শ্রীমা সারদাদেবীর মন্ত্রশিষ্য কয়েকজন সাধু ও ভক্তদের দর্শন করার সৌভাগ্য হয়েছে।

শ্রীমা সারদাদেবীর মন্ত্রশিষ্য কয়েকজন সাধু ও ভক্তদের দর্শন করার সৌভাগ্য হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রধানত স্বামী প্রেমেশানন্দ, স্বামী বিশুদ্ধানন্দ, স্বামী শান্তানন্দের সংস্পর্শে এসেই সাধুজীবন গঠন, সাধন ও সাধুজীবনের বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধান প্রসঙ্গে নির্দেশাদি পেয়েছি। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই স্বামী অনাময়ানন্দের সান্নিধ্যে বহরমপুর মিশনে আমার যাতায়াত শুরু হয়। কৈশোরকালে সেখানে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করলেও, কয়েক বছর পরে স্বামী প্রেমেশানন্দের সান্নিধ্যেই আমার প্রকৃত সংঘজীবনের সূচনা ঘটে। ১৯৩৭ সালে স্বামী অখণ্ডানন্দজীর মহাসমাধির পর স্বামী প্রেমেশানন্দ সারগাছি আশ্রমের অধ্যক্ষ হয়ে আসেন। পরবর্তিকালে তিনি বহরমপুরে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সাবসেন্টার হিসাবে আশ্রমের সূচনা করেন। সেখানে নিয়মিতভাবে ঠাকুর, মা ও স্বামীজীর জন্মোৎসব পালিত হতো। এই অনুষ্ঠানগুলিকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে একটি শ্রীরামকৃষ্ণ-ভক্তগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। পরবর্তিকালে সেই ভক্তসমাজ থেকেই আবার কয়েকজন সংঘে যোগদান করেন। পরবর্তিকালে স্বামী সুখদানন্দের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করে স্বামী প্রেমেশানন্দ সারগাছিতেই অবসরজীবন যাপন করতে থাকেন। এমনই একদিন স্বামী প্রেমেশানন্দকে প্রণাম করতে গিয়ে তাঁর কথার সূত্রে আমার মনে অন্তর্জীবন সম্পর্কে গভীর চিন্তার উদয় হয়। সেই ভাবনারই পরিণতিতে ১৯৫৭ সালে পরীক্ষা শেষ করে আমি সারগাছি আশ্রমে চলে আসি। আশ্রমে এসে প্রেমেশানন্দ মহারাজের সেবার সুযোগ লাভ করি। তখন তাঁর শরীর বেশ অসুস্থ ছিল। একই সঙ্গে আমাকে আশ্রম-সংলগ্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার দায়িত্বও দেওয়া হয়। ফলে সবসময় তাঁর কাছে থাকার সুযোগ না পেলেও যতবারই তাঁর সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে, ততবারই নানা মূল্যবান উপদেশ লাভ করেছি। একদিন প্রেমেশানন্দ মহারাজ আমাকে বললেন : “তুমি আমার এমনই সেবা করছ, তোমাকে এই তিনটি শ্লোক লিখে দিলাম”—১) “যেষাং ত্বন্তগতং পাপং জনানাং পুণ্যকর্মণাম্‌।/ তে দ্বন্দ্বমোহনির্মুক্তা ভজন্তে মাং দৃঢ়ব্রতাঃ।।”১ ২) “অনন্যাশ্চিন্তয়ন্তো মাং যে জনাঃ পর্যুপাসতে।/ তেষাং নিত্যাভিযুক্তানাং যোগ‌ক্ষেমং বহাম্যহম্‌।।”২ ৩) “অষ্টাদশপুরাণেষু ব্যাসস্য বচনদ্বয়মং।/ পরোপোকারঃ পুণ্যায় পাপায় পরপীড়ণম্‌।।”৩ তিনি সর্বদাই বলতেন : “গোটা গীতাখানা মুখস্থ করা চাই। আমার মুখস্থ আছে।” তাঁর কাছেই গীতা পড়া শুরু হয়। একদিন সকালে ঠাকুরঘরে নিত্যকর্ম করে তাঁর ঘরের বাইরের বারান্দায় বসে আছি, এমন সময়...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in