বেশ কয়েক বছর যাবৎ পূজ্যপাদ স্বামী ভূতেশানন্দজী মহারাজের সেবা করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। সেই সুবাদে তাঁর সঙ্গে দেশ-বিদেশের বহু আশ্রমে ও বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার সুযোগ হয় এবং ফলত বর্ণময় নানান স্মৃতিসঞ্চয়ন হয়। অপূর্ব সব ঘটনা! তেমনি কয়েকটি ঘটনার কথা বলব। দীক্ষার বিষয়ে বলা হয়, প্রত্যেকেরই গুরু নির্দিষ্ট থাকেন। সময় হলেই সব বাধা-বিপত্তি দূর হয়ে যায়। একবার মহারাজ অসমে গিয়েছেন সেখানকার বিভিন্ন প্রাইভেট আশ্রমে দীক্ষা দিতে। সেই উদ্দেশ্যে এসেছেন ডিগবয় আশ্রমে। পূজনীয় দেবেশ মহারাজ ঐ আশ্রমে থাকতেন। একদিন বিকালে মহারাজ হাঁটতে গেছেন চা-বাগানে। ফেরার পথে দেখা গেল, এক মাতাল গাড়ির ডিকির ওপর বেহুঁশ হয়ে পড়ে আছে, কিছুতেই নড়ছে না! ওদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসছে, আশ্রমে ফিরে আসতে হবে। ড্রাইভার গাড়ির হর্ন বাজালে সে আরো ক্ষেপে উঠে বলতে থাকে : “পিঁ পিঁ করলে কেন?” সে সরবে না, কারণ তার সম্মানে আঘাত করা হয়েছে। আমরা অন্য একটা গাড়িতে মহারাজকে নিয়ে আশ্রমে চলে এলাম, বাকিরা মাতালকে সামলে একটু দেরিতে আশ্রমে ফিরে আসে। যিনি গাড়ির মালিক, তিনি স্থানীয় কলেজের অধ্যাপক। তাঁর একরত্তি ছোট্ট একটি মেয়ে ছিল। মহারাজের কাছে অবাধ তার আসা-যাওয়া। একদিন সে মহারাজকে ধরে বসল দীক্ষা নেবে বলে। মহারাজ তাকে বোঝালেন : “তুমি এখন অনেক ছোট, বড় হও; তারপর দীক্ষা নেবে। এখন তুমি দীক্ষার মন্ত্র মনে রাখতে পারবে না, ভুলে যাবে।” সে বলে বসল : “তবে বল, আমি বড় হলে আমায় দীক্ষা দেবে।” মহারাজ ‘তাই হবে’ বলায় সে তখন নিরস্ত হলো। অদৃষ্টের এমন খেলা, সেই মেয়ে বড় হয়ে কলকাতায় এসেছে বাবার সঙ্গে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে। তার বাবা দীক্ষিত ভক্ত, স্বাভাবিকভাবেই তিনি মঠে এসেছেন ঠাকুর, মা, স্বামীজী এবং মহারাজকে প্রণাম করতে। সঙ্গে তাঁর কন্যাও। মহারাজের কাছে এসে সে দীক্ষার কথা মনে করিয়ে দেয়। এমনই কপাল তার, পরদিনই ছিল দীক্ষার দিন। সেদিন তারও দীক্ষা হয়ে গেল। কত সহজে মেয়েটির দীক্ষা হয়ে গেল, অথচ যার হওয়ার নয় তাকে...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹80/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in