জীবন আপাতপক্ষে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার সমাবেশমাত্র। ভাল আর মন্দের নিত্য দোলায় এই খেলা চলিতে থাকে। প্রতিদিনের হাসিকান্নায় জীবন ‘নদী’র মতো বহিয়া যায়। জীবনদেবতা যেন অগোচরে একের পর এক রাগের সমাবেশ ঘটান আমাদের জীবনে। ভৈরবীর গাম্ভীর্য কখন দিবা অবসানে বেহাগের অস্তরাগে মিশিয়া রাত্রির মালকোশের নীরবতায় পর্যবসিত হয়। একটা দিনের মতোই জীবনের কোনো ক্ষণ আর ফিরিয়া আসে না, শুধুমাত্র পড়িয়া থাকা সময়কে আরো সুন্দর করিয়া গড়িয়া তোলা যায় মাত্র। জীবন আসলে ঠিক-ভুলে গড়িয়া উঠা একটি পিরামিড। বারে বারে নিজের করা ভুলগুলি আমাদের দগ্ধ করিতে থাকে। মনে হয়, কেন এমন করিলাম! আসলে ইহাই জীবন—যেখানে নিত্য এই ঠিক-ভুলের লীলা চলিতে থাকে। ভুলের পরিণামে আসে অনুশোচনা। প্রকৃতপক্ষে সচেতন হইলে এই অনুশোচনা আমাদের ঠিক পথের অনুসন্ধানে সাহায্য করে। ধর্ম বলে, ইতিবাচক অনুশোচনা ও কল্যাণকর্মের দ্বারাই অন্তরে আনন্দ উপলব্ধ হয়। অনুশোচনা বিশ্বজনীন একটি অনুভব। প্রত্যেকেরই জীবনে নানাবিধ ভুলের মাশুল হিসাবে অনুশোচনা অনুভূত হইয়া থাকে। যেমন—কাহারো মনে হইতে পারে যে, এমন অনেক কর্তব্য অসম্পূর্ণ রহিয়াছে যাহা অবহেলা করা উচিত হয় নাই; কিংবা কোনো বিরোধ যা আন্তরিকভাবে অভিপ্রেত ছিল না ইত্যাদি! ইহা ব্যক্তির বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উপর এক নেতিবাচক প্রভাব লইয়া আসে, কেননা সে সর্বদাই সিদ্ধান্তগ্রহণে ভয়ভীত হইয়া থাকে। ইহাকে বলা হইয়া থাকে ‘regret paralysis’ (অনুশোচনায় অবশাবস্থা)। অনুশোচনাগ্রস্ত ব্যক্তির মধ্যে দুঃখ-অনুতাপ, দোষদর্শন এবং খেদ-আক্ষেপ আসিয়া সেই ব্যক্তিকে অবসাদগ্রস্ত করিয়া ফেলে। সর্বদা অনাবশ্যক আত্ম-বিচার তাহার মধ্যে অসহায়তা ও আশাহীনতার বোধ জাগাইয়া রাখে। এই ধরনের ব্যক্তিরা অতীতেই আবদ্ধ থাকায় বর্তমানকে কাজে লাগাইতে পারে না, এমনকী ভবিষ্যতের দিকেও ভালভাবে দৃষ্টি দিতে পারে না। জীবন একটা প্রবাহ, তাই পথ চলিবার আনন্দ রহিয়াছে। এই প্রবাহ রুদ্ধ হইলে জীবন দুঃখময় হইয়া উঠে। অনুতাপ এই জীবনপ্রবাহে বাধা হইয়া দাঁড়ায়; আনন্দময়, সার্থক, পরিপূর্ণ জীবনযাপনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলিয়া থাকে। এমতাবস্থায় নেতিবাচক অনুশোচনা হইতে বাহির হইবার উপায় কী হইতে পারে তাহা লইয়া ভাবা যাইতে পারে। অনুশোচনাকে এড়াইবার...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹80/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in