৩০ জানুয়ারি (২০২৫) বিকালে আমরা গেলাম চ্যাটসওয়ার্থ আশ্রমে। এখানকার এক
[পূর্বানুবৃত্তি : আষাঢ় ১৪৩৩ সংখ্যার পর]।।৪।।আট ৩০ জানুয়ারি (২০২৫) বিকালে আমরা গেলাম চ্যাটসওয়ার্থ আশ্রমে। এখানকার এক ভূমিপুত্র আমাদের সংঘে সন্ন্যাসী হয়েছেন, নাম স্বামী বিপ্রানন্দ। আগে এটা ছিল রুক্ষ পাথুরে জমি। ভারতীয়রা ধীরে ধীরে জায়গাটিকে সুসমৃদ্ধ করে তোলে। এই অঞ্চলে আজও অধিকাংশ ভারতীয়রা বাস করেন। তবে এখানে দরিদ্র বেশি। আমাদের আশ্রম থেকে মাসে একদিন গণভোজন ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিশেষ দিনগুলিতেও নানা জিনিসপত্র দেওয়া, চিকিৎসা পরিষেবা ইত্যাদির ব্যবস্থা তো আছেই। অবশ্য এসমস্ত সেবাকাজ কেন্দ্র থেকেই করা হয়। এছাড়া কৃষিকাজে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টাও রয়েছে। যখন সেখানে গেলাম, দেখি জলের অভাব। শুনলাম মাঝে-মাঝেই নাকি জল থাকে না! অনুষ্ঠান-শেষে রাত্রে প্রসাদ পেয়ে ফিরে এলাম আভোকা আশ্রমে। পরদিন ৩১ জানুয়ারি ছিল স্বামী ব্রহ্মানন্দজীর তিথিপূজা। বিকালবেলায় যাওয়া হলো অ্যাশারভিলের শ্রীসারদাদেবী আশ্রমে। এটিও ভারতীয়-অধ্যুষিত এলাকা, ডারবান শহরের একপ্রান্তে। আশ্রমটি আরম্ভ হয়েছিল এই অঞ্চলের ভারতীয়দের জন্য। সেসময় স্বামী শিবপাদানন্দের কাছে কয়েকজন শ্বেতাঙ্গ ও ভারতীয় মহিলা সন্ন্যাসিনী-রূপে যোগদান করেছিলেন। অ্যাশারভিলের আশ্রমটি তিনি সন্ন্যাসিনীদের পরিচালনার জন্য পৃথক করে দেন। এই আশ্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন স্বামী নিঃশ্রেয়সানন্দ। আশ্রম-পরিচালনায় পরামর্শ দিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ সংঘের তদানীন্তন সংঘাধ্যক্ষ স্বামী বীরেশ্বরানন্দজী। ১৯৮৪ সালে আশ্রমের দ্বারোদ্ঘাটনেও আশীর্বাণী পাঠিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে একজন মাত্র সন্ন্যাসিনী এই আশ্রমের দায়িত্বে আছেন। এর ঠাকুরঘর তথা হলঘরটি খুব সুন্দর, ঠাকুরের মর্মর মূর্তিটি অপূর্ব। নির্মাতা কলকাতার জি. পাল অ্যান্ড সন্স। মাতাজীর পরিচালনায় আশ্রমটি খুবই সংগঠিত ও সুনিয়ন্ত্রিতভাবে কাজ করে চলেছে। এটি রামকৃষ্ণ মঠের অন্তর্ভুক্ত নয়—যেহেতু মায়েদের আশ্রম; তবে ডারবান আশ্রমের পরামর্শমতোই এটি পরিচালিত হয়। এখানেও প্রায় একঘণ্টা অনুষ্ঠান হলো—একই ছকে বাঁধা। আশ্রমের চূড়াটি শিবলিঙ্গের আকারে, তার ওপরে রয়েছে সুদৃশ্য ওঁ-কার, বহুদূর থেকে দেখা যায়। বাড়িটি এখানকার একটি ‘ল্যাণ্ডমার্ক’। ডারবানের উপকণ্ঠে এই চ্যাটসওয়ার্থ ও অ্যাশারভিল আশ্রমের রূপকার ছিলেন স্বামী শিবপাদানন্দ। আমরা মনে করি, আমরাই যেন শ্রীরামকৃষ্ণকে প্রচার করছি! কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, তিনি তাঁর ভাব নিজেই প্রচার করছেন, তাঁর...
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
