মূল প্রসঙ্গ ধরে যদি এগিয়ে চলি, তবে প্রথমেই উঠে আসে বিবেকানন্দ-প্রদত্ত

উদ্বোধন-এর গত ফাল্গুন ১৪৩২ সংখ্যায় স্বামী বেদানুরাগানন্দের ‘বিবেকানন্দ-ভাবনায় সর্বত্যাগী শঙ্কর’ প্রকৃতই মহাদেবের নিষ্কলুষ জ্ঞানময়তার এক নিবিড় বিশ্লেষণ। স্বামী বিবেকানন্দের চোখে নটরাজের যে ব্যাখ্যা মহারাজ তাঁর সুদীর্ঘ প্রবন্ধে তুলে ধরেছেন তা যেন সাধারণের কাছে এক সম্পূর্ণ আলোর বিচ্ছুরণ। মহারাজকে আনত প্রণাম। মূল প্রসঙ্গ ধরে যদি এগিয়ে চলি, তবে প্রথমেই উঠে আসে বিবেকানন্দ-প্রদত্ত রামেশ্বরধামের সেই অবিস্মরণীয় বক্তৃতা, যেখানে তিনি মহেশ্বর দর্শনের দ্বিবিধ দৃষ্টিভঙ্গির ধারাকে এক চরম প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করান। দরিদ্র, দুর্বল ও রোগীর মধ্যে শিবজ্ঞানে সেবার যে আহ্বান, তার মধ্যেই প্রকৃত শিবোপাসনার সার্থকতা নিহিত। ‘একমেবাদ্বিতীয়ম্’-এর সেই সুর জীবের মধ্যেই শিবদর্শনের সত্যকে প্রতিভাত করে, যেখানে দীননাথই বিশ্বনাথ, উপাস্য উমানাথ, সর্বত্যাগী শঙ্কর। ত্যাগের মাধ্যমেই যে অমৃতত্বলাভ হয়, গৌতম বুদ্ধের জীবনকাহিনি বা নটরাজের মহাবৈরাগ্য—এই দুইয়ের মিলনে আমরা পাই সেই পরিণতির কথা—সন্ন্যাস। বিবেকানন্দের দেখান পথেই খুঁজে পাই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগৎকে অগ্রাহ্য করে আবৃত্তচ‌ক্ষু অন্তর্মুখ দৃষ্টি-সম্বলিত ধ্যানরূপী ভোলা মহেশ্বরকে। চোখ মেলে শুধু দেখি, শিব ও শক্তির অভিন্নতার অপরূপ সৃষ্টি—অর্ধনারীশ্বর। পরিশেষে মনের অজান্তেই যেন সেই মন্ত্রোচারণায় পিনাকপাণির বন্দনা করি : “ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্।/ উর্বারুকমিব বন্ধনান্মৃত্যোর্মুক্ষীয় মাঽমৃতাৎ।” (সুগন্ধি পুষ্টিবর্ধক ত্র্যম্বকের যজ্ঞ করি। উর্বারুক ফলের ন্যায় যেন আমরা মৃত্যুবন্ধ হতে মুক্ত হই। অমৃত হতে যেন না বঞ্চিত হই।) চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়আলমবাজার, কলকাতা-৩৫

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in