মিতালী বিশ্বাস সপ্তদশ শতকের শেষলগ্নে মল্ল রাজসভার কবি দ্বিজ কবিচন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী মঙ্গলকাব্য ধারার অনুবর্তী হয়ে রচনা করেন এক ভিন্ন বিষয় ও আঙ্গিকের মঙ্গলকাব্য কপিলামঙ্গল। বেদ ও পুরাণে উল্লিখিত স্বর্গগাভি কপিলা ও তার পুত্র মনোরথকে কেন্দ্র করে একেবারে ছকভাঙা এক নতুন মঙ্গলগান উপস্থাপিত করেন। তাঁর কাব্যের মুখ্য চরিত্র কপিলা মঙ্গলকাব্যের অন্য দেবতাদের মতো নিজের পূজা প্রচারের জন্য মর্তে আসেননি। কবি কপিলা ও মনোরথের মাধ্যমে মানবজাতির হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধ, পাপ-পুণ্য, মানবিকতা ও কর্তব্যবোধকে তিনি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছেন। কপিলামঙ্গল কাব্যের প্রাচীন আলেখ্য আমরা খুঁজে পাই বাংলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আদিবাসী জনসমাজের মধ্যে। তিনি কাব্যে যে গো-ভক্তি, গো-অর্চনা ও গো-বন্দনার কথা উল্লেখ করেছেন, তারই একটি প্রয়োগগত বাহ্য রূপ আদিবাসী জনজাতিগুলি যুগ যুগ ধরে পালন করে আসছে। গোমাতা কপিলা হিন্দু সমাজের আরাধ্যা দেবী হলেও বাঁদনা পরবের প্রবল ধুমধাম কুর্মি, সাঁওতাল প্রভৃতি ভারতবর্ষের আদিম জনজাতির উপচারের মধ্যে রয়েছে। ক্ষেত্রসমীক্ষার অভিজ্ঞতায় আমরা সেই অনুসন্ধানের চেষ্টা করব। দ্বিজ কবিচন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তীর কপিলামঙ্গল কাব্যের লৌকিক উৎস আমরা খুঁজে পাই পশ্চিম রাঢ় ও মানভূম অঞ্চলে। মানভূম, ধলভূম, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম রাঢ়ের পশ্চিম প্রান্তের সমগ্র অঞ্চল জুড়ে অর্থাৎ উত্তর-পশ্চিম মেদিনীপুর, ময়ূরভঞ্জ, পশ্চিম বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, আসানসোল, সীমান্ত বীরভূমে এই উৎসব উদ্‌যাপিত হয়। এই উৎসবেরই প্রচলিত নাম বাঁদনা পরব। “বড় গঙ্গায় আছে ভালা গরু তোর বাপ গো—/ ছোট গঙ্গায় আছে গরু ভাইরে—/ পাহাড় পর্বতে আছে বাঁধনারই পরব—/ পরব কবে আনা গোনা বে।”১ ধামসা, মাদল ও নাকারা সহযোগে এই গানের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে যায় বাঁদনা পরব। এই সমস্ত অঞ্চলে কঠিন মাটির বুক চিরে ফসল ফলাতে একমাত্র সহযোগী হচ্ছে শক্তিশালী গোরু—যার নাম ‘বরদা’ (বলদ বা বলদা) এবং বজ্রদেহী ‘কাঁড়া’ বা পুরুষ মোষ। তাই ঘরে ফসল থাকুক বা না থাকুক, বাঁদনা পরবের মূল উপজীব্য হলো গোপাল-গোবিন্দের সেবিত গো-কুল। গোরু মাত্রই ভগবতী। ভগবতী অর্চনার প্রধান তিথি হচ্ছে কার্তিক অমাবস্যায় দীপালি উৎসবের তিথি। ভারতবর্ষে গো-বন্দনার রেওয়াজ...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹80/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in