ধ্যান, মনঃসংযম, একাগ্রতা প্রভৃতি শব্দ ও প্রসঙ্গগুলি স্বামীজীর বক্তৃতা, চিঠিপত্র ও রচনাবলিতে বারবার এসেছে৷ বিদেশে একটি বক্তৃতায় তিনি মনের মধ্যে নিহিত অশেষ শক্তির কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, তিনি তিরিশ বছর কঠোর চেষ্টা করে মনঃশক্তির কিছুটা আয়ত্ত করেছেন এবং যা শিখেছেন ছবছর ধরে তা লোকের কাছে প্রচার করছেন৷১ ১৮৯৯-র ২২ ডিসেম্বর ধীরামাতাকে একটি চিঠিতে লিখেছেন—ধ্যান, মনোযোগ ও একাগ্রতার সাধন করে সর্বপ্রকার উদ্বেগ ও দুর্ভাবনার অতীত হয়ে থাকার আলো তাঁর করায়ত্ত, আর করায়ত্ত গীতোক্ত ফলাকাঙ্ক্ষাশূন্য হয়ে কাজ করার কৌশল৷২ যিনি আবাল্য ধ্যানসিদ্ধ, তাঁর কাছ থেকে ইত্যাকার উক্তি প্রত্যাশিত৷ বর্তমান প্রসঙ্গে আমরা স্বামীজীর চিন্তার আলোয় উপরি-উক্ত বিষয়গুলি নিয়ে কিছু আলোচনা করব৷ স্বামীজীর মতে, মনঃসংযম, একাগ্রতা ও ধ্যানের অভিযাত্রায় প্রথম প্রয়োজন হলো—পবিত্রতা ও নীতিপরায়ণতা৷ তিনি বলছেন : “মন যতই পবিত্র হবে, ততই তাকে সংযত করা সহজ হবে।… মনঃসংযমের অনুশীলন বিজ্ঞানসম্মত, ধীর, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে শিক্ষা করা উচিত৷ প্রথম প্রয়োজন সুনীতিপরায়ণ হওয়া৷… কারও কোনো অনিষ্ট না করা, পূর্ণ পবিত্রতা ও কঠোরতা।”৩ স্বামীজীর মতে, যে-মত আমাদের সনাতন ঋষিদেরও, সর্বশক্তি আমাদের ভিতরে৷ এই শক্তিকে জানার এবং নিজের চিরন্তন সম্পদরূপে চিনে নেওয়ার জন্য প্রধান যন্ত্র হলো মন৷ মন-বুদ্ধি-চিত্ত-অহংকার সমন্বিত আমাদের যে অন্তঃকরণ, স্বামীজী অনেক সময়ই তাকে সকলের সহজবোধ্য হওয়ার জন্য একযোগে ‘মন’ বলে বুঝিয়েছেন৷ বেদান্ত-মতে মনের লক্ষণ সংশয়—যাব কী যাব না, করব কী করব না—এইজাতীয় সংকল্প ও বিকল্প৷ বুদ্ধি ‘নিশ্চয়াত্মিকা’৷ সে নিশ্চয় বা সিদ্ধান্ত করতে পারে৷ মনের দোলাচলকে থামিয়ে সে এইজাতীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে—হ্যাঁ, আমি যাব কিংবা না, যাব না৷ চিত্তের লক্ষণ স্মরণ৷ আর অহংকার হলো ‘আমি’ বোধ—মন-বুদ্ধি-চিত্তের প্রতিটি ক্রিয়ার মধ্যে সে অনুস্যূত থাকে৷ স্বামীজী বলছেন : “ভারতের ইতিহাসে এমন একটা যুগ ছিল, তখন শুধু মানুষ ও মানুষের মন—এই একটি বিষয়ে ভারতের সমগ্র মনোযাগ আকৃষ্ট হয়েছিল৷ তাতেই সে তন্ময় হয়ে গিয়েছিল৷”৪ একটা সময়ে ভারতবর্ষে যথানিয়মে যেমন জড়বিজ্ঞান শেখানো হতো, তেমনি মনের শক্তি আয়ত্ত ও বিবিধভাবে তাকে প্রয়োগ করার...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹80/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in