ভারতবর্ষের ইতিহাসে যেসকল ব্যক্তিত্ব তাঁদের জীবন, কীর্তি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের জন্য

ভারতবর্ষের ইতিহাসে যেসকল ব্যক্তিত্ব তাঁদের জীবন, কীর্তি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন, আচার্য শঙ্কর তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। ‘ঐক্য’ শব্দটির অর্থ একতা, মিল, একত্ব ইত্যাদি। ‘সাধক’ বলতে বোঝায় সম্পাদনকর্তা, নিষ্পাদনকর্তা ইত্যাদি। শঙ্করাচার্যের জীবন যেমন ঘটনাবহুল তেমন তাঁর অবদানও বহুবিধ। তিনি বহুধাবিভক্ত দেশবাসীর মধ্যে এনেছিলেন এক মহান মিলন। শঙ্করাচার্যের জীবন আলোচনা করতে গেলে একটি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়—তাঁর প্রামাণ্য জীবনীর অভাব। শঙ্কর-বিজয় ও আরো কয়েকটি প্রাচীন গ্রন্থ পাওয়া যায়, যার মধ্যে মাধবাচার্য-রচিত সটীক সং‌ক্ষেপ-শঙ্কর-জয়, চিদ্বিলাস যতির শঙ্কর-বিজয়-বিলাস, অনন্তানন্দ গিরির শঙ্কর-দিগ্বিজয় ইত্যাদি প্রসিদ্ধ। রাজেন্দ্রনাথ ঘোষ তাঁর আচার্য শঙ্কর ও রামানুজ গ্রন্থের ‘নিবেদন’ অংশে ও স্বামী তপস্যানন্দ তাঁর শঙ্কর-দিগ-বিজয় গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের ভূমিকায় এবিষয়ে আলোকপাত করেছেন। আচার্য শঙ্করের জন্মসাল, আয়ুষ্কাল ও তিরোধানসাল নিয়েও বিস্তর মতভেদ আছে।১ আচার্য শঙ্করের আবির্ভাবকালে ভারতবর্ষ এক গভীর আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সেসময় ভারত পরস্পর বিবাদ ও যুদ্ধে রত হয়ে বহু রাজ্যে বিভক্ত। শক্তিশালী শাসকের অভাবে ভারতবাসীর মধ্যে শান্তি, সংহতি ও একতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা তখন অতি কঠিন। শঙ্করাচার্যের আবির্ভাবের পূর্বে এদেশে বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের প্রবল উত্থান ঘটেছিল। ভগবান বুদ্ধ বেদ ও উপনিষদের উচ্চ নৈতিক ও আধ্যাত্মিক তত্ত্বকে বেদের বিধিনিষেধের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। কালপ্রভাবে ক্রমশ বৌদ্ধধর্মে অব‌ক্ষয় দেখা দিল। সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ধর্মাচরণের ‌ক্ষেত্রে একপ্রকার শূন্যতা, দিশাহীনতা পরিল‌ক্ষিত হলো। বৈদিক ধর্মের প্রভাব ‌ক্ষীয়মাণ হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মত, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীর উদ্ভব হলো। যেমন—ভাগবত, বামাচারী, পাঞ্চরাত্র, পাশুপত, কাপালিক ইত্যাদি। সুপ্রাচীন কাল থেকেই ভারতের ধর্মীয়, নৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বেদভিত্তিক। রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণাদি গ্রন্থে বিধৃত পূজা, ব্রত, উপবাস, তীর্থভ্রমণ, স্নান, আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব আসমুদ্রহিমাচল ভারতবাসীকে যে ঐক্যসূ্ত্রে বেঁধে রেখেছিল তা ছিন্নপ্রায় হয়ে পড়ে। সমাজে ভেদবুদ্ধি অত্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় একই ধর্মাবলম্বী উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্ত, উচ্চশি‌ক্ষিত ও অল্পশি‌ক্ষিত মানুষের মধ্যে বৈষম্য প্রবল হয়। অস্পৃশ্যতা ও অন্যান্য সামাজিক ব্যাধি ভারতের সমাজব্যবস্থাকে দীর্ণ...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in