পরম পূজনীয় হরি মহারাজের স্মৃতি উৎসাহপ্রদ খুব। তিনি আমার অভাবনীয় দরদী

পরম পূজনীয় হরি মহারাজের স্মৃতি উৎসাহপ্রদ খুব। তিনি আমার অভাবনীয় দরদী ছিলেন। এরূপ দরদী বিরল। একটিমাত্র ঘটনা বলিয়া কিছু আনন্দানুভব করিব—একবার ছয় মাসের ছুটি লইয়া, তাঁহার সঙ্গ করিবার জন্য কাশীতে আসি। একদিন গীতার ষষ্ঠ অধ্যায়ের একটি শ্লোকের ব্যাখ্যা শুনিতে চাহিলে, উহা বিশদ করিয়া দিলেন। সেই দিন হইতেই কিংবা তাহার দুই একদিনের মধ্যে, উক্ত শ্লোকের পরের শ্লোক হইতে, স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া, নির্দিষ্ট সময়ে প্রত্যহ ব্যাখ্যা করিতে থাকেন। অষ্টাদশ অধ্যায় পর্যন্ত শেষ করিয়া প্রথম অধ্যায় হইতে ষষ্ঠ অধ্যায়ের বিশেষ শ্লোকটি (প্রথম যাহার ব্যাখ্যা আরম্ভ হয়) পর্যন্ত পাঠ হইল। শাঙ্করভাষ্য পড়িতেন, মধ্যে মধ্যে ব্যাখ্যাও একটু একটু করিতেন—কম কম। বাংলায় অনুবাদ কিছু টীকা টিপ্পনীসহ ব্যাখ্যাই প্রায় চলিত। যাহা হউক, যেদিন পাঠ শেষ হইল, তারপর দিনই আমার বসন্ত হয়। বেশ বড় বসন্ত। বাহিরে থাকিতাম; যত্ন, শুশ্রূষাদির কোন অভাব আদৌ না থাকায়, সেবাশ্রমে সংবাদ দিয়া তাঁহাদের উদ্বেগ বৃদ্ধি করি নাই। ১৪/১৫ দিন পরে সুস্থ হইয়া পূজনীয় হরি মহারাজের সহিত দেখা করিতেই তিনি সব শুনিলেন এবং সেবাশ্রমে সংবাদ দেই নাই তজ্জন্য অনুযোগ করিলেন। পরে তাঁহার সেবক ভবেশানন্দের সহিত দেখা করিলে, তিনি সব শুনিয়া বলেন, “আপনার বাড়ীর নম্বর মহারাজ জানিতেন না, তবুও আন্দাজে স্বয়ং বাড়ী খুঁজিয়া আপনার বাসার সন্ধান পান নাই। মহারাজের শরীর তো সুস্থ নয়, তাতে পায়ে ব্যথা। অসুখের সংবাদটা না দিয়া খুব অন্যায় করিয়াছেন।” আমি একেবারে হতভম্ব হইয়া গিয়াছি! এ-ও কি সম্ভব হইতে পারে? কল্পনাতেও তো আসে না। কষ্ট হইল খুব। কিন্তু প্রকৃত দরদ কাহাকে বলে, তাহার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ পাইলাম! অন্য কাহাকেও না পাঠাইয়া, স্বয়ং গিয়াছেন! অতি ‌ক্ষুদ্রের প্রতি অতি মহতের কৃপা! দরদ। উৎসাহদাতা: অসময়ে অর্থাৎ প্রাতঃকালে অদ্বৈতাশ্রমে গিয়াছি। পূজনীয় হরি মহারাজের ঘরের নিকট আসিয়াই দেখি, ঘরে সব সাধু floor-এ বসিয়া, মহারাজ চৌকীর উপর। খুব উৎসাহ সহকারে শাস্ত্রব্যাখ্যা করিতেছেন। গতি ও ছন্দ ভঙ্গ হইবে আশঙ্কা করিয়া বারান্দা ও ঘরের সংযোগস্থলেই বসিলাম। মহারাজ পশ্চিমমুখী। আমি পাঁচ সাত...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in