ভারতীয় অধ্যাত্মসাধনার ইতিহাসে শঙ্করাচার্যের নাম চিরস্মরণীয়। তিনি
ভারতীয় অধ্যাত্মসাধনার ইতিহাসে শঙ্করাচার্যের নাম চিরস্মরণীয়। তিনি বেদান্তদর্শনের সূক্ষ্ম তত্ত্বকে অসাধারণ পাণ্ডিত্য ও যুক্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করিয়া মানবজীবনের পরম লক্ষ্য আত্মজ্ঞান সম্বন্ধে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করিয়াছেন। জাগতিক অনিত্যতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া বলিয়াছেন : ‘আয়ুর্নশ্যতি পশ্যতাং প্রতিদিনং যাতি ক্ষয়ং যৌবনং/ প্রত্যায়ান্তি গতাঃ পুনর্ন দিবসাঃ কালো জগদ্ভক্ষকঃ।’ অর্থাৎ মানুষের দৃষ্টির সম্মুখেই প্রতিদিন আয়ুক্ষয় হইতেছে, যৌবন ক্রমে বিলীন হইতেছে, আর যে-দিনগুলি অতীত হইয়া গিয়াছে তাহারা আর কখনো ফিরিয়া আসে না। সময় সমস্ত কিছুকেই গ্রাস করিয়া চলিয়াছে। অতএব এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের মধ্যেই মানুষের উচিত চিরন্তন সত্যের সন্ধান করা, আত্মচিন্তন করা। তিনি ‘নির্বাণষট্কম্’-এ বারংবার আমাদের স্বরূপচিন্তনের কথাই বলিয়াছেন। স্তোত্রের প্রথম স্তবকে রহিয়াছে—“আমি মন, বুদ্ধি, অহংকার ও চিত্ত নহি; আমি কর্ণ, জিহ্বা, নাসিকা ও চক্ষু নহি; আমি পঞ্চভূত নহি; আমি চিদানন্দরূপ শিব।” বারংবার তিনি স্মরণ করাইয়া দিয়াছেন যে, মানুষের প্রকৃত স্বরূপ দেহ বা মন নহে; সে চৈতন্যস্বরূপ আত্মা। দেহ ও মনের সহিত আত্মার একাত্মতাবোধই মানুষের বন্ধন ও দুঃখের কারণ। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, বহু শতাব্দী পরে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রেক্ষাপটে আবির্ভূত হইয়াও স্বামী অদ্ভুতানন্দজীর উপলব্ধিতে সেই একই সত্য প্রতিধ্বনিত হয়। শঙ্করাচার্য ছিলেন অদ্বৈতবেদান্তের অতুলনীয় পণ্ডিত; অপরদিকে স্বামী অদ্ভুতানন্দজী ছিলেন সম্পূর্ণ নিরক্ষর। তথাপি তাঁহাদের উপলব্ধির মধ্যে এক গভীর সাদৃশ্য লক্ষিত হয়। তাহা আমাদের দেখাইয়া দেয় যে, আত্মজ্ঞান পাণ্ডিত্য বা বুদ্ধিবৃত্তির ফল নহে; ইহা অন্তরের প্রত্যক্ষ উপলব্ধির বিষয়। শ্রীরামকৃষ্ণের শিক্ষা এবং সাহচর্যে সরল গ্রাম্য বালক লাটু কঠোর সাধনায় মগ্ন হইয়া ব্রহ্মজ্ঞ মহাপুরুষে পরিণত হন। তিনি সরল ভক্তি ও অন্তরের পবিত্রতার দ্বারাই সত্যকে প্রত্যক্ষ উপলব্ধি করিয়াছিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ একদা ভাবাবিষ্ট অবস্থায় তাঁহাকে বলিয়াছিলেন : “একদিন বেদ ও বেদান্তের রত্নসম জ্ঞান তোর মুখ হইতে প্রবাহিত হইবে।” পরবর্তিকালে এই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্য হইয়াছিল। শ্রীরামকৃষ্ণদেব বলিতেন : “দেখ, শুধু পড়াশুনাতে কিছু হয় না। বাজনার বোল লোকে মুখস্থ বেশ বলতে পারে, হাতে আনা বড় শক্ত!” “পড়লে কি হবে? সাধনা—তপস্যা চাই। তাঁকে ডাকো।”...
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
