জীবনের নিয়ত সংগ্রামে মানুষ নব অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ হয়; পরিচিত জগৎ নবীন আঙ্গিকে নয়নপথে ভেসে ওঠে। পূর্বের অনভিজ্ঞ যত পদক্ষেপকে প্রজ্ঞার আভা অতীত জন্মের ধূসর জলছবি করে তোলে। প্রতি মুহূর্তে জীবন তাই পুরাতন অপূর্ণতাকে ভুলে যেন নবজন্মে জেগে উঠতে চায়। সেই জাগরণের প্রতীকেই নববর্ষের উৎসব বিসর্জন ও আবাহনের প্রাণময় তুলিটানে শোভিত হয়।

জীবনের স্বাভাবিক গতি আনন্দের অভিমুখী। বিগত বর্ষে যে যে অনুষঙ্গে মানুষ হর্ষ বা অমর্ষ লাভ করেছে, জীবনের নিয়মে নববর্ষে সেসব অনুষঙ্গের অনুবর্তনে সে পুনরায় আমোদিত হতে চায় বা অসহনীয় আবর্ত ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চায়। এইভাবে তার ভাবনার অনুসারী হয়ে নিয়মিত হতে থাকে তার কৃতি। পুরানো বছরকে তাই চিরবিদায় না দিয়ে তার রেখে যাওয়া বোধের অমৃত-আহরণে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতেই মনের মাঝে জীবন নববর্ষের মঙ্গলঘট সুস্থাপন করে রাখে। বর্ষযাপন সেই কারণে সামান্য গাণিতিক হিসাবে সময়কে বেঁধে রাখার প্রয়াস শুধু নয়; নতুন বছর প্রাণস্পন্দনের অনুরণন শোনায়, আনন্দে মেতে যাওয়ার সুর বুনে দিয়ে যায়, জীবনের প্রচ্ছদে অভিজ্ঞানের কলমে মরমি আলপনা এঁকে রাখে।