জীবনের পথে চলতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিসাবে যেটা বুঝতে পারি—অহংকারই
উদ্বোধন-এর গত অগ্রহায়ণ ১৪৩২ সংখ্যায় স্বামী শুক্লেশানন্দ রচিত ‘মনেতেই বদ্ধ, মনেতেই মুক্ত’ পাঠ করে সমৃদ্ধ হলাম। পড়তে পড়তে স্বভাবতই মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগল—প্রাত্যহিক জীবনের দোলাচলে আমরা সত্যিই কি মুক্ত হতে পেরেছি? সবকিছু বুঝেও আমরা যে আমাদের বন্ধনদশা থেকে মুক্তি পাচ্ছি না, তার পথই মহারাজ তাঁর লেখায় সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁকে প্রণাম। জীবনের পথে চলতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিসাবে যেটা বুঝতে পারি—অহংকারই হলো এক অতি সর্বনাশী সোপান, যা মনকে শুধু কলুষিতই করে না, পতনের চোরাস্রোতে নিয়ে যায়। নির্ভেজাল সুন্দর জীবনের আগ্রহ ও চিন্তাশক্তি কেড়ে নিয়ে এক আত্মপ্রবঞ্চনার সৃষ্টি করে। প্রসঙ্গত, মহাভারত-এর জ্যেষ্ঠ কৌরবতনয় দুর্যোধনের কথা এপ্রসঙ্গে স্মরণ করতে পারি। এত কিছু জেনেও আমরা এর বাইরে বেরতে পারি না কেবলমাত্র কয়েকটি আচরণবিধি অনভ্যাসের কারণে। মুক্তির সহজ উপায় মহারাজের লিখিত নির্দেশাবলি—যা অত্যন্ত যুগোপযোগী। মুক্ত মনের বাসনা সবারই। আমার তো মনে হয়, সবার আগে দরকার সাধনা। অন্তঃকরণ শুদ্ধ না হলে মনের বদ্ধ চিন্তার জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা যাবে না। নিরন্তর সদসৎ বিচারের দ্বারা মোহ-আসক্তির নাগপাশ ছিন্ন করলে আমরা মুক্ত মনের স্বাদ গ্রহণ করতে পারব। যুগযুগান্ত ধরে ঋষি-মুনি, অবতারপুরুষ বা ঈশ্বরকোটি মহাপুরুষগণ এই পথেই চলার কথা বলেছেন। সত্যম্, শিবম্ এবং সুন্দরম্-এর ব্যঞ্জনার মধ্য দিয়ে মুক্ত মনের অনুরণন জীবনকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে—এই বিশ্বাসের অন্যথা কোথায়! স্বামী শুক্লেশানন্দকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও প্রণাম জানাই আমাদের এইভাবে সচেতন করে তোলার জন্য। চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়আলমবাজার, কলকাতা
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
