কোনো নগরর‌ক্ষক এক ব্যক্তিকে বেঁধে রেখেছিল। সে সেইজন্য সমস্ত রাত্রি দুঃখে ছিল।

।।কৃতজ্ঞতা।। কোনো নগরর‌ক্ষক এক ব্যক্তিকে বেঁধে রেখেছিল। সে সেইজন্য সমস্ত রাত্রি দুঃখে ছিল। হঠাৎ অন্ধকার রাতে এক ‌ক্ষুধার্ত দরিদ্রের “হায়! অন্ন নেই”— এই বিলাপধ্বনি তার কানে প্রবেশ করল। তখন সে বলল : “ভাই, তুমি কিঞ্চিৎ অন্নের অভাবে ঘুমাতে পারছ না, ঈশ্বরের কাছে এই বলে কৃতজ্ঞ হও যে, নগরর‌ক্ষক তোমার হাত-পা শক্ত করে বেঁধে রাখেনি।” যখন দেখছ, তোমার থেকে অনেক বেশি অভাবী লোক আছে, তখন নিজের অভাবে খেদ করো না। অন্যের দুরবস্থায় সঙ্গে নিজের অবস্থার তুলনা করে কৃতজ্ঞ থাক। ২।।বিনয়।। এক মধুরভাষী মধুবিক্রেতা ছিল। তার সহাস্য মুখের সুমধুর বিনম্র কথাতে সকলের হৃদয় বিগলিত হতো। এজন্য তার কাছে সর্বদা ক্রেতাদের ভিড় থাকত। তার মধুর গ্রাহক ম‌ক্ষিকাদের থেকেও বেশি ছিল। সে বিষ দিলেও মধু বলে লোকে তা সমাদরে গ্রহণ করত। তার এই ব্যবসার অসাধারণ উন্নতি দেখে, একজন তাকে হিংসা করতে শুরু করল। সে একদিন মধুপূর্ণ ভাণ্ড মাথায় নিয়ে বিক্রির জন্য নগরের পথে পথে, দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াল। সারাদিন ঘুরে কটু কর্কশ স্বরে ‘মধু মধু’ বলে চিৎকার করে একটি ম‌ক্ষিকাকেও পেল না। যখন সন্ধে পর্যন্ত চেষ্টা করে এক কপর্দকও হাতে পেল না, তখন মহাদুঃখে ঘরের কোণে গিয়ে বসে থাকল। এটা দেখে তার সহধর্মিণী কৌতুক করে তাকে বলল : “নাথ, তুমি কি জান না যে, তিক্তভাষীর হাতে মধুও তিক্ত হয়।” যে-ব্যক্তি বিরস মুখে অন্ন পরিবেশন করে, তার অন্ন তোমার কাছে অখাদ্যই হবে। কটূক্তি ও অবিনয়ে নিজের অনিষ্ট সাধন করো না, অপ্রিয়ভাষী উদ্ধত লোকের ভাগ্য কখনো অনুকূল হয় না। ৩।।পরোপকার।। এক সদাশয় দয়ালু পুরুষ দোকান থেকে শস্যপূর্ণ বাজরা কাঁধে করে বাড়িতে এসে দেখলেন যে, সেই বাজরার মধ্যে একটি পিঁপড়ে স্থানচ্যুত হয়ে ইতস্তত দৌড়ে বেড়াচ্ছে। সেই রাতে ঐ ব্যক্তির নিদ্রার বিঘ্ন হলো; তিনি স্থির থাকতে পারলেন না। “এই দুর্বল ‌‌ক্ষুদ্র জীবকে স্থানচ্যুত করে দুঃখিত রাখা ঠিক নয়।”—এই বলে তিনি রাত্রেই পিঁপড়েটিকে যথাস্থানে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিলেন। চিন্তাকুল ব্যক্তির মন...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in