পৃথিবীতে মানবসমাজের দুটি গতি—প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি। এই দুটি গতিতেই মানবসমাজ

পৃথিবীতে মানবসমাজের দুটি গতি—প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি। এই দুটি গতিতেই মানবসমাজ নিয়ন্ত্রিত হয়। আচার্য শঙ্কর তাঁর গীতাভাষ্যের ভূমিকায় বলেছেন : “দ্বিবিধো হি বেদোক্তো ধর্মঃ প্রবৃত্তিলক্ষণো নিবৃত্তিলক্ষণঃ চ।” প্রবৃত্তিলক্ষণ ধর্ম আমাদের কর্মে প্রবৃত্ত করে। ফল—ইহজগতে জাগতিক উন্নতি এবং মৃত্যুর পর স্বর্গাদি লাভ। আর যে-সকল সাধকের জীবনে কোনো জাগতিক বাসনা নেই, তারা নিবৃত্তিলক্ষণ ধর্মের অধিকারী। এই ধর্মে সাধক ‘আমি দেহ নই, মন-প্রাণ-বুদ্ধি নই, আমাতে কর্তৃত্ব নেই, আমার কোনো ফল নেই, ক্রিয়া নেই, সচ্চিদাত্মক ব্রহ্ম থেকে আমি অভিন্ন—এক আত্মা’ ইত্যাদি বিচার বা অনুচিন্তন করবে। ফল—মুক্তি। তাই আচার্য শঙ্করের মতে, সর্বকর্মসন্ন্যাস অর্থাৎ সর্বকর্মত্যাগের পর আত্মজ্ঞান- নিষ্ঠারূপ ধর্মই নিবৃত্তিলক্ষণ ধর্ম। নিবৃত্তিলক্ষণ ধর্মের লক্ষ্য সন্ন্যাস এবং ফল—মুক্তি। তাই আচার্য শঙ্কর তার সর্ববেদান্ত-সিদ্ধান্ত-সারসংগ্রহঃ গ্রন্থে লিখছেন : “সাধনত্বেন দৃষ্টানাং সর্বেষামপি কর্মণাম্।বিধিনা যঃ পরিত্যাগঃ স সন্ন্যাসঃ সতাং মতঃ।।”১ অর্থাৎ যে-সকল কর্মকে শাস্ত্র স্বর্গাদি লাভের সাধন বলে থাকে, তাকে শাস্ত্রীয় বিধি অনুসারে ত্যাগ করাই সন্ন্যাস। অতি প্রাচীনকাল থেকে সনাতন হিন্দুধর্মে সন্ন্যাসের পরম্পরা লক্ষ্য করা যায়। সৃষ্টির প্রারম্ভে ব্রহ্মার মানসপুত্র, বিষ্ণুর চব্বিশ অবতারের প্রথম অবতার—যাঁরা একত্রে ‘চতুঃসন’ নামে বিখ্যাত, সেই সনৎকুমার, সনক, সনাতন ও সনন্দন সন্ন্যাসপন্থা প্রচার করেছিলেন। পরে বৈদিক যুগে যাজ্ঞবল্ক্য প্রমুখ বহু ঋষি গৃহত্যাগ করে সন্ন্যাস নিয়েছিলেন। দত্তাত্রেয়-প্রবর্তিত অবধূতপন্থার অনুগামীরা ছিলেন সন্ন্যাসী। চতুঃসনের প্রবর্তিত, দত্তাত্রেয়ের প্রচারিত এবং যাজ্ঞবল্ক্যের অনুষ্ঠিত সকল সন্ন্যাস বিদ্বৎ-সন্ন্যাস। এখানে সন্ন্যাস আশ্রমগত নয়, গুণগত। এই গুণগত সন্ন্যাস দ্বিবিধ—প্রথম ‘বিদ্বৎ’ অর্থাৎ জ্ঞানলাভের পর সন্ন্যাস এবং দ্বিতীয় ‘বিবিদিষা’—জ্ঞানলাভের ইচ্ছায় অর্থাৎ ভগবানকে জানার জন্য সন্ন্যাস। এছাড়া আরেক প্রকার সন্ন্যাস ঔপনিষদিক যুগে ভারতে লক্ষ্য করা যেত, যার নাম ছিল ‘ক্রম-সন্ন্যাস’। আরুণ্যুপনিষদ-এ একে ‘অনুক্রম-সন্ন্যাস’২ বলা হয়েছে। ক্রম-সন্ন্যাস গ্রহণের পরম্পরায় চারটি আশ্রমেরই গুরুত্ব থাকত। এখানে ব্রহ্মচর্য আশ্রমের পর মানুষ গৃহী হবে, গার্হস্থের পর পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে বানপ্রস্থ অবলম্বন করে পঁচাত্তর বছর বয়সে সন্ন্যাস নেবে। ‘ব্রহ্মচর্যং পরিসমাপ্য গৃহী ভবেৎ, গৃহী ভূত্বা বনী ভবেৎ, বনী ভূত্বা প্রব্রজেৎ।’৩ এই ক্রম-সন্ন্যাসে জ্ঞান, বৈরাগ্য বা বিবিদিষার অপেক্ষা নেই। বানপ্রস্থ আশ্রমের পর...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in