বৈশাখের ঊষরতায় এক বৈরাগ্য আছে। বিশেষ করে তার বিকেলে।
বৈশাখের ঊষরতায় এক বৈরাগ্য আছে। বিশেষ করে তার বিকেলে। সারাদিনের খরতাপ যেন শ্রান্ত জীবনের ঘর্মাক্ত অশ্রু। অন্যদিকে মোহনীয় অমলতাস সোনালি হাতছানি দেয়, অবসন্ন জীবনকে ঝলমলে করার মলিন দৌড়ে। তখনি বিকেল নামে পশ্চিম দিগন্তে। জীবনের পড়ন্ত বেলায় মহাকালের মতো মিশকালো মেঘ জটার ওপর জটা বাঁধে। প্রবল ঝঞ্ঝার বিক্ষুব্ধ উল্লাসে, কালবৈশাখী ছিন্নভিন্ন করে অমলতাসের অধরা কলি। অকাল অন্ধকারে সে-ফুল যেন আরো মায়াবী এখন। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে তার সোনালি রং—নদীর চলমান জলে, মাটির ওপর চেয়ে থাকা শক্ত শিকড়ে। জীবনের নদী হতে চায় বর্ণিল। আর প্রাচীন শিকড় সংস্কারের মতো সোনালি স্বপ্ন আঁকড়ে তখনো চাইছে বাঁচতে। দমকা নির্বিকার ঝড় সেই সংস্কারের জড়কেই উপড়ে ফেলছে যেন! দেখতে দেখতে আকাশপথে বৃষ্টি ভাঙে করুণার ধারায়। শ্রান্ত মনে নব দূর্বাদলের কমনীয়তায় জমে ওঠে শ্যামলিমা। দাবদাহের শেষে আষাঢ়ের ঘন-বাদল মেঘের আখরে লিখে দেবে তার পরিপূর্তি। বৈরাগ্যের হাত ধরে মনোমঞ্চে তখন প্রেমের প্রবেশ।
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
