সৃষ্টিশীল মানুষের বৈশিষ্ট্যই হলো বাঁধাধরা রীতি-রেওয়াজের বাইরে গিয়ে

সৃষ্টিশীল মানুষের বৈশিষ্ট্যই হলো বাঁধাধরা রীতি-রেওয়াজের বাইরে গিয়ে সৃজনশীলতার কিছু স্বা‌ক্ষর রেখে যাওয়া। সংগীত পরিচালক ও সুরকার নীরদবরণ তেমনই এক শিল্পী, যিনি সৃষ্টিসুখের উল্লাসে জীবন কাটাতে অভ্যস্ত ছিলেন। গলায় অসুখ ধরা পড়াতে গান ছেড়ে হাতে সানাই তুলে নিয়েছিলেন। ১৯৪৮ সাল নাগাদ নিজের হাতে একটি জাইলোফোন তৈরি করে সেটিকে জীবনের সাথি করে শিল্পযাত্রার পথে তরি ভাসিয়েছিলেন। জাইলোফোন পারকাশন পরিবারেরই অন্তর্ভুক্ত অন্যতম বাদ্যযন্ত্র। নীরদবরণ তাঁর নিজস্ব বাদ্যযন্ত্রের নাম দিয়েছিলেন ‘কাষ্ঠতরঙ্গ’। জাইলোফোন পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার কোনো কোনো দেশে বহুকাল থেকে প্রচলিত প্রাচীন সংগীতযন্ত্র বিশেষ। কাঠের ছোটবড় টুকরো ক্রমানুসারে কাঠেরই বাক্সে নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে তার ওপর দুটি কাঠির আঘাতে স্বরগ্রামের নানা ধ্বনি সৃষ্টি করা হয়। আনুমানিক ১৮৮৬ সালে দ‌ক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর সন্ধান মেলে। ধাতুখণ্ড দিয়েও জাইলোফোন তৈরি হয়েছে, যাকে জার্মান ভাষায় ‘গ্লোকেনস্পিয়েল’ (অর্থ—‘ঘণ্টা বাজানো’) বলা হয়। এই কাষ্ঠতরঙ্গই নীরদবরণকে সংগীতজগতে বিশেষ জায়গা করে দিয়েছিল। বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক তথা সরোদবাদক তিমিরবরণের সহকারী হিসাবে তিনি বহুদিন একসঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি ‘বাঁশতরঙ্গ’ও বানিয়েছেন নিজের হাতে। একবার অনুপম ঘটকের বাড়িতে কয়েকজন বিদেশি শিল্পী এবং মান্যগণ্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে তিনি বাজিয়েছিলেন ‘হাঁড়িতরঙ্গ’। আগের দিন তাঁকে ডেকে বলা হয়েছিল, অতিথিরা নতুন ধরনের দেশি বাজনা শুনতে চেয়েছেন। পরের দিন তিনি গোরুর গাড়ি বোঝাই করে বাজনা নিয়ে হাজির। সবই মাটির হাঁড়ি। অতিথি-অভ্যাগতদের সামনে সেদিন হাঁড়িতরঙ্গ বাজিয়ে নীরদবরণ আসর মাত করে দিয়েছিলেন। এমন সৃজনশীল মানুষ ছিলেন নীরদবরণ। ঐ হাঁড়িতরঙ্গের হাঁড়িগুলি বহুকাল পর্যন্ত কলকাতার ইন্দ্রপুরী স্টুডিওতে রাখা ছিল। দেশে-বিদেশে বহু গুণী শিল্পীর সঙ্গে তিনি সহকারী হিসাবে বাজিয়েছেন কিংবা সংগীত পরিচালনায় সাহায্য করেছেন। এঁদের মধ্যে তিমিরবরণ ছাড়াও আছেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর, ওস্তাদ আলি আকবর খাঁ, সুরকার রবীন চ্যাটার্জি, অনুপম ঘটক প্রমুখ। প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী নির্মলেন্দু চৌধুরী, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, পান্নালাল ভট্টাচার্য, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীরাও নীরদবরণের সুরে গেয়েছেন। তিমিরবরণের সাথে উদয়শঙ্কর ব্যালে ট্রুপে নীরদবরণ বৃন্দবাদন পরিচালনা করেছিলেন। ১৯৫৮ সালে দিল্লিতে পণ্ডিত রবিশঙ্করের পরিচালনায় ‘মেলোডি অ্যান্ড রিদম’-এ অংশ...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in