ভগবান্ শ্রীরামকৃষ্ণদেবের ভ্রাতুষ্পুত্র পূজ্যপাদ রামলাল চট্টোপাধ্যায় সুদীর্ঘকাল
[রামলাল চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে লেখক এই প্রবন্ধটি লিখেছেন। এটি মাসিক বসুমতী পত্রিকার ১১শ বর্ষের ৩য় সংখ্যায় (আষাঢ় ১৩৩৯) প্রকাশিত হয়েছিল। রচনাটির বানান অপরিবর্তিত রাখা হলো।] ভগবান্ শ্রীরামকৃষ্ণদেবের ভ্রাতুষ্পুত্র পূজ্যপাদ রামলাল চট্টোপাধ্যায় সুদীর্ঘকাল পিতৃব্যের পরিচর্য্যা করিয়াছিলেন। সাধক অবস্থার এবং তাহার কিছুকাল পর পর্য্যন্ত বালকস্বভাব শ্রীরামকৃষ্ণের অভিভাবক ছিলেন—তাঁহার ভাগিনেয় হৃদয়। বলিতেন, তখন আমি হৃদের অণ্ডার-(under)এ। কিছু দিন শ্রীভবতারিণী পূজা করিতে করিতে এই লোকোত্তর পুরুষের দিব্যোন্মাদ অবস্থা উপস্থিত হয়। কখন গঙ্গা কূলে, কখন পঞ্চবটীমূলে, কখন আমলকী-বৃক্ষতলে, কখন দেবীদেউলে পড়িয়া উচ্চ ক্রন্দন-রোলে মা-মা বলিয়া কাঁদিতেন। কখন কণ্টক-কঙ্করময় স্থানে মা দেখা দাও, দেখা দাও বলিয়া মুখ ঘষিতেন। বাহ্যজগতে দৃষ্টি নাই। সূর্য্য উঠে, পাখী গায়। নিশি আসে, শশী হাসে। মেদিনী কখন কৌমুদীমালিনী, কখন কালরূপা করালিনী। পাগলের ভ্রূক্ষেপ নাই। কেবল গঙ্গার পরপারে স্বর্ণহারে সন্ধ্যা যখন দেখা দেন, পাগল হাহাকার করিয়া উঠেন—আর এক দিন বিফলে চ’লে গেল, কৈ মা, দেখা দিলি! মন অনুক্ষণ আত্মহারা, নয়নে অনিবার প্রেমধারা, ক্ষুৎপিপাসায় উদাসীন। হৃদয় সে সময় পরমযত্নে মাতুলকে স্নানাহার করাইতেন ও সেবা করিতেন। হৃদয়ের পর পিতৃব্যের তত্ত্বাবধায়ক হইয়াছিলেন রামলাল। তখন লোকগুরু শ্রীরামকৃষ্ণ-সকাশে ভক্ত-সমাগম ও ‘যত মত, তত পথ’ এই উদার ধৰ্ম্মনীতির প্রচারকার্য্য শুরু হইয়াছে। শ্রীরামকৃষ্ণ-ভক্তসমাজে ইনি ‘রামলাল-দাদা’ নামে সুপরিচিত এবং এখনও ভবতারিণীর পূজা ও শ্রীরামকৃষ্ণের সেবা ইহার জীবনের ব্ৰত। দক্ষিণেশ্বর দেবোদ্যান সংসারতপ্ত ভক্তের জুড়াইবার স্থান—যেন শান্তি দেবীর নিলয়। অতিনিকটেই আলমবাজার শ্রবণ বিদীর্ণ করিয়া কলের বাঁশী বাজাইতেছে, বরাহনগর দোকানপাট খুলিয়া হট্টগোল বাধাইয়াছে। অদূরে কলিকাতা সহর ব্যবসা-বাণিজ্য-বিলাসের লহর তুলিয়া, ধূলি-ধূম-ধূসর-অঙ্গ চাক্চিক্যে ঢাকিয়া বারাঙ্গনার ন্যায় রঙ্গ করিতেছে। কিন্তু দেব-ঋষির এই পবিত্র তপোবনে সংসারের কোলাহল নাই, আছে কেবল পুণ্যসলিলা জাহ্নবীর মৃদু কলনাদ। এখানে অসন্তোষের ক্ষুব্ধ স্বর নাই, আছে কেবল তরুপত্রের তরতর ঝরঝর, আর হতাশের তপ্তশ্বাসের পরিবর্ত্তে আছে বাতাসের সুশীতল সঞ্চরণমর্ম্মর। ঐ দেখ, শ্রীশ্রীভবতারিণীর নবচূড়মণ্ডিত মন্দির—পরমপ্রিয় পুত্রের তপস্যায় যিনি জাগ্রত হইয়া ভক্তগণকে অভয়দান করিতেছেন। তৎ-পশ্চাতে বিষ্ণুঘর—শ্রীরাধাগোবিন্দজীউর বিলাস-বাসর। ভাগীরথীতীরবর্ত্তী ঐ দেখ, দ্বাদশ শিবমন্দির —যেখানে দেবদেব...
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
