“মা, যদি হও রাজি,বড়ো হলে আমি হবখেয়াঘাটের মাঝি।”১ ছোটবেলায় খুব হিংসে হতো—আমার মনের কথাটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখে ফেলেছেন বলে। যদিও খেয়াঘাটের মাঝি হওয়ার স্বপ্ন আমার এখনো ভেঙে খানখান হয়ে যায়নি। কাকমারি পেরিয়ে চক্ষুজ্বলা খালের পাশ দিয়ে দেখা যেত মণ্ডলপাড়ার মাঠ, সেই মাঠে নাড়া-ভাটুঁইয়ের বাসা খুঁজতে গেছি কতবার। কুয়াশায় ঘেরা বনবাদাড়ের ভোর—নাড়াবনে মাকড়সার জালে লেগে থাকা বিন্দু বিন্দু জলের টোপ—সেই মাঠ পাড়ি দিয়ে গাঙভেড়িতে উঠলেই দেখা যেত টিপলীঘেরী খেয়াঘাট। সুশীল মাঝির দশ পয়সার খেয়া। বড় মাসির বাড়ি যেতে গেলে এই বৈতরণি পেরতেই হতো। দত্ত নদীতে ছোট্ট একটা ডিঙি নিয়ে নিজের মেজাজে খেয়া দিত সুশীল মাঝি। কী সকাল, কী সাঁঝে অথবা নিঝুম কোনো দুপুরে পৃথিবীর এক কোণে নদীর ওপর ডিঙি ভাসিয়ে কী নিশ্চিন্ত তার চলা! যেন কোথাও কোনো ব্যস্ততা নেই। নৌকায় উঠে দাঁড় টেনে দিলে তার পারানি লাগত না আর। আমরা ছোটরা হুড়মুড় করে নৌকায় উঠে তাই বসে পড়তাম দাঁড়ে। মাঝি দশ পয়সা মকুব করে দিত। শুক্রবার টিপলীঘেরীর হাট, সেদিন কত হাটুরে দোকানদার যে খেয়ানৌকায় পারাপার করত তার ইয়ত্তা নেই। বুদ্ধি করে মাঝি ঘাটে লাগাত পাছার দিকটা। নামার সময় যাত্রীরা ভাড়া দিয়ে নেমে যেত। কারো ছিল মাসকাবারি, মাঝি তার দিকে একবার তাকিয়ে চরে বৈঠাটা আরো একটু বেশি করে পুঁতে দিত, নৌকা যাতে ঘাট থেকে দূরে সরে না যায়। পান্তা খাওয়ার বেলা হলেই মাঝি এক থালা পান্তাভাত আর ভেলিগুড় নিয়ে বসে পড়ত খেয়াঘাটে। এসব দেখে কার না সাধ জাগে মাঝি হওয়ার! আমার খুড়তুতো ভাই জগোকে বলতাম—বড় হয়ে আমি মাঝি হব, আর তুই বসবি দাঁড়ে—সে আমার চেলা হতে রাজিও হয়েছিল। তারপর কোথা থেকে কখন যে কী হয়ে গেল—রবীন্দ্রনাথের ‘শিশু’ কাব্যের নায়কের মতো ইচ্ছেটা কেবল মনের মধ্যে রয়ে গেছে। খেয়াঘাটের মাঝিও যেমন হতে পারিনি, তেমনি মধু মাঝির নৌকা নিয়ে আমার যাওয়া হয়নি—‘সাত সমুদ্র তেরো নদীর পার’। কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদার ভবানন্দ-ভবনে যাত্রা’য় সেই কবে পড়েছিলাম—“অন্নপূর্ণা...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹80/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in