“যদি মনে এমন বুঝিতে পারেন যে, লিখিয়া দেশের বা মনুষ্যজাতির কিছু মঙ্গলসাধন করিতে পারেন,

“যদি মনে এমন বুঝিতে পারেন যে, লিখিয়া দেশের বা মনুষ্যজাতির কিছু মঙ্গলসাধন করিতে পারেন, অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি করিতে পারেন, তবে অবশ্য লিখিবেন। যাঁহারা অন্য উদ্দেশ্যে লেখেন, তাঁহাদিগকে যাত্রাওয়ালা প্রভৃতি নীচ ব্যবসায়ীদিগের সঙ্গে গণ্য করা যাইতে পারে।”১ রচনার দ্বিবিধ উদ্দেশ্যের কথা প্রাবন্ধিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এখানে  উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, দেশ বা মানুষের মঙ্গলসাধন। দ্বিতীয়ত, সৌন্দর্য সৃষ্টি। ‘কৃষ্ণচরিত্র’ রচনার পিছনে বঙ্কিমচন্দ্রের এই দুই উদ্দেশ্যের মধ্যে প্রথমটিই অধিক সক্রিয় ছিল বলে অনুমিত হয়। দেশ ও জাতির সামনে এমন একটি চরিত্রকে তিনি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন—যাঁর আদর্শ জাতিকে পথ দেখাবে, বলিষ্ঠতা দেবে; একটা পরাজিত, বহুকাল-নিপীড়িত, আত্মবিস্মৃত জাতির সামনে উদাহরণ হিসােব দাঁড়িয়ে যাবতীয় কাপুরুষতাকে জয় করতে শক্তি জোগাবে। ‘কৃষ্ণচরিত্র’ রচনার সূচনায় প্রাবন্ধিক গ্রন্থের উদ্দেশ্য, কৃষ্ণের চরিত্র কেমন ছিল তা জানার উপায় ইত্যাদি বিস্তৃত ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে মহাভারতের ঐতিহাসিকতা, পাণ্ডবদের ঐতিহাসিকতা, কুরু‌ক্ষেত্রের যুদ্ধের সম্ভাব্য সময়, কৃষ্ণচরিত্রের ঐতিহাসিকতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। এই বিষয়গুলি নিয়ে সুদীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজনীয়তা একথা মনে করিয়ে দেয় যে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অনুমান করেছিলেন—কৃষ্ণচরিত্রের নানা দিক আলোচিত হওয়ার আগে চরিত্রটি প্রকৃতই কতটা বাস্তব বা ইতিহাস-সমর্থিত সেবিষয়ে নিঃসন্দিগ্ধ হয়ে নেওয়া দরকার আছে। চরিত্রটির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার আগে সমকালের মানুষকে কৃষ্ণচরিত্রটির প্রকৃত অস্তিত্বের যৌক্তিকতা বিষয়ে নিঃসংশয় করে নেওয়া প্রয়োজন বলে তাঁর মনে হয়েছিল। সমকালের মনোভাব তিনি জানতেন। তার্কিকতার সম্ভাব্য অস্ত্রগুলি কোনদিক থেকে আক্রমণ হানতে পারে তাও তিনি জানতেন। তাই আলোচনায় প্রবিষ্ট হওয়ার আগে সম্ভাব্য বিরোধিতাগুলির উত্তর আগাম সাজিয়ে নিয়েছেন, আর তারই সূত্রে তিনি প্রসঙ্গগুলির অবতারণা করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের সমকালে এই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটুকু নির্দ্বিধায় বলা যায়, বর্তমানের সাহিত্য আলোচনায় বিষয়গুলি ততটা আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। সাহিত্য, ধর্ম, জীবনচর্যা যাই হোক না কেন, পৌরাণিক বা মহাকাব্যিক চরিত্র আলোচনা প্রসঙ্গে তার বাস্তব অস্তিত্বের প্রাসঙ্গিকতা বিষয়ে প্রশ্ন এখন আমরা সেভাবে কেউ তুলি না আর। বক্তব্য বিষয়ের যৌক্তিকতার দিকেই বর্তমান শতাব্দীর দৃষ্টি আবদ্ধ। কাজেই ‘কৃষ্ণচরিত্র’ আলোচনা প্রসঙ্গে সূচনালগ্নের এই বিষয়গুলির পর্যালোচনা...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹100/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in