শ্রীরামকৃষ্ণ একদিন স্বামী যোগানন্দজীকে জিজ্ঞাসা করেন : “হ্যাঁরে, আমাকে কি

শ্রীরামকৃষ্ণ একদিন স্বামী যোগানন্দজীকে জিজ্ঞাসা করেন : “হ্যাঁরে, আমাকে কি বোধ হয়?” উত্তরে স্বামী যোগানন্দজী বলেছিলেন : “না গৃহস্থ, না সন্ন্যাসী।” উত্তর শুনে শ্রীরামকৃষ্ণ আনন্দিত হয়ে বলেছিলেন : “তুই এত বড় কথাটা বললি!”১ বস্তুতপক্ষে স্বামী যোগানন্দজী অনুভব করেছিলেন, শ্রীরামকৃষ্ণ স্বয়ং ঈশ্বর। তিনি গৃহী ও সন্ন্যাসীর পরপারে। যদিও শ্রীরামকৃষ্ণ উভয় অবস্থা তথা আশ্রমের মর্যাদা রক্ষা করেছেন এবং তিনি তাঁর জীবনের নিরিখে মানুষকে দেখিয়েছেন যে, তিনি উভয়েরই আদর্শ। শ্রীরামকৃষ্ণ স্বামী বিবেকানন্দ, স্বামী ব্রহ্মানন্দজী, স্বামী সারদানন্দজী প্রমুখের মাধ্যমে যেমন আদর্শ সন্ন্যাসাশ্রমের প্রতিষ্ঠা করেছেন—তেমনি বলরাম বসু, মাস্টারমশাই, নাগমহাশয় প্রমুখের মাধ্যমে আদর্শ গৃহীর জীবনযাপনের পথ দেখিয়েছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ কেবল গৃহস্থদের জন্য অথবা শুধুমাত্র সন্ন্যাসীদের জন্য পৃথিবীতে আসেননি। পরন্তু একথা বলা চলে, যাঁরা মনে-প্রাণে ভগবানকে চায় তিনি তাদের জন্যই অবতীর্ণ হয়েছিলেন। গৃহকে আশ্রমে পরিণত করা যে সম্ভব তার প্রমাণ বলরাম বসুর বাগবাজারের বাড়ি। আজ সেই বাড়ি সমগ্র পৃথিবীতে ‘বলরাম মন্দির’ নামে স্বীকৃত। অনুরূপভাবে মাস্টারমশাই তথা শ্রীম তাঁর ভাগবত জীবনের আঙ্গিকে অনাগতকালের শ্রীরামকৃষ্ণ-অনুরাগিবৃন্দের কাছে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। মাস্টারমশায়ের আবাসস্থল আজ ‘কথামৃত ভবন’ নামে পরিচিতিলাভ করেছে। শ্রীম অন্যান্য অবতারের সঙ্গেও তাঁদের লিপিকাররূপে যে এসেছিলেন, শ্রীরামকৃষ্ণ তা জানতেন এবং এবিষয়ে ইঙ্গিতও করেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন : “তোমায় চিনেছি—তোমার চৈতন্য-ভাগবত পড়া শুনে। তুমি আপনার জন—এক সত্তা—যেমন পিতা আর পুত্র।”২ শ্রীম একবার সংসারত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করলে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে বলেছিলেন : “ভাগবত পণ্ডিতকে একটি পাশ দিয়ে ঈশ্বর রেখে দেন, তা না হলে ভাগবত কে শুনাবে।—রেখে দেন লোকশিক্ষার জন্য। মা সেইজন্য সংসারে রেখেছেন।”৩ শ্রীরামকৃষ্ণ অপ্রকট হওয়ার পর প্রায় দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর শ্রীম প্রত্যক্ষভাবে মানুষকে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত বিতরণ করেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ-সুধা পানের আশায় কত মানুষ তাঁর কাছে ছুটে গেছেন। নিরলসভাবে শ্রীম সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তৃষিত মানুষকে এমনভাবে শ্রীরামকৃষ্ণ-কথা শুনিয়েছেন যা তাঁদের সংসারজ্বালা জুড়িয়ে, মায়া, মোহ ও ক্লান্তি দূর করে প্রাণে শক্তি, আশা ও আনন্দ সঞ্চার করেছে। ঈশ্বরের জন্য ব্যাকুল মানুষ জগতে বেশি নেই। ব্যাকুলতা ঈশ্বরদর্শনের পূর্বলক্ষণ। শ্রীমর জ্বলন্ত জীবন পৃথিবীর...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in