পবিত্র হিমালয়ের প্রবেশদ্বারই হলো হরিদ্বার। মহারাজা সগরের ষাটহাজার পুত্রের
“তস্মাদ্ গচ্ছেরনুকনখলং শৈলরাজাবতীর্ণাংজহ্নোঃ কন্যাং সগরতনয়স্বর্গসোপানপঙ্ক্তিম্।গৌরীবক্ত্রভ্রুকুটিরচনাং যা বিহস্যেব ফেনৈঃশম্ভোঃ কেশগ্রহণমকরোদিন্দুলগ্নোর্মিহস্তা।।” মহাকবি কালিদাস তাঁর ‘মেঘদূতম্’-এ জলধর মেঘকে কুরুক্ষেত্র থেকে কনখলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে কনখলের প্রাথমিক পরিচয় দিচ্ছেন এইভাবে—‘সেখান থেকে কনখলের কাছে হিমালয় থেকে অবতীর্ণা জাহ্নবীর কাছে যাবে—যিনি সগর- পুত্রদের স্বর্গারোহণের সোপানস্বরূপা এবং যিনি গৌরীর বদনের ভ্রুকুটি যেন ফেনদ্বারা উপহাস করে ঊর্মিরূপ হস্ত চন্দ্রে লগ্ন করে শম্ভুর কেশ গ্রহণ করেছিলেন।’১ হিমালয়ের পাদদেশে কনখল তথা হরিদ্বার ভারতীয় আধ্যাত্মিক ইতিহাসে প্রাচীন যুগ থেকেই উচ্চাসন লাভ করেছে। হরিদ্বারের বিভিন্ন ঘাট ও তীর্থস্থানকে ধৌত করে পুণ্যতোয়া গঙ্গা যুগের পর যুগ প্রবাহিত হয়ে চলেছেন। তীরসংলগ্ন তীর্থ পবিত্র হিমালয়ের প্রবেশদ্বারই হলো হরিদ্বার। মহারাজা সগরের ষাটহাজার পুত্রের উদ্ধারের জন্য সূর্যবংশীয় রাজা ভগীরথ স্বর্গ থেকে পতিতপাবনী গঙ্গাকে পৃথিবীতে আনেন। এই স্থানটি তাই ‘গঙ্গাদ্বার’ নামে পরিচিত হয়। যুগে যুগে তীর্থযাত্রীদের কাছে হরিদ্বারের উত্তরবাহিনী গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে পুণ্যস্নান বিশেষ রমণীয়। তবে হরিদ্বারের প্রাণস্বরূপ যে-ঘাট সকল তীর্থযাত্রীর কাছে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ, তা হলো ‘ব্রহ্মকুণ্ড’। একটি জনশ্রুতি অনুযায়ী, পৌরাণিক যুগে গঙ্গা যে ব্রহ্মাকমণ্ডলুর মধ্যে অবস্থিত ছিল, সেই আখ্যান চিরস্মরণীয় রাখার জন্যই এই ঘাটের এইরূপ নামকরণ। কিন্তু এর পিছনে অন্য একটি কাহিনিও রয়েছে। রাজা ভগীরথ গঙ্গাকে পৃথিবীতে আনলেন যে-সময়ে, তখন ইলাবৃত্ত খণ্ডের রাজা শ্বেত বহু বছর এখানে তপস্যায় প্রবৃত্ত ছিলেন। একসময় শ্বেতরাজার উপাসনায় সন্তুষ্ট হয়ে ব্রহ্মা স্বয়ং এই স্থানে আবির্ভূত হন এবং তাঁর প্রার্থনায় বর দেন যে, এইখানে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর ও গঙ্গা সর্বদা অবস্থান করবেন। সেই থেকেই এই ঘাটটির নামকরণ হয় ‘ব্রহ্মকুণ্ড’। বর্তমানে এটিই ‘হর-কী-পেয়ারী’ অথবা ‘হরি-কী-পেয়ারী’ নামে পরিচিত। শ্রীমা সারদাদেবী বৃন্দাবন থেকে হরিদ্বার তীর্থে পৌঁছে ব্রহ্মকুণ্ডে স্নান করেন। কলকাতা থেকে তিনি শ্রীশ্রীঠাকুরের পবিত্র কেশ ও নখ এনেছিলেন পুণ্যতীর্থজলে বিসর্জনের জন্য, ব্রহ্মকুণ্ডে তার কিয়দংশ তিনি বিসর্জিত করেন।২ এইখানেই মা গঙ্গার মন্দির-সংলগ্ন স্থানে ‘গঙ্গাস্তোত্র’ আবৃত্তিসহকারে হরিদ্বারের বিখ্যাত স্রোতস্বিনী গঙ্গার মনোরম আরতি করা হয়। প্রতি দ্বাদশবর্ষ অন্তর সূর্য মেষরাশিতে এবং বৃহস্পতি কুম্ভরাশিতে সংক্রমণকালে হরিদ্বারে কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়। তখন...
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
