ভারতের অতীত ঐতিহ্যের বর্ণময় নিদর্শনগুলি দেখে শিহরন জাগে। অবাক হতে হয়
ভারতের অতীত ঐতিহ্যের বর্ণময় নিদর্শনগুলি দেখে শিহরন জাগে। অবাক হতে হয় সেযুগের শাস্ত্রপ্রণেতা, কলাকুশলী, স্থাপত্যবিদ, প্রতিমাশিল্পীর চিন্তাভাবনার গভীরতায়। বিস্ময় জাগে সেকালের শাসক এবং ধর্মীয় উপদেষ্টাদের পরিকল্পনা গ্রহণ ও রূপায়ণের চরম উৎকর্ষে। ভাবতে ভাল লাগে, যেসব যশস্বী ভাস্কর তাঁদের সৃষ্টিকর্মের গৌরবময় দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন অজন্তা-ইলোরা, মীনাক্ষী-মন্দির, রামেশ্বরম-মন্দির, তাঞ্জাভুরে বৃহদেশ্বর-মন্দির, কোনারকে সূর্য-মন্দির, ভুবনেশ্বরে লিঙ্গরাজ-মন্দির, পুরীর জগন্নাথ-মন্দির, রাজপুতানার গিরিদুর্গের মতো হাজার হাজার দেবালয়, সৌধ, কেল্লা-প্রাসাদে—আমরা সেসকল মহান কারিগরের উত্তরসূরি। একথা মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করতে হয়, মূর্তি, ভাস্কর্য ও দেউল অলংকরণে তাঁরা এমন আশ্চর্য কীর্তি স্থাপন করে গেছেন, যার অর্থ অনুসন্ধান করতে গিয়ে আমাদের জ্ঞানের দীনতা প্রকট হয়ে পড়ে। ঝাড়গ্রাম জেলাতেও খুঁজে পাওয়া গেছে সেসকল সৃষ্টিশীল নায়কদের নির্মাণকৌশলের বেশ কিছু নিদর্শন। এগুলির মধ্যে একই অঙ্গশৈলীর তিনটি অদ্ভুতদর্শন প্রস্তরমূর্তি প্রসঙ্গে এই আলোচনা। বাংলার অন্য কোনো মন্দিরে এরকম মূর্তি রয়েছে বলে জানা নেই। এই মূর্তিগুলির পরিচয় সম্বন্ধে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ সংগ্রহশালায় হুবহু একই অঙ্গবিন্যাসের একটি মূর্তি রক্ষিত আছে। পরিচয় দেওয়া রয়েছে—‘দেউলচারিণী’। মূর্তিটি ভুবনেশ্বর থেকে সংগৃহীত। সংগ্রহশালা পরিদর্শনের পর জানা গেল, ঝাড়গ্রামের তিনটি মূর্তিই ‘দেউলচারিণী’। এদের ‘মন্দিরচারিণী’ও বলা হয়। আনুমানিক ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত ঝাড়গ্রাম-সহ সমগ্র মেদিনীপুর ছিল ওড়িশার অধীন। তখন ওড়িশার রাজা-জমিদারগণ ঝাড়গ্রাম অঞ্চল শাসন করতেন। তাঁরাই তৎকালীন জঙ্গলাকীর্ণ ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন স্থানে নগর গড়ে তার মধ্যে মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। সেসমস্ত মন্দিরের মধ্যে প্রায় অক্ষত তিনটি মন্দির হলো—নয়াগ্রাম ব্লকের দেউলবাড় গ্রামে সুবর্ণরেখা নদীতীরবর্তী রামেশ্বর শিবমন্দির, সস্তনি গ্রামে সহস্রলিঙ্গ শিবমন্দির এবং গোপীবল্লভপুর ব্লকের গিলাকাটিয়া গ্রামে শিবমন্দির। কোথাও সেই প্রাচীন মন্দির একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে। কেবল পড়ে রয়েছে কয়েকটি মূর্তি এবং মন্দিরের ভগ্ন প্রস্তরখণ্ড। যেমন নয়াগ্রাম ব্লকের দোলগ্রামে রয়েছে প্রাচীন দেউলের ধ্বংসাবশেষ। এই মন্দির-চত্বরে পাওয়া গেছে নীলাভ পাথরে খোদিত এক জোড়া সুদর্শন অশ্বারোহী যোদ্ধামূর্তি। আবার কোনো কোনো প্রাচীন মন্দির সংস্কার করে পৃথক দেবতা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং নতুনভাবে নামকরণ হয়েছে। ঝাড়গ্রাম রাজবংশের সাবিত্রী-মন্দির এরকম একটি...
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
