আমাদের বিপুল শাস্ত্রভাণ্ডারের মধ্যে উপনিষদের পাশাপাশি বহু

আমাদের বিপুল শাস্ত্রভাণ্ডারের মধ্যে উপনিষদের পাশাপাশি বহু অণু-উপনিষদ রয়েছে। সংখ্যায় প্রায় আটানব্বইটি। এগুলির মধ্যে সন্ন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা পাওয়া যায় ঋগ্বেদীয় নির্বাণোপনিষদ; কৃষ্ণযজুর্বেদীয় অবধূতোপনিষদ, কঠরুদ্রোপনিষদ, ব্রহ্মোপনিষদ; শুক্লযজুর্বেদীয় জাবালোপনিষদ, তুরীয়াতীতোপনিষদ, পরম-হংসোপনিষদ, ভিক্ষুকোপনিষদ, যাজ্ঞব-ল্ক্যোপনিষদ, শাট্যায়ন্যোপনিষদ; সাম-বেদীয় আরুণ্যুপনিষদ, কুণ্ডিকোপনিষদ, মৈত্রেয়ো-পনিষদ, সন্ন্যাসোপনিষদ এবং অথর্ববেদীয় নারদপরিব্রাজকোপনিষদ, পরব্রহ্মোপনিষদ ও পরমহংসপরিব্রাজকোপনিষদ-এর মধ্যে। সামবেদীয় আরুণ্যুপনিষদ (আরুণেয়ী বা আরুণেয় বা আরুণিক উপনিষদ) গদ্যে বিধৃত এবং পাঁচটি দীর্ঘ মন্ত্রে পরিসমাপ্ত। এই উপনিষদে সন্ন্যাসের তাৎপর্য, সন্ন্যাসীর কর্তব্য, সন্ন্যাসীর সংকল্প ও পালনীয় নিয়মাবলি, ভিক্ষার নিয়মাবলি এবং সন্ন্যাসগ্রহণের ফল সংক্ষেপে কিন্তু স্পষ্টভাবে উদ্ঘোষিত হয়েছে। পুত্র বা শিষ্য আরুণির প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রজাপতি ব্রহ্মা এই প্রসঙ্গগুলি করেছেন। সুতরাং বোঝা যায় যে, প্রশ্নকর্তার নামেই এই উপনিষদের নামকরণ। শ্রীশ্রীমাকে একজন ভক্ত জিজ্ঞাসা করেছিলেন : “ঠাকুর বলেছেন, ‘এখানে যারা আসবে তাদের শেষ জন্ম।’ আবার স্বামীজী বলেছেন, ‘সন্ন্যাস না হলে কারো মুক্তি নেই।’ গৃহীদের তবে উপায়?” শ্রীশ্রীমা উত্তরে বলেছিলেন : “হ্যাঁ, ঠাকুর যা বলেছেন তাও ঠিক, আবার স্বামীজী যা বলেছেন তাও ঠিক। গৃহীদের বহিঃসন্ন্যাসের দরকার নেই। তাদের অন্তর-সন্ন্যাস আপনা হতে হবে। তবে বহিঃসন্ন্যাস আবার কারো কারো দরকার।”১ এই অন্তঃসন্ন্যাস এবং বহিঃসন্ন্যাস-সম্পন্ন সন্ন্যাসীদের কথাই আরুণ্যুপনিষদ-এ আলোচিত হয়েছে। শান্তিপাঠওঁ আপ্যায়ন্তু মমাঙ্গানি বাক্‌ প্রাণশ্চক্ষুঃ শ্রোত্রমথো বলমিন্দ্রিয়াণি চ সর্বাণি। সর্বং ব্রহ্মৌপনিষদম্‌। মাঽহং ব্রহ্ম নিরাকুর্যাং, মা মা ব্রহ্ম নিরাকরোদনিরাকরণমস্ত্বনিরাকরণং মেঽস্তু। তদাত্মনি নিরতে য উপনিষৎসু ধর্মাস্তে ময়ি সন্তু, তে ময়ি সন্তু॥ ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ॥ অন্বয়—ওঁ ([প্রণব, যা পরব্রহ্মের বাচক এবং অপরব্রহ্মের প্রতীকও বটে, অর্থাৎ] উপনিষদ্‌-বেদ্য পরমেশ্বর) মম ([মোক্ষাভিলাষী] আমার) অঙ্গানি (অঙ্গসমূহ) [যেমন] বাক্‌ (বাগিন্দ্রিয়), প্রাণঃ (প্রাণ বা ঘ্রাণেন্দ্রিয়), চক্ষুঃ (চক্ষুরিন্দ্রিয়), শ্রোত্রম্‌ (শ্রবণেন্দ্রিয়) অথো (এবং) বলম্‌ (বল [আত্মাভিমুখী ইচ্ছাশক্তি]) চ (ও) সর্বাণি ইন্দ্রিয়াণি (সমস্ত ইন্দ্রিয় [অর্থাৎ, অন্য সব ইন্দ্রিয়]) আপ্যায়ন্তু (পুষ্টিলাভ করুক [গভীরভাবে আমার সমগ্র সত্তা পরমাত্মার মননে তন্ময় হোক অর্থাৎ এই ইন্দ্রিয়সমূহ যেন পরমাত্মার ধ্যানে তন্ময় হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক না হয়])। সর্বম্‌ ([যাকিছু প্রতিভাত হচ্ছে সেই] সবকিছুই) ঔপনিষদম্‌ (উপনিষদ-প্রতিপাদ্য) ব্রহ্ম (ব্রহ্মস্বরূপই [অর্থাৎ, ব্রহ্ম ব্যতীত অতিরিক্ত...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in