স্বামীজীর সঙ্গে দেখা হওয়ার স্মরণীয় দিনটির প্রতিটি মুহূর্ত আমার এখনো মনে আছে। গত আটচল্লিশ বছর ধরে এটি আমার জীবনের ভিত্তি। আমরা তখন ডবস্ফেরিতে মিসেস ডেভিডসনের সঙ্গে থাকতাম। একদিন নিউ ইয়র্কে ডোরা রোয়েথেলেসবার্জারের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দিতে এসে তাঁর লেখা একটি চিরকুট পেলাম, তাতে লেখা — 54 West 33rd Street-এ এসে স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতা শুনে তারপর আমরা মধ্যাহ্নভোজ করব। সেইমতো মা১ এবং আমি ঐ বাড়িতে গিয়ে অভ্যাগতদের বসার কক্ষে উপস্থিত হলাম। সেখানে কুড়িজন মহিলা এবং দু-তিনজন পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। স্বামীজী মেঝেতে বসেছিলেন। তাঁর প্রথম বাক্যটি আমাকে জানিয়ে দিল—আমি এক পরম সত্য সম্পর্কে শুনছি, সেই সত্য যা একজনকে মুক্ত করে দিতে সক্ষম। সেদিন (২৯ জানুয়ারি ১৮৯৫) যেন দেহবোধ, স্থান, কাল সবকিছুর ঊর্ধ্বে চলে গিয়েছিলাম! মনে হয় আমার জীবন যেন সেই ঘটনাটির পর থেকেই শুরু হয়েছে। যে-উদ্দেশ্যে আমি জন্মেছিলাম সেটা পূর্ণ হয়েছে—এক নতুন বুদ্ধকে চিনেছি। মা এবং আমি সপ্তাহে তিনদিন নিউ ইয়র্কে আসতাম। আমরা স্বামীজীর কথা তখন কাউকে বলিনি। কারণ আমাদের কাছে তিনি ছিলেন এক পুণ্যাত্মা৷ কয়েক সপ্তাহ পরে পিটার২ আমাদের ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়াতে (স্বামীজী যেখানে ক্লাস নিতেন, তার ঠিক উলটোদিকে অবস্থিত) নৈশভোজে নিমন্ত্রণ করেন। আমরা তাঁর নিমন্ত্রণ গ্রহণ করলেও তাঁকে জানিয়ে দিই যে, সন্ধ্যাটা আমরা তাঁর সঙ্গে কাটাতে পারব না। সেইমতো রাত ৮টার সময় আমরা বক্তৃতা শুনতে যাব বলায় মিস্টার লেগেট আমাদের জিজ্ঞাসা করেন: “তোমরা কোথায় যাচ্ছ?” আমরা বক্তৃতা শুনতে যাচ্ছি বলায় তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তিনিও আমাদের সঙ্গে যেতে পারেন কি না; আমরা তাঁকে আসতে বললাম। সেদিন স্বামীজীর বক্তৃতা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পিটার তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে আমাদের সঙ্গে নৈশভোজে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেই নৈশভোজেই আমরা স্বামীজীর সঙ্গে প্রথম ঘরোয়াভাবে মিলিত হই। এর কয়েক সপ্তাহ পরে আমরা সবাই এবং স্বামীজী রিজলি ম্যানরে ছয়দিনের জন্য যাই। স্বামীজীর প্রতি আমাদের পরিবারের যে-মনোভাব (তাঁকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া), তাঁকে আমাদের আরো নিকটবর্তী করে তুলেছিল।...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹80/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in