কনখলে এই সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা স্বামী নিরঞ্জনানন্দজীর মহানির্বাণ।
[পূর্বানুবৃত্তি : আষাঢ় ১৪৩৩ সংখ্যার পর]।।৩।।নবম প্রশাখা : ১৯০৪ কনখলে এই সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা স্বামী নিরঞ্জনানন্দজীর মহানির্বাণ। স্বামীজীর দেহত্যাগের পর তিনি আর বেশি দিন ধরাধামে ছিলেন না। বেলুড় মঠ ও কলকাতায় থাকাকালে পুরানো ব্যাধি আমাশয়ের অত্যন্ত বৃদ্ধিতে শরীরত্যাগের সংকল্প নিয়ে তিনি হরিদ্বারে এসেছিলেন। চিরবিদায়ের ডাকে অন্তর সাড়া দিয়েছিল বলেই হয়তো এই সময়ে শ্রীশ্রীমায়ের প্রতি অনুরক্তি শতধা উথলে উঠেছিল। আগমনের পূর্বে মায়ের কাছে গিয়ে আবদার করে মায়ের সুরন্ধিত অন্ন মায়ের হাতেই গ্রহণ করলেন। অসহায় শিশুর মতো জয়রামবাটীতে উপস্থিত হয়ে প্রতিটি কার্যের জন্য মায়ের মুখপানে তাকিয়ে নির্দেশের অপেক্ষা করতেন। বিদায়কালে ধৈর্য আর বাঁধ মানল না, আকুল নয়নে মাতৃচরণে অঝোরে কেঁদে লুটিয়ে পড়লেন। হরিদ্বারে এসে স্বামী নিরঞ্জনানন্দজী প্রথমে একটি ভাড়াবাড়িতে উঠেছিলেন বলে শ্রীরামকৃষ্ণ-ভক্তমালিকায় বর্ণিত আছে। তবে স্বামী সর্বগতানন্দ শুনেছিলেন যে, কোনো ছোট কুটিরে থাকতেন। সেখানে থাকতেই অদূরে সেবাশ্রমের কথা জানতে পারেন। রোগক্লিষ্ট দেহে তিনি মাঝে-মধ্যেই আশ্রমে এসে স্বামী কল্যাণানন্দকে নানান কাজে সহায়তা করতেন। তখনো তিনি অমেয় বলশালী ছিলেন। সেবাশ্রমের বড় বড় কাঠের কড়িগুলো যতক্ষণ না সাজানো হচ্ছে, ততক্ষণ হাতে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতেন। একবার একটি বিশাল কড়ি মাটি থেকে ওঠানোর দরকার ছিল। কিন্তু স্বামী কল্যাণানন্দ কোনো লোক পাচ্ছিলেন না। সেই সময় সহসা নিরঞ্জনানন্দজী মহারাজ সেখানে উপস্থিত হয়ে স্বামী কল্যাণানন্দের সহায়তায় অক্লেশে সেটিকে তুলে ফেললেন। তারপর ঠিকমতো সেটিকে বসানো গেল। সারাদিনের বেশির ভাগ সময়ই মহারাজ তাঁর কুটিরের নিভৃতিতে জপ-ধ্যান করে কাটাতেন। আমাশয় রোগে তো তিনি ভুগছিলেনই; হঠাৎ তার ওপর বিসূচিকা দেখা দিলে তাঁর অন্তিম সময় আসন্ন হলো। কনখলে দক্ষেশ্বর শিবমন্দিরের দক্ষিণে গঙ্গাকিনারায় তাঁর ঝুপড়িতে ১৯০৪ সালের ৯ মে স্বামী নিরঞ্জনানন্দজীর শেষদিন অতিবাহিত হয়। স্বামী গম্ভীরানন্দের অনুপম প্রাণসজল ভাষায় আমরা সেই বিদায়গাথা পাঠ করব—“…বীরভক্ত জগজ্জননীর ক্রোড়ে বীরশয্যায় চিরতরে চক্ষু মুদ্রিত করিলেন—সে দৃশ্য একদিকে যেমন হৃদয়বিদারক, অপরদিকে তেমনই বৈরাগ্যমণ্ডিত। পুণ্যতোয়া জাহ্নবীসকাশে তিনি শেষশয্যা গ্রহণ করিয়াছিলেন; সেবক কত অনুরোধ জানাইলেন শেষমুহূর্তে সান্নিধ্যলাভ ও সেবার অনুমতি পাইতে; কিন্তু নিঃসঙ্গ সন্ন্যাসীর...
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
