অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতকে পাশ্চাত্য জড়সভ্যতার বিজয়যাত্রার
অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতকে পাশ্চাত্য জড়সভ্যতার বিজয়যাত্রার প্রভাবে ভারতীয় সনাতন ধর্মসংস্কৃতি উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিহীন হয়ে পড়েছিল। সনাতন ধর্মের ঐতিহ্যচ্যুত সুগভীর অবনতির সেই প্রেক্ষাপটে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর সমকালীন সকল প্রকার অধ্যাত্মচর্চার রীতি-নীতি, এমনকী বিবিধ ধর্মপথানুসারী ব্যক্তিগণকে স্ব-অভিমুখে আকর্ষণ করে আত্মাভিব্যক্তির দ্বারা ধর্মকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। তাঁর সান্নিধ্যে এসে বহু প্রথিতযশা ব্যক্তি যেমন, তেমনি সাধারণ গৃহী মানুষের মানসিকতায় ও অধ্যাত্মজীবনধারায় বহুলাংশে পরিবর্তন হয়েছিল। শ্রীরামকৃষ্ণের স্নেহধন্য নিত্যগোপাল তার ব্যতিক্রম নন। তাঁর সম্পর্কে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত-এ মাত্র কয়েকদিনের উল্লেখ আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাঁর সম্বন্ধে শ্রীরামকৃষ্ণের অভিমতে কৌতূহলী হয়ে উঠি। ১৮৫৫ সালে আহিরীটোলার সম্ভ্রান্ত ও বিত্তবান বসু পরিবারের সন্তান নিত্যগোপাল দিব্য সংস্কার নিয়েই ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন বৈষ্ণবতীর্থ পানিহাটির মাতুলালয়ে। সেই সংস্কার পরিপুষ্টি লাভ করল গৃহ ও আত্মীয়গণের সান্নিধ্যে। ভক্তিমতী মাতা গৌরীদেবী কাশীতে মাসাধিক কালব্যাপী বীরেশ্বর শিবের পূজার্চনা ও ব্রত-শেষে একান্ত প্রার্থনা জানিয়েছিলেন শিবতুল্য সন্তানের। জটাধারী ভস্মভূষিত এক মহাত্মার মুখনিঃসৃত ভবিষ্যদ্বাণীতেও তিনি শুনেছিলেন কোনো মহাপ্রাণের সন্তান হিসাবে তাঁর গর্ভে আবির্ভাবের বার্তা। নিত্যগোপাল যেন যোগভ্রষ্ট ব্যক্তির মতোই বসু পরিবারের পবিত্র বাতাবরণে জন্মলাভ করে মোক্ষপ্রাপ্তির পথে অগ্রসর হওয়ার অনুকূল পরিবেশ পেলেন। কোনো এক অবধূতের শিষ্য পিতা জন্মেজয় ছিলেন সাংসারিক বিষয়ে উদাসীন। ইষ্টদেবী মা কালীর চরণে নিবেদিতপ্রাণ গৌরীদেবী ছিলেন অত্যন্ত তপস্যাপরায়ণা। তাঁর অন্তঃকরণ ছিল উদার, সকল মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। স্বাভাবিকভাবেই তা সঞ্চারিত হয়েছিল সন্তান নিত্যগোপালের মধ্যে। মাতামহী আনন্দময়ীও ছিলেন ভক্তিমতী, যাঁর স্নেহপরিচর্যায় নিত্যগোপালের শৈশব অতিবাহিত হয়। এর সাথে নিত্যগোপালের পূর্বসংস্কার পরিপুষ্টিতে অতিরিক্তভাবে সহায়ক হয়েছে তাঁর দুই মাসতুতো দাদা রামচন্দ্র দত্ত ও মনোমোহন মিত্রের সংশ্রব—যাঁরা ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণের অন্তরঙ্গ শিষ্য। শৈশবেই নিত্যগোপালের মধ্যে মুমুক্ষার ভাব প্রকাশ পেয়েছিল। বিশেষত মাতৃপিতৃহীন হওয়ার পর থেকেই বালক নিত্যগোপাল অধিকাংশ সময় একান্তে আত্মস্থ হয়ে থাকতেন। সহজাত যোগপ্রবণতার কারণে তাঁর মন ভাবরাজ্যে বিচরণ করত। মনুষ্যজীবনের তিন দুর্লভ সৌভাগ্য—‘মনুষ্যত্ব’ জন্মগতভাবে, ‘মুমুক্ষা’ সংস্কারগতভাবে এবং ‘মহাপুরুষের কৃপাশ্রয়’ দৈব বিধানে তিনি লাভ করেছিলেন। ঋষভপন্থী অবধূত সম্প্রদায়ের কেবলানন্দ অবধূত শাখার ব্রহ্মানন্দ অবধূতের কাছে বাল্যকালেই তিনি মন্ত্রদীক্ষা লাভ...
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
