রাষ্ট্রীয় বিকাশের দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের ইতিহাসে পঞ্চদশ-ষোড়শ শতক ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া

রাষ্ট্রীয় বিকাশের দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের ইতিহাসে পঞ্চদশ-ষোড়শ শতক ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার দামোদর, দ্বারকেশ্বর, কংসাবতী ও শিলাবতী নদী-উপত্যকার কৃষ্ণকায় অরণ্যচারী জনগোষ্ঠীসমূহের গোষ্ঠীপতিদের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি রাজ্য গড়ে উঠেছিল। বাঁকুড়া জেলায় এইরূপ চারটি রাজ্যের সন্ধান পাওয়া যায়। এগুলির অন্যতম ছিল তুঙ্গভূম। সিমলাপাল এই তুঙ্গভূমেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল। ‘সিমলাপাল’ নামের উৎপত্তি নিয়ে গবেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কারো কারো মতে, শিলাইপাল থেকে এই নামের উৎপত্তি। শিলাবতী নদী লোকমুখে ‘শিলাই’ নামে পরিচিত, অন্যদিকে ‘পাল’ অর্থে নদীতীরবর্তী পলল ভূমি। অনেকের মতে, বসতি বোঝাতেও পাল শব্দটি ব্যবহৃত হয়। শিলাই নদীর ধারের বসতি থেকেই শিমলাপাল বা সিমলাপাল। আবার কারো মতে, শিমুল গাছের আধিক্য থেকেও এই নাম এসে থাকতে পারে। গ্রাম-উৎপত্তির ইতিহাসও অন্ধকারে ঢাকা। জানা যায়, দ্বাদশ শতাব্দীতে ওড়িশার রাজনৈতিক আধিপত্য স্থাপনের নিদর্শন হিসাবে সারংগড়ে প্রথম উৎকল জনবসতি গড়ে ওঠে। বর্তমানে রানিবাঁধ থানার অন্তর্গত কুমারী নদীর তীরে অবস্থিত সারংগড়ে বেশ কিছু মাটির ঢিবি পাওয়া গেছে। খননকার্য চালিয়ে পাওয়া গেছে পুরানো ইট, যা থেকে অনুমান করা হয়—এখানে একদা ওড়িশার গঙ্গবংশীয় রাজা অনন্তবর্মণ চোড়গঙ্গের দুর্গ ছিল। অনন্তবর্মণের উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীদের মধ্যে ছিলেন বহু উৎকল ব্রাহ্মণ। দক্ষিণ বাঁকুড়ায় মধ্যযুগের মাঝামাঝি সময়ে রাজগ্রাম ও টিকরপাড়া নামে দুটি গ্রাম ছিল। পরে ওখানকারই জনৈক ভাগ্যান্বেষী উৎকল ব্রাহ্মণ স্থাপন করেন সিমলাপাল নামক গ্রামবসতি। ভবিষ্যপুরাণের ব্রহ্মাণ্ড অংশের বর্ণনা অনুযায়ী এই অঞ্চলটি ছিল শাল ও অন্যান্য বৃক্ষের দুর্ভেদ্য অরণ্যে আবৃত। শিলাবতী-কংসাবতী-কুমারী উপত্যকার গভীর অরণ্যে বসবাসকারী কৃষ্ণকায় কোল-ভীল-মুণ্ডা-হোড়-ওঁরাওরা মূলত ছিল শিকারজীবী। অভ্যস্ত ছিল উত্তেজক পানীয় গ্রহণে। তাদের আরাধ্য দেবদেবীদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন উগ্র ও রুক্ষ স্বভাবের। রিসলে তাঁর দি ট্রাইব্স অ্যান্ড কাস্টস অব বেঙ্গল বইতে এইসব বাউরি, বুনা, কোড়া জনগোষ্ঠীগুলিকে একই সামাজিক মর্যাদাশ্রয়ী বলেছেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী এই অঞ্চলে তখন বাস করত ভূমিজ, কোড়া, কুর্মি, সাঁওতাল, বাউরি, বাগদি, মাল, খেড়িয়া, খয়রা ইত্যাদি উপজাতীয় ও অর্ধ-উপজাতীয় জনগোষ্ঠীসমূহ। তাদের মধ্যে সাপ ছাড়াও নানাবিধ জীবজন্তুর মাংস...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹80/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in