স্মরণে চিত্তশুদ্ধি, স্পর্শে পাপক্ষয়, প্রাপ্তিতে মোক্ষলাভ—গঙ্গার এমনই মহিমা।

স্মরণে চিত্তশুদ্ধি, স্পর্শে পাপক্ষয়, প্রাপ্তিতে মোক্ষলাভ—গঙ্গার এমনই মহিমা। গঙ্গা তরঙ্গময় ব্রহ্মস্বরূপ। কলিতে গঙ্গাই তীর্থ, সকল তীর্থের শিরোমণি। মহাভারত-এ বলা হয়েছে, গঙ্গাস্নানে ও গঙ্গাবারি পানে ঊর্ধ্বতন সাত পুরুষ পবিত্র হয়ে যায়।১ অগ্নিপুরাণ-এ অগ্নিদেব গঙ্গামাহাত্ম্য প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, যে-স্থানের ওপর দিয়ে গঙ্গা প্রবাহিত হয়, সে-স্থান গঙ্গাতুল্যই পরম পবিত্র।২ গঙ্গা সর্বত্রই কলুষবিনাশিনী, আনন্দবিধায়িনী, তবে ভারতের তিনটি স্থানে তিনি মোক্ষফলের কল্পবৃক্ষ। পুরাণকথা বিষ্ণুচরণসম্ভূতা গঙ্গা স্বর্গলোক থেকে অবতীর্ণ হয়ে হিমালয়কে ভেদ করে হরিদ্বারের সমতলভূমি স্পর্শ করেছেন মর্তবাসীকে অমর্ত করার ল‌ক্ষ্যে। তাই পুরাণ ও মহাকাব্যে এই স্থান ‘গঙ্গাদ্বার’ নামে খ্যাত। হরিদ্বার সম্পর্কে মহাভারত-এর ঘোষণা—‘স্বর্গদ্বারেণ যত্তুল্যং গঙ্গাদ্বারং ন সংশয়ঃ।’৩ অর্থাৎ গঙ্গাদ্বার (হরিদ্বার) যে স্বর্গদ্বারের সমতুল্য, এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। এই স্থান শ্রীহরিদর্শনের প্রথম দ্বারস্বরূপ। হরিদ্বার থেকেই শুরু হয়েছে হিমালয়স্থিত শৈবতীর্থ কেদারনাথ এবং বৈষ্ণবতীর্থ বদরিনাথের পথ। আবার এই স্থান সতীর একান্ন পীঠের একটি। বিষ্ণুর সুদর্শনচক্রে খণ্ডিত সতীর দেহের জঠর এখানেই পতিত হয়। এই ক্ষেত্রের দেবী ‘মায়া দেবী’ এবং শিব ‘ভৈরব’।শিবালিক হিমালয়ের পাদদেশে গঙ্গার কূলে অবস্থিত এই পবিত্র তীর্থের প্রাচীন নাম ‘মায়াপুরী’। কথিত আছে, আদ্যাশক্তি মহামায়া স্বয়ং সতীরূপে এই ক্ষেত্রে আবির্ভূতা হয়েছিলেন। মহামায়ার নামানুসারেই এই ক্ষেত্রের নাম মায়াপুরী, যদিও এই বিষয়ে মতভেদ আছে। হরিদ্বার পুরাণখ্যাত সপ্তপুরীর অন্যতম। “কাশী কাঞ্চী চ মায়াখ্যা ত্বযোধ্যা দ্বারবত্যপি।মথুরাবন্তিকাচৈতাঃ সপ্ত পুর্যোঽত্র মোক্ষদাঃ।।”৪ অর্থাৎ কাশী, কাঞ্চী, মায়াপুরী, অযোধ্যা, দ্বারাবতী, মথুরা ও অবন্তিকা—এই সাতটি পুরী মোক্ষদায়িনী। এই সংক্রান্ত আরো একটি কাহিনি আছে। প্রাচীনকালে হৃষীকেশ ও হরিদ্বারের মধ্যবর্তী স্থানে ‘আনন্দবন’ নামে একটি মনোরম কানন দিয়ে একদিন শ্রীবিষ্ণু ও নারদ যাচ্ছিলেন। সেই সময় নারদ ভগবানকে জিজ্ঞাসা করেন : “হে প্রভু, সকলেই আপনার মায়ায় মুগ্ধ, বিভ্রান্ত। আপনার সেই মায়া কেমন তা জানার খুব আগ্রহ হচ্ছে।” নারদের কথা শুনে শ্রীবিষ্ণু বললেন : “নিশ্চয় তা জানতে পারবে। তবে আমি খুব তৃষ্ণার্ত। আগে আমার তৃষ্ণানিবারণের ব্যবস্থা কর।” সামনেই গঙ্গা প্রবাহিত। ভগবানের তৃষ্ণানিবারণের জন্য নারদ একটি মৃৎপাত্র নিয়ে গঙ্গায় এক ডুব দিলেন। এখানে এক অলৌকিক কাহিনির...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in