মানবহৃদয়ে ভক্তিপদ্ম প্রস্ফুটিত হয় ঈশ্বররূপ সূর্যের মুখপানে চেয়ে, ঈশ্বরচরণে
মানবহৃদয়ে ভক্তিপদ্ম প্রস্ফুটিত হয় ঈশ্বররূপ সূর্যের মুখপানে চেয়ে, ঈশ্বরচরণে আত্মনিবেদনেই তার পরম সার্থকতা। সেই ভক্তজীবন বাস্তবিক পদ্মের মতোই সকল দেবদেবীর প্রিয়। হতে পারে, সেই পদ্মের জন্ম পাঁকে পুকুরে; কিন্তু সেখান থেকেই তাকে তুলে এনে আপন চরণে স্থান দেন জগৎপ্রভু। আবার যে-পদ্ম স্বর্গীয় পবিত্র পরিবেশে জন্মায়—যে-ভক্তের জন্ম নিষ্ঠাবান ভক্তপরিবারে—তার জীবন যে ঐশী আলোকে প্লাবিত হবে, সে আর বেশি কথা কী! কলকাতার বড়িশায় থাকতেন রামদাস মিত্র। এক স্বপ্নাদেশ পেয়ে ছুটে গেলেন বৃন্দাবনে, অনেক অনুসন্ধানের পর মিলল তাঁর স্বপ্নে দেখা রাধাগোবিন্দের মূর্তি। তাঁকে বাংলায় নিয়ে এসে ১০৫৫ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ আজ থেকে ৩৭৮ বছর আগে কোন্নগর গ্রামের দক্ষিণে তাঁর ৯ বিঘা জমির এক স্থানে মন্দির প্রতিষ্ঠা করে স্থাপন করলেন। প্রতিষ্ঠার পর বিগ্রহের নাম হলো ‘গোপীনাথ জিউ’। ঈশ্বর-নির্বাচিত এই পবিত্র ভূমিখণ্ডে নির্মাণ করলেন রাসমঞ্চ ও দোলমঞ্চ। মন্দিরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে পুঁতে দিলেন নাগকেশর এবং মন্দিরের পাশের রাস্তার দুধারে সাতটি বকুল গাছ। ঐ জমিতে দুটি পুকুর আগে থেকেই ছিল; এবার নির্মিত হলো একটি তিনতলা ও দুটি একতলা বাড়ি। সমস্ত কিছু উৎসর্গ করা হলো ব্রাহ্মণের নামে, যাতে এখানে প্রসাদ পেতে কারো আপত্তি না থাকে। গোপীনাথজীর সেবাপূজার চিরস্থায়ী ব্যবস্থা করতে রামদাস মিত্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার লক্ষ্মীকান্তপুরে ২৬ বিঘা এবং হুগলির চণ্ডীতলায় ২৪ বিঘা জমি কিনে কোন্নগরের ৯ বিঘা-সহ পুরোটাই দেবোত্তর করে দিলেন। নিজেকে সেবায়েত নিযুক্ত করে থাকতে লাগলেন কোন্নগরেই। শুধু তাই নয়, একটি দলিল তৈরি করে লিখে দিলেন, কোন্নগরের ঐ জমি ও বাড়ি ব্যবহার করতে পারবে শুধু সেইসব বংশধর—যারা এই জায়গা ছেড়ে কখনো যাবে না এবং গোপীনাথজীর নিত্যসেবা ও বিশেষ উৎসবগুলি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করবে। অন্যথায় ঐ বংশের অন্য শরিক আগ্রহী হলে তা ব্যবহার করতে পারবে। ভক্ত রামদাস মিত্রের অন্তরের কোন গভীরে গোপীনাথ জিউ অধিষ্ঠিত ছিলেন, তা এই থেকেই বোঝা যায়। আরো আশ্চর্যের কথা, রামদাসের পুত্র-পৌত্রগণ এই ব্যবস্থায় যেমন আনন্দিত হয়েছিলেন, তেমনি গোপীনাথ জীউর সেবকরূপে নিজেদের ধন্যজ্ঞান করতেন। দেখতে...
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
