অরুণ গ্রামের রাস্তা দিয়ে স্কুল থেকে ফিরছিল। শীতকালের বিকেল। তাড়াতাড়িই
l অরুণ গ্রামের রাস্তা দিয়ে স্কুল থেকে ফিরছিল। শীতকালের বিকেল। তাড়াতাড়িই সন্ধে হয়ে যায়। মুদির দোকানের বাঁকটা পেরতেই সে একটু চমকে উঠল। এই রাস্তায় লোকজন বিশেষ আসে না। আর বেশ লম্বা লম্বা বাঁশগাছও আছে। রাস্তার মাঝখানে কে যেন উবু হয়ে বসে আছে। তার দিকেই যেন তাকিয়ে! গা-টা কেমন ছমছম করে উঠল। কিন্তু স্কুলে স্বামীজীর ব্রহ্মদত্যির গল্প সে পড়েছে। তাই একটু সাহস নিয়ে সে এগিয়ে চলল। কীই বা হবে আর! ব্যায়াম-ট্যায়াম তো বেশ ভালই জানে সে! কিছুদূর এগতেই সে দেখল—এ যে একটা কাঠের গুঁড়ি! গতবছর ঝড়ে গ্রামের বড় বটগাছটা ভেঙে গিয়েছিল। গতকাল সেটাকে কেটে নিয়ে যেতে গিয়ে রাস্তায় একটা বড় টুকরো ফেলে রেখে গেছে। এবড়ো-খেবড়ো, কেমন যেন মনে হচ্ছে মুণ্ডুটা বেরিয়ে রয়েছে। যাক, হাঁপ ছেড়ে বাঁচল সে! সাইকেলটা পাশ দিয়ে কাটিয়ে নিয়ে একটু ফুরফুরে মেজাজেই বাড়ি ফিরল। একটা বড় ভুল ভেঙে গেল যে। l ঈশানী বাবার সঙ্গে বসেছিল পলাশপুরের বড় মাঠটায়। বড় দাদারা ঐদিকে ফুটবল খেলছে। তাই মাঠের পুবদিকটায় এসে বসেছে সে বাবার সঙ্গে। খোলা মাঠ, তার ওপর বিশাল আকাশ। শিশু-মনে প্রশ্ন অনেক। সেই বিবিধ প্রশ্নের ঝোলা থেকে দু-একটা তুলে নিয়ে বাবার দিকে নিশ্চিন্তে ছুঁড়তে থাকে সে।ঈশানী—বাবা! আকাশটা এমন গোল কী করে হলো? আর কী সুন্দর নীল! বাবা—আচ্ছা, সুনীতা উইলিয়ামস তো এতদিন মহাকাশে ছিলেন, উনিও কি আকাশটাকে গোল আর নীল দেখেছিলেন? ঈশানী—না, সেখানে তো সব কালো। তাহলে এখানে নীল কেন দেখায় বাবা? বাবা—বড় হও, তখন ‘আলোর বিচ্ছুরণ’ (Scattering of light) পড়বে, বুঝবে কেন আকাশ নীল, কেনই বা সেই আকাশই সূর্যাস্তের সময় লাল হয়ে ওঠে। সব বুঝবে। ঈশানী—তাহলে আকাশ কি নীল নয়? বাবা—আকাশ নীল, লাল, সাদা, কালো সবই হয়। তুমি দেখছ তো। আকাশের নিজের কিন্তু কোনো রং নেই, আকারও নেই। ভারী মজার ব্যাপার!১ অরুণ বা ঈশানীর এই ভুলেরই অপর নাম ‘অধ্যাস’। সোজা কথায়, যেটা যা নয়, তাকে সেটা মনে করাই হলো অধ্যাস। কেন এই...
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
