স্বামী সর্বগতানন্দ কনখলে স্বামী কল্যাণানন্দের সঙ্গ করেছেন, তাঁর মুখে শুনেছেন অতীত দিনের মূল্যবান সব কথা।
[পূর্বানুবৃত্তি : জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ সংখ্যার পর]।।২।। স্বামী সর্বগতানন্দ কনখলে স্বামী কল্যাণানন্দের সঙ্গ করেছেন, তাঁর মুখে শুনেছেন অতীত দিনের মূল্যবান সব কথা। সেগুলি তিনি পরবর্তী সময়ে লিখিত আকারে প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, স্বামীজীর একই ধরনের উক্তি একটু ভিন্ন আকারে উদ্ধৃত হয়েছে। “স্বামীজী কল্যাণ মহারাজকে সন্ন্যাসদীক্ষা দেন ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে। দীক্ষার পর তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘কল্যাণ, গুরুকে দক্ষিণা দেওয়ার মতো তোর কী আছে?’ কল্যাণ মহারাজ এগিয়ে এসে বলেন, ‘এই আমাকেই আমি দক্ষিণারূপে আপনাকে নিবেদন করলাম। আমি আপনার ক্রীতদাস—আপনি যা বলবেন তাই আমি করব।’ স্বামীজী বলেন, ‘আমি ঠিক এই জিনিসই চাই। তুই হরিদ্বারে চলে যা। আমি তোকে কিছু টাকা দিচ্ছি। তাই দিয়ে একখণ্ড জমি কিনে নিবি। বনজঙ্গল সাফ করে সেখানে কয়েকটা চালা তুলে ফেলবি। অনেক তীর্থযাত্রী হরিদ্বারে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। কেউ এ ব্যাপারে কিছু করে না। আমি যখন হরিদ্বারে যাই, তখন ডাক্তার দেখাবার জন্য আমাকে ১০০ মাইল দূরে মীরাটে আসতে হয়েছিল। মীরাটে একটা হাসপাতাল আছে, কিন্তু কজনই বা আর সেখানে যেতে পারে। তাই হরিদ্বারে একটা কিছু গড়ে তোল। রাস্তার ধারে কেউ পীড়িত হয়ে পড়ে আছে দেখলে তাকে তুলে ঐ চালাঘরে নিয়ে এসে শুশ্রূষা করবি। বাংলাকে ভুলে যা! আর ফিরে আসিস না! যা, রওনা হয়ে পড়।’ স্বামীজীর ঐ আদেশ মাথায় নিয়ে মহারাজ হরিদ্বারে এলেন। স্বামী স্বরূপানন্দ তখন মায়াবতীতে ছিলেন। তিনি এই খবর পেলেন। স্বামী বিজ্ঞানানন্দজী মহারাজও এ খবর শুনলেন। স্বামী স্বরূপানন্দজী কিছু অর্থ সংগ্রহ করে কল্যাণানন্দ মহারাজকে পাঠিয়ে দিলেন। হরিদ্বারে এসে তাঁর সঙ্গে দেখাও করলেন।”১১ স্বামী সর্বগতানন্দের স্মৃতিকথায় হয়তো স্বামীজীর দুবারের বাণী একত্রিত হয়ে পরিবেশিত হয়েছে। কারণ, এর পরেও একবার স্বামীজীকে দেখার জন্য কল্যাণানন্দজী বেলুড় মঠে আসেন। বাংলাকে ভুলে যাওয়ার কথা স্বামীজীর তখনি বলার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, তারপরে আর কখনো কনখল ছেড়ে কল্যাণানন্দজী বিশেষ কোথাও যাননি, বাংলা তো নয়ই। যাই হোক, অনেক অনুসন্ধানের পরে ১৯০১ সালের জুন মাসে কনখল গ্রামে...
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
