১৮৯৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস অতিবাহিত। ভারত-গগন অরুণোদয়ের গৈরিক আভায় রঞ্জিত হতে

১৮৯৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস অতিবাহিত। ভারত-গগন অরুণোদয়ের গৈরিক আভায় রঞ্জিত হতে আরম্ভ করেছে সবে। স্বাধীন দেশের যে জাতীয় কেতন ভাবিকালে বিজয় ঘোষণা করবে, তার তিনটি বর্ণের মধ্যে গেরুয়াটিকে বিশ্ববাসী চিনে নিয়েছিল সেদিনেই। সে-রং অন্য কোথা থেকে আসেনি; প্রতিফলিত হয়েছিল যাঁর ত্যাগবস্ত্র হতে, তিনি যুগনায়ক স্বামী বিবেকানন্দ। তাঁর পদতলে বসে সেদিন বহির্বিশ্ব মুগ্ধ-মনে শুনেছিল ভারত-গাথা। প্রথম তিনিই—যিনি বিদেশির অবজ্ঞাশাসিত ও কৃপানির্ভর ভারতকে পাশ্চাত্যের মনোমন্দিরে পূজার সশ্রদ্ধ আসনে বসালেন; আর ‘পরানুকরণ’ ও ‘পরমুখাপেক্ষা’র অন্ধ তমসা ঝেড়ে ফেলে আত্মশক্তিতে আত্মনির্ভর হতে পথ চেনালেন দেশবাসীকে। সেই শুভক্ষণের পূর্বমুহূর্ত অবধি ক্রমাগত বৈদেশিক লুণ্ঠন ও সুপরিকল্পিত অপশিক্ষা ভারতের পূর্বতন শ্রী ও গৌরবকে ম্লান করে দিয়ে হতাশায় জর্জরিত রেখেছিল দীর্ঘকাল। কোন্ সুমহতী পরম্পরার আমরা উত্তরাধিকারী তা ভুলে গিয়েছিলাম। বিশ্বসংস্কৃতির মঞ্চে আমরা যে যথেষ্ট কিছু দিতে পারি, তা মনে না রেখে ভিক্ষাপাত্র হাতে দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম নিতান্ত অবিবেচকের মতো। আর অপশিক্ষার ফলস্বরূপ হীনমন্যতা ও অকর্মণ্যতার ক্রন্দন তখন নিত্যসঙ্গী। সেই ভঙ্গুরতা ভেদ করে ওঠার আলোকে স্বামীজী শুনিয়েছিলেন কয়েকটি শ্লোক। গীতায় অর্জুনের বিষাদ অপনোদন করে যে-ঝংকারে শ্রীভগবান বলে উঠেছিলেন—‘ক্লৈব্যং মাস্ম গমঃ পার্থ’, তারই অনুরণন শুনি ঐ শ্লোকগুলিতে। ১৮৯৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মঠের সকলকে ল‌ক্ষ্য করে স্বামী রামকৃষ্ণানন্দজীকে লেখা এক পত্রের বিক্ষিপ্ত অংশ এটি। স্বামীজীর বিশ্ববিজয়ের এক বছর অতিক্রান্ত। অনন্ত প্রাণপ্রাচুর্যে তিনি পূর্ণ। যে-অনুপ্রেরণায় গুরুর আরব্ধ কার্যের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন, তাতেই উদ্বুদ্ধ হতে তিনি গুরুভাইদের আহ্বান জানিয়েছেন পত্রটিতে। ক্রমশ তা বাহিত হবে দেশবাসীর শিরায় শিরায়। সুললিত সংস্কৃতের সুনিপুণ প্রয়োগে স্বামীজীর লেখনী এখানে অনন্য। স্বামীজীর বিপুল আবেগ পূর্ণ বা আংশিক শ্লোকের আকারে ভিন্ন ভিন্ন ছন্দের ধারায় বয়ে চলেছে। প্রথম শ্লোকে বসন্ততিলক ছন্দ, দ্বিতীয় শ্লোকের প্রথমার্ধে শার্দুল-বিক্রীড়িত ছন্দ, দ্বিতীয়ার্ধে অনুষ্টুপ ছন্দের আভাস, তৃতীয় শ্লোকে চন্দ্রক্রান্তা জাতি ছন্দ, তৃতীয় শ্লোকে মন্দাক্রান্তা ছন্দ এবং পঞ্চম শ্লোকে সূর্যক্রান্তা জাতি ছন্দ ইত্যাদি অনুপম বিভঙ্গ তিনি নিখুঁত ফুটিয়ে তুলেছেন। জাতি ছন্দের ব্যবহার সাহিত্যে বিরল-প্রায়। জয়দেবের গীতগোবিন্দ-এ কাব্যশৈলীর ভূয়সী...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in