-মড়িয়ে তৈরি করেছে আশ্চর্য মায়ামুকুরের এক-একটা গোটা ছবি। দেখতে আলাদা হলেও তোমার কৃষ্ণ আর কালীতে তফাত কিগো, দুয়ে মিলেই যে মা আমাদের ‘শ্যামরূপা’! আবার দেখ গা, সেই শ্যামরূপাই কখনো শ্যামা, কখনো বা কালী হয়ে লাজ দেখালছে। কালীই আবার তারা, ধূমাবতী, চামুণ্ডা, হৈমবতীর মতো কত রূপে বিরাজিছে! কাজেই কথাটা বড় সহজ লয় হে বধুঁ, এ বড়ই রঙ্গ। অথচ দেখ, ভাবের ভাবী হলে তার কাছে সবই মিলেমিশে এক অনন্ত শক্তির বিভিন্ন প্রকাশ, যাদের কারো সঙ্গে কারোর কোনো বিরোধ নেই, যত ধন্দ শুধু আমাদের মনে! কিংবদন্তি বা লোককথা ইতিহাস নয় সত্যি; কিন্তু একথাও তো ফেলনা নয় যে, ইতিহাসের ঔরসেই কিংবদন্তি লোককথার...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹80/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in