ভারতীয় ভক্তিশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণের চরিত্র চিরকাল এক অপার বিস্ময়। তিনি একাধারে জগতের

ভারতীয় ভক্তিশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণের চরিত্র চিরকাল এক অপার বিস্ময়। তিনি একাধারে জগতের নিয়ন্তা ও পালনকর্তা, অপরদিকে বৃন্দাবনের রাখাল বালক—যিনি গোপ-গোপীদের সহিত বংশীবাদন, নৃত্যগীতে দিন অতিবাহিত করেন। ভক্তিশাস্ত্র এই দুই রূপকেই ভগবানের স্বাভাবিক প্রকাশ বলিয়া স্বীকার করিয়াছে—একদিকে ঐশ্বর্য, অন্যদিকে মাধুর্য। ঐশ্বর্যরূপে ভগবান দণ্ডদাতা, ধর্মসংস্থাপক, দুষ্টের দমনকারী। সেই রূপ দর্শনে মনে ভয় ও বিস্ময় জাগে, দূরত্ব অনুভূত হয়। কিন্তু মাধুর্যরূপে তিনি নিজের ঐশ্বর্য নিজেই আড়াল করিয়া ভক্তহৃদয়ের নিকটতম মানুষ হইয়া যান। এই কারণেই কুরুক্ষেত্রে অর্জুন-সারথিরূপে আর বৃন্দাবনে বংশীধারী রাখালরূপে শ্রীকৃষ্ণের দুই মূর্তিতে এত ভিন্নতা। মথুরা ও দ্বারকার জীবনে ঐশ্বর্যের প্রাধান্য থাকিলেও বৃন্দাবনের গোকুল-লীলায় মাধুর্যই মুখ্য। এমনকী যেখানে ঐশ্বর্যের প্রকাশ ঘটিয়াছে গিরিগোবর্ধন ধারণ কিংবা কালীয়দমনের ‌ক্ষেত্রে—সেখানে ব্রজবাসীর নিকট তাহা বিস্ময় উৎপাদন করিলেও ভয় বা দূরত্ব সৃষ্টি করে নাই; কারণ ব্রজের ঐশ্বর্য সর্বদাই মাধুর্যে আচ্ছাদিত। এই বিশেষত্ব ব্রজলীলাকে মথুরা-দ্বারকার ঐশ্বর্যপ্রধান লীলা হইতে স্বতন্ত্র করিয়া তুলিয়াছে। ব্রজবাসীদিগের কৃষ্ণপ্রেমের গভীরতা দর্শন করিয়া গোপগণই একদা বিস্ময় প্রকাশ করিয়াছিলেন। একটি শিশুর পক্ষে বিবিধ অতিলৌকিক কার্য কীরূপে সম্ভব, আর তাহার প্রতি সমস্ত ব্রজবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত, গভীর অনুরাগের রহস্য কী—এই প্রশ্ন তাঁহারা নন্দরাজাকে করিয়াছিলেন। ভাগবত-এ রাজা পরীক্ষিৎ শুকদেবকে জিজ্ঞাসা করিয়াছেন—যে-স্নেহ ব্রজবাসীদের আপন সন্তানের প্রতি হয় নাই, তাহা অপরের সন্তান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি কেমন করিয়া হইল? শুকদেবের উত্তর গভীর দার্শনিক তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলিলেন, সংসারের সকল প্রাণীই সবচেয়ে বেশি ভালবাসে নিজেকে অর্থাৎ আত্মাকে। পুত্র, সম্পত্তি বা অন্য সবকিছু প্রিয় হয় আত্মার প্রিয় বলিয়া। শুকদেব শ্রীকৃষ্ণকে সকলের আত্মার আত্মা বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন—যিনি জগতের কল্যাণের নিমিত্ত মায়াবশত দেহধারীরূপে প্রকাশিত হন, প্রকৃতপক্ষে তিনি দেহী নহেন। তাঁহার প্রতি সর্বাধিক প্রেম হওয়াই স্বাভাবিক, যেহেতু তিনিই সকলের অন্তরতম আত্মস্বরূপ। মাধুর্যভাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হইল রসতত্ত্ব। শ্রীকৃষ্ণকে ভাগবত-এ সকল রসের বিষয়রূপে বর্ণনা করা হইয়াছে—যাহার প্রকৃত আস্বাদক জীব বা মানুষ। শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য ও মধুর—এই পঞ্চ মুখ্য রসে ভক্তকে ভাবিত করিয়া তিনি নিত্য লীলা করিতেছেন। প্রত্যেক ভক্ত হৃদয়ের স্বাভাবিক ভাব অনুসারে এই...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in