অভিনবগুপ্তের অনেকগুলি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দুটি আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে, প্রথমটি হলো তাঁর জ্ঞানলিপ্সা আর দ্বিতীয় তাঁর মাতৃভক্তি। খুব ছোটবেলায় তাঁর মাতৃবিয়োগ হয়। এরপর একমাত্র স্নেহের সূত্র ছিলেন তাঁর পিতা। তিনিও কিছুদিনের মধ্যে সন্ন্যাস নিলে অভিনবগুপ্তের মনও সব বন্ধনবিমুখ হয়ে যায়। প্রতিজ্ঞা করেন কখনো সংসার করবেন না। ‘দারাসুত-প্রভৃতিবন্ধকথাম্‌ অনাপ্তঃ।’ আগমে নিমগ্ন জীবনে তিনি কয়েকজন গুরুর শরণ নেন, তন্ত্রালোক-এ সেই তথ্য ধরা রয়েছে। তাঁর আরো কালজয়ী গ্রন্থ হলো পরাত্রিংশিকা- বিবরণী ও ঈশ্বরপ্রত্যভিজ্ঞাবিমর্শিনী। কাশ্মীর ও ভারতের বিদগ্ধ সমাজ তাঁকে ভৈরবের অবতার মনে করতেন। কাশ্মীরের শিবাদ্বয় দর্শনে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে, আমরা এখন সেখান থেকে শুধু শক্তিতত্ত্ব তিনি যেভাবে বলেছেন তার একটি রূপরেখা স্পর্শ করার চেষ্টা করব। শক্তির স্বরূপ ও সঞ্চারতন্ত্রসাধনার একটি প্রধান স্তম্ভ হলো ‘শক্তি’। শক্তি কী? প্রথমে এই প্রশ্ন উঠেছে। আমরা দেখি, অদ্বৈতবেদান্ত শক্তিকে অনির্বচনীয় বলেছেন। কারণ, তা পূর্ণরূপে সৎ, অসৎ বা অলীক নয়। শক্তিকে অপে‌ক্ষা করেই কিন্তু বিশ্ব রচিত হয়েছে! উলটোদিকে দ্বৈতাদ্বৈত, বিশিষ্টাদ্বৈত ইত্যাদি মতে শক্তি হলো নিত্যপদার্থ। আর তন্ত্রে শক্তি হচ্ছে নিত্যতত্ত্ব। অদ্বৈত-মতে শক্তির অনাদিত্ব স্বীকার করা হয়, কিন্তু অনন্তত্ব মানা হয় না। তন্ত্রমতে শক্তির উন্মেষ, বিকাশ, নিমীলন আছে, পূর্ণবাধ নেই। শক্তি অনাদি ও অনন্ত। শক্তির সঙ্গে পরমতত্ত্ব শিবের সম্বন্ধ হলো অভিন্ন। শিবে আশ্রিত হয়ে শক্তি বিরাজ করেন এবং অবিরাম সৃষ্টি ও গতির কারণ হন। এবিষয়ে বৈষ্ণব ও শৈবাগমের মতও একই। কিন্তু শক্তির প্রকাশের রূপ নিয়ে মতভেদ আছে। বৈষ্ণবরা বলেন, শক্তির বিকাশ হলো বিশেষ বিকাশ। তাই লীলাবিভূতিতে ও নিত্যবিভূতিতে শক্তির বিকাশ দেখা যায় রূপে ও লীলায়। প্রকাশ পায় আনন্দলহরিতে। সেই প্রকাশ সবিশেষ ও নির্বিশেষ উভয়। মূর্ত বিশ্বের মতোই অমূর্ত বিশ্বে তার অরূপ ব্যাপ্তি। এই শক্তি তরঙ্গায়িত হলেও তার কম্পনের রূপ নেই। তিনি পরাশক্তি, শিবে অবস্থিত। নির্বিশেষ সবিশেষ স্পন্দনে সঞ্চারিত। যখন সবিশেষ তখন তিনি জগৎ, আর নির্বিশেষে নাম-রূপের ওপারে বিশ্বের প্রকাশ! এটি হচ্ছে স্পন্দীভূত অবস্থা, একে বলে ‘নিমীলন’। শিবেরও এটি পরম...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹80/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in