‘ট্রান্সভাল হিন্দু সেবা সমিতি’র আমন্ত্রণে ও রামকৃষ্ণ সংঘের নির্দেশে ১৯৩৪ সালের জানুয়ারি
[পূর্বানুবৃত্তি : চৈত্র ১৪৩২ সংখ্যার পর]।।২।। ‘ট্রান্সভাল হিন্দু সেবা সমিতি’র আমন্ত্রণে ও রামকৃষ্ণ সংঘের নির্দেশে ১৯৩৪ সালের জানুয়ারি মাসে শ্রীশ্রীমায়ের মন্ত্রশিষ্য স্বামী আদ্যানন্দ (১৮৯৬—১৯৫৭) শ্রীরামকৃষ্ণের ভাব প্রচার করতে দক্ষিণ আফ্রিকায় আসেন। প্রায় বছর খানেক ধরে ডারবান, পিটারম্যারিটস্বার্গ, জোহানেসবার্গ-সহ কয়েকটি ছোট-বড় শহরে তাঁর প্রচারকার্য এক জাগরণ এনে দেয়। তাঁরই উদ্যোগে স্বামীজীর ইংরেজি জীবনী ও বাণী সংক্রান্ত গ্রন্থগুলি এবং প্রবুদ্ধ ভারত পত্রিকাটি দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রচারিত হয়। ফলত শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মশতবার্ষিকীর সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় রামকৃষ্ণ-ভাবান্দোলনে গতি আসে। এই কালে কয়েকজন তরুণ শ্রীরামকৃষ্ণের ভাবপ্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। এঁদেরই একজন ছিলেন ধনগোপাল নাইডু—পরবর্তিকালে স্বামী নিশ্চলানন্দ। তিনি ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু মিলে ডারবানে একটি পাঠচক্র গড়ে তোলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, শ্রীরামকৃষ্ণের ভাবপ্রচারের কেন্দ্র গঠন করতে হলে বেলুড় মঠের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা দরকার। তাই তিনি বেলুড় মঠের তৎকালীন অধ্যক্ষ স্বামী বিরজানন্দকে চিঠি লিখলেন। ১৯৪৫ সালের ২০ জুন স্বামী বিরজানন্দ চিঠির উৎসাহব্যঞ্জক উত্তর দিলেন। ফলস্বরূপ ২৭ মার্চ ১৯৪৬ সাতজন তরুণ যুবক ধনগোপালের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘রামকৃষ্ণ সেন্টার অব সাউথ আফ্রিকা’। কেন্দ্রটি এক স্থানীয় বিষ্ণুমন্দিরে পরিচালিত হতে থাকল। ১৯৪৭ সালে শ্রীমা সারদাদেবীর জন্মোৎসবও যথোচিত মর্যাদায় পালন করা হয়েছিল। ধনগোপালের মনে রামকৃষ্ণ সংঘে যোগদানের ইচ্ছা ক্রমশ প্রবল হয়। স্বামী বিরজানন্দের নির্দেশে তিনি মরিসাসে মহাপুরুষ মহারাজের শিষ্য স্বামী ঘনানন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে থাকেন। ১৯৪৭ সালে স্বামী ঘনানন্দ আট মাসের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকাতে শ্রীরামকৃষ্ণের ভাবপ্রচারে আসেন এবং স্বামী বিরজানন্দ ও রামকৃষ্ণ সংঘের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ধনগোপালের ভারতে গিয়ে সংঘে যোগদান ও দীক্ষার ব্যবস্থা করে দেন। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ধনগোপাল ভারতে এসে স্বামী বিরজানন্দের কাছে মন্ত্রদীক্ষা লাভ করেন। স্বামী বিরজানন্দ তাঁকে নতুন নাম দেন—‘ব্রহ্মচারী জয়রাম’। কিন্তু সংঘে যোগদানের ব্যাপারে সমস্যা উপস্থিত হয়। ধনগোপালের ভারতে আসার অর্থসংগ্রহ যারা করেছিল, তাদের শর্ত ছিল—তাঁকে দেশে ফিরে এসে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ ভাবপ্রচার করতে হবে। কিন্তু শর্তসাপেক্ষে যোগদান রামকৃষ্ণ সংঘের পরিপন্থী। বেলুড় মঠের সাধুরা তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও এই ব্যাপারে...
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
