“মোদের গরব, মোদের আশা,/ আ মরি বাংলা ভাষা!/ তোমার কোলে তোমার বোলে/ কতই

“মোদের গরব, মোদের আশা,/ আ মরি বাংলা ভাষা!/ তোমার কোলে তোমার বোলে/ কতই শান্তি ভালোবাসা।”১ অতুলপ্রসাদ সেনের লেখা এই পঙ্‌ক্তিগুলি নিশ্চয়ই সকলের স্মরণে এসেছিল, যখন জানা যায়, বাংলা ‘ধ্রুপদি ভাষা’র মর্যাদা পেয়েছে। দিনটা ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদি ভাষার স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতি সকল বাংলাভাষীর কাছে গর্ব ও আনন্দের। বাংলা কেন পেল এই স্বীকৃতি, আর কোন কোন ভারতীয় ভাষা এই স্বীকৃতির অধিকারী বা এই স্বীকৃতি পেলে বাংলা ভাষাচর্চায় কী কী সুবিধা হবে—এমন সব প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এর উত্তর খুঁজতে নানা তথ্য সংগ্রহ এবং এই প্রবন্ধের উত্থাপন। প্রথমেই আসা যাক, ধ্রুপদি ভাষা বলতে কী বোঝায়। George L. Hart-এর মতে ধ্রুপদি ভাষা হলো—‘a language must fit several criteria : it should be ancient, it should be an independent tradition that arose mostly on its own not as an offshoot of another tradition, and it must have a large and extremely rich body of ancient literature.’২ যে-সকল ভারতীয় ভাষার প্রাচীনত্ব আছে, মূল্যবান ও স্বতন্ত্র সাহিত্যিক ঐতিহ্য আছে, ভারত সরকার সেই ভাষাগুলোকে ধ্রুপদি ভাষা হিসাবে চিহ্নিত করা শুরু করে ২০০৪ সাল থেকে। ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রক ও ভাষাতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ কমিটি মিলে ‘ধ্রুপদি ভাষা কমিটি’ গঠন করা হয়। এই কমিটি ধ্রুপদি ভাষা নির্বাচনের কয়েকটি মানদণ্ড নির্দিষ্ট করে। এর বেশ কিছু পরিবর্তনও পরবর্তিকালে হয়েছে। ২০০৪ সালে ধ্রুপদি ভাষা নির্বাচনের মানদণ্ড ছিল—১) ভাষাটির লিপিবদ্ধ ইতিহাস বা প্রাচীনতম নথির বয়স হতে হবে হাজার বছরের বেশি। ২) ভাষাটির আদি-সাহিত্যিক একটি নমুনা থাকতে হবে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম সাধারণ মানুষের কাছে মূল্যবান ঐতিহ্য হিসাবে বিবেচিত হবে। ৩) ভাষাটির সাহিত্যিক পরম্পরা মৌলিক হতে হবে এবং অন্য কোনো ভাষা-সম্প্রদায় থেকে ধার করা হলে চলবে না। এই মানদণ্ডের প্রেক্ষিতে ভারতীয় ভাষা হিসাবে তামিল ২০০৪ সালে ধ্রুপদি ভাষার মর্যাদা পায়। কিছু পরিবর্তন করে ২০০৫ সালে ধ্রুপদি ভাষা নির্বাচনের যে নতুন...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in