বৈদিক ঋষিদের সাধনক্ষেত্র বেদ-পুরাণের প্রয়াগ, মোগল রাজত্বের এলাহাবাদ। এখানেই
বৈদিক ঋষিদের সাধনক্ষেত্র বেদ-পুরাণের প্রয়াগ, মোগল রাজত্বের এলাহাবাদ। এখানেই ছিল এবারের পূর্ণকুম্ভ। জীবনের উপান্তে কুম্ভস্নানের সুযোগ নিতেই হবে। সেই উদ্দেশ্যেই যাত্রা করলাম। ১২ জানুয়ারি ২০২৫ প্রয়াগরাজ স্টেশনে পৌঁছে তো অবাক। মাঝরাতে শুনশান অটোস্ট্যান্ড। কী করি? হঠাৎ একজনের সঙ্গে দেখা। তিনিই আমাদের পৌঁছে দিলেন শিবিরে। শীতার্ত ভোরের শঙ্করাচার্য মার্গ। ওপরে আড়াআড়ি ব্রিটিশ আমলের ঝুসিদারাগঞ্জ রেলপথে পুরানো রেলব্রিজ। উত্তর-ঝুসির শেষ প্রান্তের এই জায়গাই প্রয়াগকুম্ভে রামকৃষ্ণ মিশনের পাকাপাকি ঠিকানা। মেলা এখনো তেমন সেজে ওঠেনি। নড়বড়ে তাঁবুতে এক নাগা সাধু ডমরু বাজিয়ে গালবাদ্য করছেন, মন্ত্র পড়ছেন। যজ্ঞকুণ্ডে আহুতির পর ইশারায় ডেকে টিকা দিলেন। জিজ্ঞেস করলাম : “আপ কাহাসে আয়া মহারাজ?” উত্তর এল—“এম. পি., হোসেঙ্গাবাদ।” বড় বড় আখড়ার প্রবেশপথে নানা বিশেষণে গুরু-পরম্পরার ছবি ও পরিচয়। ভিতরে পুরোদমে কাজ হচ্ছে। এমনই এক শঙ্করাচার্য আখড়া। লম্বা-চওড়া শামিয়ানার নিচে একদল বৈদিক শিক্ষার্থী বিদ্যাভ্যাস করছে। পাশেই ডাঁই করা ইট-পাথর। সারি সারি যজ্ঞকুণ্ড দেখিয়ে এক ব্রহ্মচারী জানালেন : “ইয়ে তিনশো পচ্চিশ হবনকুণ্ড। বিশ্বশান্তি কে লিয়ে যজ্ঞ হোগা। কাল সামকে বাদ আইয়ে।” তবে সবকিছু ছাপিয়ে গেছে একশো চুয়াল্লিশ বছর পর মহাকুম্ভের প্রচার। কোথাও কৃষ্ণলীলা, কোথাও রামযাত্রা। রাতের খাওয়ার পর ফাঁকা রাস্তায় নামলাম। কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ। সর্বত্র কীর্তন-ভজনের সুর। অপূর্ব পরিবেশ! ১৩ জানুয়ারি সোমবার পূর্ণিমায় পূর্ণকুম্ভের আনুষ্ঠানিক সূচনা। হেলিকপ্টার থেকে হচ্ছে পুষ্পবৃষ্টি। প্রাতরাশ করে সস্ত্রীক চললাম স্নানের উদ্দেশে। কাতারে কাতারে পুণ্যার্থী—গায়ে কম্বল, মাথায় বোঁচকা, কাঁধে-কোলে শিশু। একা বা দলবদ্ধ হয়ে চলেছেন সাধুরা। লক্ষ্য—গঙ্গার ওপারে সঙ্গম। পন্টুন ব্রিজে এখন ঠাসাঠাসি ভিড়। ঝুঁকি এড়াতে এপাড়েই রইলাম। কাস্তের মতো দীর্ঘ গঙ্গাপাড়। হাত দশেক দূরে নীল-কমলা ব্যারিকেড। সেখানে এন.ডি.আর.এফ. কর্মী, রবারবোটে জলপুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। পাড়ে চাদর পেতে অসংখ্য স্নানার্থী। অনেকে মাথা মুণ্ডন করে পিণ্ডদান করছেন। বোল উঠছে—‘হর হর মহাদেব’, ‘জয় কুম্ভ’, ‘গঙ্গা মাইকী জয়’। প্রয়াগে এই প্রথম স্নান। অবশ্য ঠাণ্ডার ঝুঁকিটা কুম্ভযোগেই নেওয়া যাবে। এখন মাথায় জল ছিটিয়ে নিলাম। দশটার পর মেলা দেখতে চললাম। আখড়ার বাইরে সারবন্দি মোটরভ্যান, কাঠের...
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
