চৈত্র অপরাহ্ণ এখানে ম্রিয়মাণ, দূরে তুষারাবৃত শৈলরাজি হতে বয়ে আসা শীতার্ত বাতাসে কান পাতলে শোনা যায় নিঃসঙ্গতার আখ্যান, যেন কোনো বিরহী কারোর অপেক্ষায় অলীক বাঁশির সুরে এই পুরানো উপত্যকা-শহরটিকে ভরিয়ে তুলেছে। মল্লিতাল লেকের সামনে থেকে শেরউড কলেজের পথে হাঁটছি, কয়েক ফার্লং এগতেই পাহাড়ি পথের বামদিকে বিশালাকায় ওক গাছের ছায়াতলে চোখে পড়ল একটি ছিমছাম বাড়ি—বাড়ি না বলে অবশ্য কটেজ বলাই ভাল। ঢালু চাল, দুপাশে পাহাড়মুখী প্রশস্ত বারান্দা, সামনে অনেকখানি জমির ওপর শীত-দেশের মনোরম উষ্ণ ‘সামার সিজন’-এর গোলাপ আর লিলি ফুল ফুটে রয়েছে, গেটের একদিকে রক্ষীর মতো দেওদার গাছের শরীর আইভি-লতায় সাজানো, পাশে আখরোট ও পাম গাছ। দূর থেকে এমন বাড়ি চোখে পড়তেই ভারতবর্ষের ব্রিটিশ কলোনির কথা মনে পড়ে গেল, যাকে কি না অতীতচারী মানুষ এখনো ‘রাজ অন দ্য ডেজ’ বলে থাকেন। বাড়ির নাম ‘গার্নি হাউস’, নৈনিতালের মতোন ক্ষুদ্র শৈলশহরে কাদের ছিল এই কটেজ? কী আধুনিক বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের আদি পুরুষের নাম, তিনি এডওয়ার্ড জেমস করবেট—যাঁকে সারা পৃথিবীর মানুষ ‘জিম করবেট’ নামেই চেনেন।১৮৭৫ সালের ২৫ জুলাই এই নৈনিতালে জন্ম নেওয়া মানুষটির পরিচয় এককথায় দেওয়া প্রায় অসম্ভব, ১৮৭৫-এর ১৮ অক্টোবর নৈনিতালের সেন্ট জন চার্চে ব্যাপটাইজড শিশুটি এডওয়ার্ড জেমস, তিনিই উনিশ শতকের শেষার্ধে ভারতবর্ষের উত্তরপ্রান্তে এই ক্ষুদ্র অরণ্যাকীর্ণ শ্বাপদসংকুল জনপদের হতদরিদ্র সরল মানুষের কাছে ‘কার্পিট সাহিব’। তাঁকে বন্ধু, আত্মীয়স্বজনরা আদর করে ‘জিম’ বলে ডাকতেন, আজও সমগ্র বিশ্বের অগণিত গুণমুগ্ধ মানুষের চোখে তিনি ‘জিম’। এই জিমই সোনার অক্ষরে নিজের জীবনের বিচিত্র কাহিনি লেখেন, আবার নৈনিতালের তৎকালীন ব্যাঙ্কের খাতায় তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় ‘মেজর এডওয়ার্ড জেমস করবেট, ভিডি’ পরিচয়ে, এই শহরের পৌরপিতা হিসাবে তিনি সরকারি কাগজে সই করেন—‘জেমস এডওয়ার্ড’। প্রকৃতার্থে কখনো একটি পরিচয় বা নামে এই বিচিত্রকর্মা হৃদয়বান মানুষটি নিজেকে সীমাবদ্ধ করেননি, আর আজও তাঁর সমস্ত নাম ও পরিচয়ের ছবিগুলি একত্রে সুতোয় বাঁধলে যে অপরূপ জলছবিটি গড়ে ওঠে, তার মধ্যেই বোধহয় চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন ক্রিস্টোফার উইলিয়াম করবেট...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹80/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in