পূজ্যপাদ বিরজানন্দজী মহারাজ তখন অসুস্থ হয়ে বেলুড় মঠে আছেন। সেই সময়

দুটি উজ্জ্বল ছবি পূজ্যপাদ বিরজানন্দজী মহারাজ তখন অসুস্থ হয়ে বেলুড় মঠে আছেন। সেই সময় কিছুদিন ধরে শ্রীমদ্‌ভাগবত পাঠ করে তাঁকে শোনাতেন দিনাজপুর-রাজের সভাপণ্ডিত শ্রদ্ধেয় রামনারায়ণ তর্কতীর্থ। তিনি ছিলেন পরম বৈষ্ণব। শাস্ত্রগ্রন্থাদিতে তাঁর সুগভীর পাণ্ডিত্য ছিল।… তাঁর পাঠ শুনে মহারাজজীও খুব সন্তুষ্ট হতেন। ঐ সময় বিহারপ্রবাসী জনৈক ব্যক্তি পূজ্যপাদ মহারাজকে দর্শন করার উদ্দেশ্যে মঠে যান। পণ্ডিত মশায়ের সঙ্গে ঐ ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল। তাঁকে পুত্রবৎ স্নেহ করতেন। পণ্ডিত মশায়ের ঘরে গিয়ে তাঁকে প্রণাম করে দাঁড়াতেই পণ্ডিত মশায় তাঁকে সস্নেহে কুশল প্রশ্নাদি করেই আনন্দে আবেগে গদ গদ কণ্ঠে বললেন : “জানিস্‌ আজ মহারাজজীর ঘরে একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে গেল। আমি সকালে মহারাজকে দর্শন করতে গেছি। ঘরে তখন বাহিরের কেউ ছিল না। আমি মহারাজকে প্রশ্ন করলাম—‘…শাস্ত্রে সাধুদের ত্যাগ তপস্যার কথা বলা আছে, তা ত্যাগের মানেই বা কি, আর তপস্যাই বা কাকে বলে?’ মহারাজজী সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন—‘ত্যাগ মানে—অভিমান ত্যাগ, বিষয়াসক্তি ত্যাগ। আর তপস্যা? ভগবানের প্রতি যদি ভালবাসাই না থাকে তবে কিসের তপস্যা, কেনই বা তপস্যা? তাঁকেই জীবনের সর্বস্ব জানা—একমাত্র তাঁকেই ভালবাসা, এই-ই হচ্ছে তপস্যা। সংসারে আসক্তি ত্যাগ এবং ভগবানকে ভালবাসার নামই ত্যাগ-তপস্যা।’ আমি আবার প্রশ্ন করলাম—‘যাঁকে দেখা যায় না, তাঁকে ভালবাসব কি করে?’ শুনেই মহারাজজীর চোখ দুটিতে যেন বিদ্যুৎ ঝলকে উঠল। বলে উঠলেন—‘কে বললে তাঁকে দেখতে পাওয়া যায় না? এই যে—এই-ই তো—এখানে।’ উত্তেজিত হয়ে এই কথা ক’টি বলতে বলতেই কেমন একটা ভাবান্তর হল তাঁর। একেবারে চুপ—ভাবস্থ। চোখের পাতাও পড়ছিল না—নিশ্চল স্থির। আঃ সে কি উজ্জ্বল প্রশান্ত মূর্তি! কিছু‌ক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে তাঁর ঐ অপূর্ব তদ্‌গত ভাব দেখলাম দাঁড়িয়ে। পরে নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম।” ঘটনাটির বর্ণনা দিতে দিতে পণ্ডিত মশায় যেন আহ্লাদে ও উদ্দীপনায় মেতে উঠছিলেন। খানিক থেমে, আবার বললেন : “তা বলে বাপু, মহারাজজী রসিকও কিছু কম নন। কয়েকদিন আগে এক মজার কাণ্ড হল। শুনবি? কলকাতার এক তরুণ অথচ নাম-করা ডাক্তার রোজ সকালে আসেন...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in