ঋষিবর ঋষ্যশৃঙ্গ
পূর্বে হেন কাননে সেথায়
কমনীয় কামিনী কখনো
দেখেননি হেন।

[পূর্বানুবৃত্তি : চৈত্র ১৪৩২ সংখ্যার পর]।।৬।। ঋষিবর ঋষ্যশৃঙ্গপূর্বে হেন কাননে সেথায়কমনীয় কামিনী কখনোদেখেননি হেন।নববস্তু সন্দর্শনে প্রীততাহাদের কাছেস্বীয় পিতা বিবরণ কহিবার তরেহলেন উৎসুককহিলেন সুতরুণ ঋষির তনয় :“হে শুভদর্শনা!বিভাণ্ডক মোর পিতা,জন্মিয়াছি ঔরসে তাঁহারঋষ্যশৃঙ্গ নামে এ ভুবনে খ্যাত।আসুন সকলে আশ্রমে আমারযথাবিধি করিব সৎকার।”তাঁর কাছে শুনি হেনবারাঙ্গনাগণ আশ্রমদর্শন তরেকরি অভিলাষআসিলে আশ্রমে তারা।সমাদরে সৎকারের সাথেঋষ্যশৃঙ্গ কহিলেন বিনয় বচনে:“এই অর্ঘ্য, এই পাদোদক, এই ফল, মূলকরুন গ্রহণ।”অঙ্গনা সকলে সমুৎসুকা মহানন্দেআতিথ্য তাঁহার করিয়া গ্রহণবিভাণ্ডক ভয়ে যায় যেতে ফিরে শীঘ্র।বিদায় কালেতে কহিল তাহারা :“হে দ্বিজ! মোদের মুখ্য খাদ্য যাহা কিছুনিতে আজ্ঞা হয়।”“হউক মঙ্গল তব।”ঋষ্যশৃঙ্গে কহি হেন করি আলিঙ্গনদিয়া তাঁরে সুখাদ্য মোদক।হর্ষভরে লইল বিদায়।ঋষিপুত্র খাদ্য সেই করিয়া ভ‌ক্ষণহৃষ্ট তাঁর মনভাবিলেন স্বাদু খাদ্য হেনবনবাসী ঋষিগণ পাননি কখন।বারনারী গেল চলি বিভাণ্ডক ভয়েঋষ্যশৃঙ্গ ম্রিয়মাণঅস্থির অন্তরেতাহাদের সুখ-স্মৃতি লয়ে।চিন্তাভারাক্রান্ত হৃদি ঋষির তনয়হেরিবারে অঙ্গনাগণেরে চান পুনঃপুনপ্রতিদিন তাহারি কারণমিলনের স্থানেআশ্রম হইতে যান সন্ধ্যার প্রাক্কালে।পূর্ব্বস্থানে গিয়াপুনরায় হেরিলেন পরিচিতা নারীমনোমুগ্ধকারীতাঁরি প্রতী‌ক্ষায় তারা আছে সেথা নৃত্যরত।অভ্যর্থনা করি সবে কহিল তাঁহারে:“হে ঋষিকুমার, সৌম্য!চলুন মোদের আশ্রমেতে এবেআমাদের ঘরেবহু ফল আছে রাখা তব তরেবিচিত্র সুস্বাদু।ঋষ্যশৃঙ্গ শুনি হেন বাক্য সুমধুরহয়ে বিমোহিতনগরে তাঁদের সাথে হন উপনীত।লোমপাদ রাজ্যে ঋষি অঙ্গদেশে করিলে গমনসাথে সাথে বহুবারি হইলে বর্ষণ—প্রজা হ’ল সুখী।রাজা তাঁরে বন্দিয়া চরণকরিয়া প্রসন্ন তাঁরেমহানন্দে অন্তঃপুরে লয়েবিধিমতে অবশেষেশান্ত মনে শান্তা নামেকরিলেন কন্যারে অর্পণ।লোমপাদ মনস্কাম হইল পূরণঋষ্যশৃঙ্গ প্রীত।সহধর্মিণীর সাথেসুখে অঙ্গদেশে করেন যাপন। ১১ঋষ্যশৃঙ্গের অযোধ্যায় আগমন—অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন মন্ত্রী সুমন্ত্রের কাছে সনৎকুমার কৃতভবিষ্যৎ বাণী শুনি দশরথহৃষ্টমনে বশিষ্ঠেরে করি নিবেদনলয়ে অনুমতি আনিবারে ঋষ্যশৃঙ্গেসাথে লয়ে অমাত্য স্বজনসস্ত্রীক তখনবন্ধু অঙ্গরাজ রাজ্যে করেন গমন।করিয়া লঙ্ঘন বহু নদ নদীদীপ্যমান অনলের মতঋষ্যশৃঙ্গে আনিবারে যজ্ঞেতে তাঁহারলোমপাদ রাজার নিকটে হ’ন উপনীত।রাজা দশরথহেরিয়া ঋষিরে প্রীতযথাবিধি করিলেন অর্চ্চনা তাঁহার।দশরথ আগমনেসখ্যভাবে প্রীত অঙ্গরাজ পরম হরষেসমাদরে দিয়া মাল্যহারকরিলেন তাঁহারে গ্রহণ।অবশেষে জামাতার সাথেদশরথ সুহৃদের দিয়া পরিচয়দেখালেন শিষ্টাচার অপার বিনয়।ঋষি ঋষ্যশৃঙ্গ তবে রাজা দশরথেসম্মানিত করিলেন যথা সাধ্যমতে।অঙ্গরাজ গৃহে বারে বারেবহু আপ্যায়নে প্রীত রাজা দশরথসপ্ত অষ্ট দিবস যাপিয়া করি নিবেদনকহিলেন বন্ধুরে তখন :“হে রাজন!পুত্রকামনার তরে যজ্ঞ অনুষ্ঠানকরিয়াছি পণ।যজ্ঞ সুসম্পন্ন...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in