আমি তাপ-হরা গঙ্গানদী। আ-শৈল-সাগর আমার স্মৃতিময় শরীর। জলকণা বয়ে আমি সাগরে ফেলি;
আমি তাপ-হরা গঙ্গানদী। আ-শৈল-সাগর আমার স্মৃতিময় শরীর। জলকণা বয়ে আমি সাগরে ফেলি; আর স্মৃতিকণা বুকে ধরে রাখি। হরিদ্বার-কনখলে যে যে ধারা তট ধুয়েছে, তারা কাহিনি হয়ে কলকল করে সেখানকার আঁকেবাঁকে। আমার অঙ্কে আজ যেখানে কনখল, শত শত বছর আগে সেখানে জন্মেছিল রাজার দুলালি সতী—কোমলপ্রাণা কল্যাণী। সেদিন আমার কী যে আনন্দ! তাকেই একদিন শেষ হতে দেখেছিলাম পিতার মুখে শিবনিন্দা শুনে। তখন আবার ডুকরে কাঁদি। কিছু বছর আগে পুনর্বার যেন দেখলাম মেয়েটিকে—ব্রাহ্মণের বিধবা—পতির দেহাবশেষ আমার ব্রহ্মকুণ্ডে বিসর্জন দিল। আর অমনি স্মৃতিতনুখানি জুড়িয়ে গেল আমার! এতবার ঋষিদের মননে আলাপ গেয়েও, এতবার কবির ছন্দে ছন্দে তরঙ্গ তুলেও, এতবার তাপিতের আর্তনাদে অমৃত ঢেলেও এতখানি স্নিগ্ধ তো কখনো হইনি। শুধু শীতলতা নয়, এ তো যুগান্তরের সজীবতা! অখিল সাধনা সেদিন আমাতে মিশেছিল! কালের কলুষ নিতে নিতে কবে যেন বৈচিত্র হারিয়ে ফেলেছিলাম। সে-পরশ আত্মচেতনা দিয়ে গেল। শুনেছিলাম, মেয়েটির নাম সারদা। সে যেন আমারই রূপ।
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
