পিটারম্যারিটস্‌বার্গে ভারতীয়রা সংখ্যাগরিষ্ঠ, অনেকেই বেশ দরিদ্র। আশ্রমে এমন এক মহিলার

[পূর্বানুবৃত্তি : জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ সংখ্যার পর]।।৩।। পিটারম্যারিটস্‌বার্গে ভারতীয়রা সংখ্যাগরিষ্ঠ, অনেকেই বেশ দরিদ্র। আশ্রমে এমন এক মহিলার সঙ্গে দেখা হলো যিনি স্বামি-পরিত্যক্তা ও দুই সন্তানের জননী; কিন্তু কোনো আয়ের পথ নেই। আশ্রম তাঁকে মাসে মাসে রেশন দিয়ে সাহায্য করে থাকে। এরকম বহু ভারতীয় ও কৃষ্ণাঙ্গ পরিবার এখানে আছে বলে শুনলাম। এই আশ্রমটি গড়ে ওঠার নেপথ্যে যেন এক দৈবী হস্তক্ষেপ ছিল। অনেক ভারতীয় যেমন এর সংস্পর্শে এসে তাদের সাংস্কৃতিক শিকড়টিকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল, তেমনি অনেক উদারবাদী শ্বেতাঙ্গ এই আশ্রমের মাধ্যমে বেদান্ত-ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। একটি সুন্দর ঘটনার কথাও শোনা গেল। আগে আশ্রমে ঠাকুরের একটি কাটআউটে পুজো করা হতো। একবার আশ্রমে মেরামতি বা অন্য কোনো কাজের জন্য কিছু লোক এসেছিল। তখনি হয়তো সেই কাটআউটটি পড়ে গিয়ে নষ্ট হয়। যারা সেটি ফেলেছিল তারা আবার সেটিকে উঠিয়ে যথাস্থানে রেখে দেয়। কেউ এতে কোনো খুঁত দেখতে পায়নি, এমনকী ভক্তরাও কেউ লক্ষ্য করেননি কিছু। ঐদিন রাত্রে এক ক্যাথলিক খ্রিস্টান ভক্ত মহিলা, স্বপ্নে দেখেন ঠাকুর তাঁকে বলছেন—তাঁর ঘাড়ে খুব ব্যথা হয়েছে এবং সম্ভবত ব্যথার স্থানটিও দেখান। সেই ভক্ত মহিলা পরের দিন সকালে দু-একটি ভক্তের কাছে একথা প্রকাশ করলে তাঁরা কাটআউটটির কাছে গিয়ে দেখেন—গলার পিছনের অংশে সামান্য চিড় খেয়েছে। তাঁরা তখন আভোকা কেন্দ্রের সঙ্গে পরামর্শ করে কিছুদিনের মধ্যেই ঠাকুরের প্রতিকৃতিটি পালটে দেন এবং সেখানে ঠাকুরের একটি ছবি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে সেই কাটআউটটি ভিতরের একটি ঘরে সশ্রদ্ধায় সংর‌ক্ষিত আছে। ভক্তদের ধারণা, এই ভক্তটির মাধ্যমে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁদের কাছে তাঁর জীবন্ত উপস্থিতির প্রমাণ দিয়েছিলেন এবং তাঁরা বিস্ময় প্রকাশ করেন যে, খ্রিস্টান ক্যাথলিক ও শ্বেতাঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও ভারতীয়দের বদলে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর কাছেই নিজের দুঃখের কথা প্রকাশ করেছিলেন! এই ঘরটিতে দেখলাম অনেক পুরানো নথি ও বই রয়েছে। ১৯২৮ সালে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণের বই আছে। ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত স্বামীজীর Complete Works রাখা আছে। দু-একটা বইতে স্বামী আদ্যানন্দ এবং স্বামী ঘনানন্দের স্বাক্ষর দেখা গেল। অদ্ভুতভাবে এই...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in