ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ একবার বলেছিলেন যে, ঠাকুরের প্রতিটা কথা নিয়ে পাতার পর পাতা লেখা সম্ভব। আমরা জানি, শ্রীরামকৃষ্ণ এবং শ্রীমা সারদাদেবী অভিন্ন; সুতরাং মায়ের প্রতিটা কথার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তাঁর ক্ষেত্রে কাজটি হয়তো আমাদের পক্ষে আরো কঠিন। কারণস্বরূপ শ্রীরামকৃষ্ণের বিখ্যাত সাক্ষাৎ-শিষ্য স্বামী প্রেমানন্দজীকে উদ্ধৃত করে বলা যায়—“শ্রীশ্রীমাকে কে বুঝেছে?… ঐশ্বর্য্যের লেশ নাই! ঠাকুরের বরং বিদ্যার ঐশ্বর্য্য ছিল; তাঁর ভাবাবেশ সমাধি এসব আমরা জন্মে দেখেছি…! কিন্তু মার—তাঁর বিদ্যার ঐশ্বর্য্য পর্যন্ত লুপ্ত! এ কি মহাশক্তি!”১ মায়ের সামান্য দৈনন্দিন কথার মধ্যেও কী সুগভীর বৈদান্তিক তত্ত্ব নিহিত থাকত তা ভাবলে বিস্মিত হতে হয়! এরকম একটি কথা নিয়ে আলোচনা করা যাক। শ্রীশ্রীমায়ের কথা গ্রন্থে পাওয়া যায়, স্বামী অরূপানন্দকে মা বলছেন : “জ্ঞান হলে মানুষ দেখে ঠাকুর-ঠুকুর সবই মায়া—কালে আসছে, যাচ্ছে।”২ মা কত সাধারণভাবে কথাটি বলেছেন, অথচ সমস্ত অদ্বৈত-বেদান্তই এর মধ্যে লুকিয়ে আছে! আলোচনার সুবিধার জন্য আমরা কয়েকটি ধাপে মায়ের কথাটি বিশ্লেষণ করব। ‘জ্ঞান’ বস্তুত কী?: আমরা সাধারণভাবে কী দেখি, জানি বা অনুভব করি?—এই নাম-রূপের জগৎ-সংসারকে। বেদান্ত বলে, এই জানা ঠিক নয়। এটি আমাদের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অজ্ঞানের ফল। এর ফল সাংঘাতিক—আমরা এই নানাত্ব-পূর্ণ জগৎ দেখছি, যার মধ্যে আমরা অতি ক্ষুদ্র এক বিন্দুপ্রায় অস্তিত্বমাত্র। আমাদের বাইরে এক বিরাট জগৎ বিদ্যমান; অন্যদিকে, আমাদের বহু অভাব এবং চাহিদা রয়েছে। আমরা ভাবছি, আমাদের এমন বহু কিছু নেই যা আমরা বাইরের জগৎ থেকে পেতেই পারি। সেই বাইরের বিরাট জগতের সঙ্গে আদান-প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের আমরা সুখী করতে চাই, সুখভোগের বস্তু পেতে চাই। এই কামনার বশেই আমরা সারাজীবন কর্ম করে চলেছি। কিছু কর্ম ভাল, কিছু কর্ম মন্দ। ভাল কর্মের ফল পুণ্য, কুকর্মের ফল পাপ। এর ওপর ভিত্তি করেই আমরা একের পর এক জন্মলাভ করছি। তার সঙ্গে আমরা এই জন্ম-মরণ-সংকুল সংসারে ঘুরপাক খেয়ে চলেছি। সংক্ষেপে এই হলো বেদান্ত-মতে আমাদের সংসার-দুর্ভোগের কারণ। অর্থাৎ, যাবতীয় সংসার-দুঃখের সূত্রপাত আমাদের প্রকৃত স্বরূপ...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹80/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in