প্রাচীন হিন্দু সংস্কৃতির মূলে ছিল ধ্যানলব্ধ উপলব্ধি এবং চর্চা, সেইসঙ্গে শিক্ষা
প্রাচীন হিন্দু সংস্কৃতির মূলে ছিল ধ্যানলব্ধ উপলব্ধি এবং চর্চা, সেইসঙ্গে শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের অপরিমেয় স্পৃহা। তারই ফলশ্রুতি বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত, শিল্প, সংগীত ইত্যাদি। বেদকে ‘শ্রুতি’ বলা হয়; কারণ, তা শুনে শুনে কণ্ঠস্থ করতেন সাধুসন্ত থেকে আরম্ভ করে বিদ্যার্থিগণ। প্রাচীন ভারতের এই বিপুল জ্ঞানভাণ্ডারকে অজ্ঞ, হিংস্র, নির্বোধ মানুষ প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে লুণ্ঠন করেছে, ভস্মীভূত করেছে; বাদ যায়নি নালন্দার বিশাল গ্রন্থাগারও। এক ভাস্করাচার্য দ্বাদশ শতাব্দীর এক প্রাজ্ঞপুরুষ, বিশেষ করে গণিতশাস্ত্রে তাঁর বিশেষ প্রতিভা। জন্ম ১১১৪ খ্রিস্টাব্দে, বিজাপুরে। শাণ্ডিল্যগোত্রীয় কন্নড় ব্রাহ্মণ। শিক্ষালাভ উজ্জয়িনীতে। দ্বাদশ শতকের প্রথম দিকে উজ্জয়িনী ছিল পরা-অপরা বিদ্যার এক গুরুত্বপূর্ণ চর্চাকেন্দ্র, বিশেষ করে গণিতচর্চার প্রধান ক্ষেত্র। খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দী থেকেই উজ্জয়িনী ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। বরাহমিহির (৫০৫—৫৮৭ খ্রিস্টাব্দ) ও ব্রহ্মগুপ্ত (৫৯৮—৬৬০ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন তৎকালীন গণিতচর্চার আচার্যস্বরূপ। ভাস্করাচার্যকে তৎকালীন পণ্ডিতসমাজ উজ্জয়িনী ও তৎসংলগ্ন শিক্ষায়তনের অধ্যক্ষের পদে প্রতিষ্ঠিত করেন। এক লব্ধপ্রতিষ্ঠ আচার্য হিসাবে এখানেই প্রতিষ্ঠিত হয় তাঁর কৃতিত্বের স্বাক্ষর—যেখানে তাঁর গণিতচিন্তার অবদান ও গণিত শিক্ষাদানের পীঠস্থান। হাঁটু পর্যন্ত কাপড়, গায়ে জীর্ণ উত্তরীয়। একটা রেড়ির তেলের প্রদীপ জ্বেলে ভাস্করাচার্য লিখেছেন তাঁর দীর্ঘ অধ্যাত্মসাধনার ফল, যা ভাবী প্রজন্মকে জ্ঞানলাভে সহায়তা করবে। তাঁর মহান কীর্তি সিদ্ধান্ত শিরোমণি। এর অন্তর্গত লীলাবতী তাঁর এক অপূর্ব সৃষ্টি। বীজগণিত, গোলাধ্যায়, গণিতাধ্যায় রচনার সময় তাঁর বয়স ছিল ৩৬ বছর। লীলাবতী ও বীজগণিত গ্রন্থে পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতির প্রধান সিদ্ধান্তগুলি গ্রথিত হয়েছে। এগুলিতে তিনি বৈজ্ঞানিক পরিভাষার ব্যাপক ব্যবহার করেছেন। প্রাচীন ভাষা অর্থাৎ দেবভাষা সংস্কৃত নিয়ে এই সময়কার গণিতবিদগণ অনুসন্ধিৎসু ছিলেন, ফলত এমন সব শব্দ তাঁরা ব্যবহার করতেন যা গাণিতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে উপযুক্ত। যেমন, ‘অঙ্ক’ শব্দটির একটি অর্থ আংটা বা রথের চাকার অংশবিশেষ। গাণিতিকভাবে এর আরেকটি বিশেষ অর্থ—বক্রতল। লীলাবতী বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং প্রায় একশো টীকাকার এর ওপর টীকা লিখেছেন। একজন নারীর নামে এই নামকরণ বাস্তবিক বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। ভাস্করাচার্য তাঁর একমাত্র মেয়ে লীলাবতীর ভাগ্যগণনা করে তার অকালবৈধ্যবের লক্ষণ দেখতে পান।...
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
