।। ৫।। শ্রীশ্রীমা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, অন্তত শেষ সময় অর্থাৎ দেহ যাওয়ার পূর্বমুহূর্তে ঠাকুর তাঁর ভক্তদের দেখা দেবেন এবং হাত ধরে নিয়ে যাবেন—“ঠাকুর বলতেন, ‘যারা আমাকে ডাকবে তাদের জন্য আমাকে অন্তিমে দাঁড়াতে হবে।’ এটি তাঁর নিজের মুখের কথা।” “তাঁর মুখের কথা কি ব্যর্থ হতে পারে?”৯৩ এখানে যে-ভক্তদের কথা বলা হচ্ছে, ধরে নেওয়া যায় তাঁদের মন–প্রাণ শ্রীরামকৃষ্ণে সমর্পিত, শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁদের জীবনসর্বস্ব। এই অবস্থা লাভ রামকৃষ্ণ–চেতনা চর্চার স্বাভাবিক পরিণতি। ভক্তদের দেহান্তের পরবর্তী অবস্থা সম্বন্ধে ঠাকুর বা মায়ের মুখে বারবার যা শুনি এবং যা পূর্ব অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো—ঠাকুর হাত ধরে তাঁদের নিয়ে যাবেন। এখন প্রশ্ন হলো, ঠাকুর বাস্তবিক যে দেহান্তে প্রকৃত ভক্তদের সামনে এসে দঁাড়ান এবং হাত ধরে নিয়ে যান—এর উদাহরণ প্রচুর। এখানে কয়েকটি মাত্র উল্লেখ করছি। মহাপুরুষ মহারাজ বলরাম বসুর প্রয়াণ সম্পর্কে স্মৃতিচারণা করেছেন : “দেহত্যাগের দু–তিনদিন আগে থেকে (বলরামবাবু) আত্মীয়-স্বজনদের কাউকে কাছে আসতে দিতেন না; আমাদেরই কেবল দেখতে চাইতেন। যতটুকু কথাবার্তা বলতেন, তা খালি ঠাকুর সম্বন্ধে।… বলরামবাবুর স্ত্রী শোকে মুহ্যমান হয়ে গোলাপ–মা, যোগীন–মা প্রভৃতির সঙ্গে অন্দর মহলে বসে আছেন। এমন সময় বলরামবাবুর স্ত্রী আকাশের গায়ে একখণ্ড কালো মেঘের মতো দেখতে পেলেন। পরে ঐ মেঘ ঘনীভূত হয়ে ক্রমে নীচে নেমে আসতে লাগল এবং একটি রথের আকার ধারণ করে বলরাম-মন্দিরের ছাদের উপর নামল। ঐ রথের ভিতর হতে ঠাকুর নেমে এসে বলরামবাবু যে ঘরে ছিলেন, সেই দিকে গেলেন এবং খানিক পরেই বলরামবাবুর হাত ধরে রথে এসে বসলেন। তখন সেই রথ ঊর্ধ্বে উঠে শূন্যে বিলীন হয়ে গেল। এই vision (অলৌকিক দৃশ্য) দেখতে দেখতে বলরামবাবুর স্ত্রীর মন এমন এক উচ্চ অবস্থায় চলে গিয়েছিল, যেখানে শোকতাপ স্পর্শ করতে পারে না। যখন তাঁর চমক ভাঙল, তখন তিনি ঐ দর্শনের কথা গোলাপ–মাকে বললেন। গোলাপ–মা এসে আমাদের ঘটনাটি জানালেন। তার কিছুক্ষণ আগেই বলরামবাবুর দেহত্যাগ হয়েছিল।”৯৪ আরেকজন বিশিষ্ট ভক্ত কালীপদ ঘোষ বা ‘দানাকালী’ ঠাকুরের কাছে এই...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹80/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in