হিন্দুধর্মের সমস্ত সম্প্রদায় বা মতবাদের মূল শাস্ত্রগ্রন্থ হলো বেদ। এটি আধুনিককাল
হিন্দুধর্মের সমস্ত সম্প্রদায় বা মতবাদের মূল শাস্ত্রগ্রন্থ হলো বেদ। এটি আধুনিককাল পর্যন্ত জানা প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ এবং ভারতীয় সংস্কৃতি-সৌধের মূল ভিত্তি। বেদ অনাদি এবং অপৌরুষেয়, অর্থাৎ তা কোনো ব্যক্তিবিশেষের বিশেষ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে রচিত গ্রন্থবিশেষ নয়। সার্বভৌম, সত্যরূপী বেদ যেন স্বয়ং ঈশ্বরেরই নিঃশ্বাস—যা ঋষিদের দ্বারা অনুভূত, দৃষ্ট এবং পরম্পরাক্রমে সংরক্ষিত। বেদ কল্পনাবিলাসের প্রকাশ নয়—সমগ্র ভারতীয় জাতির বহু সহস্রাব্দের অতীন্দ্রিয় আধ্যাত্মিক প্রত্যক্ষানুভূতির প্রামাণ্য দলিল বা ইতিহাস। মহর্ষি ব্যাস বেদকে চারভাগে বিভক্ত করেছিলেন—ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ। প্রতি বেদের আবার দুটি বিভাগ—মন্ত্র ও ব্রাহ্মণ। মন্ত্রভাগের আরেক নাম সংহিতা, অর্থাৎ যেখানে মন্ত্রসমূহ সমাহিত বা একত্রে স্থাপিত বা সমষ্টিকৃত হয়েছে। আর শ্রুতি নিজেই যে-অংশে নিজের অপ্রকাশিত অর্থ ব্যক্ত করেছেন ও সংহিতার প্রয়োগ ইত্যাদি প্রদর্শন করেছেন—সেই বেদাংশটি ব্রাহ্মণ। এই ভাগে প্রধানত বিধি, নিষেধ, যাগযজ্ঞ, ইতিবৃত্ত, অর্থবাদ (অর্থাৎ প্রশংসাপ্রধান বা নিন্দাপ্রধান বাক্য), উপাসনা ও ব্রহ্মবিদ্যা নির্ণীত হয়েছে। এই অংশ প্রায়শই গদ্যে রচিত। ব্রাহ্মণের অংশবিশেষ হলো আরণ্যক, কারণ তা অরণ্যে পঠিত হতো এবং অরণ্যবাসীদেরই অবলম্বনীয় ছিল। আরণ্যক অংশেও অনেক উপাসনার কথা আছে। অরণ্যবাসিগণ অরণ্যে যাগযজ্ঞ ইত্যাদি করতে অসুবিধাবোধ করত এবং উচ্চতর তাত্ত্বিক অনুভূতির জন্য তাদের হৃদয় ব্যাকুল হওয়ায় ধ্যান বা উপাসনা করত। সংহিতা ও ব্রাহ্মণ—এই দ্বিবিধ অংশেই উপনিষদগুলি বিন্যস্ত হয়েছে এবং সেই অনুসারে তারা ‘সংহিতোপনিষদ’ বা ‘ব্রাহ্মণোপনিষদ’ নামে উল্লিখিত হয়ে থাকে। তবে সাধারণত এই বিভাগগুলির মধ্যে একটি পারম্পর্য আছে; যেমন—তৈত্তিরীয় সংহিতা, তারপর তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ, তারপর তৈত্তিরীয় আরণ্যক এবং শেষে তৈত্তিরীয় উপনিষদ। বেদব্যাস বেদকে চারভাগে বিভক্ত করার পর শিষ্য পৈলকে ঋগ্বেদ, বৈশম্পায়নকে যজুর্বেদ, জৈমিনিকে সামবেদ এবং সুমন্তকে অথর্ববেদ শিক্ষা দিয়েছিলেন। বৈশম্পায়ন-শিষ্য যাজ্ঞবল্ক্য আবার অত্যধিক আত্মবিশ্বাসের কারণে গুরুর দ্বারা পরিত্যক্ত ও নির্দেশিত হয়ে লব্ধবিদ্যা বমন করে দিয়েছিলেন এবং পুনরায় উপাসনার দ্বারা সূর্যকে তুষ্ট করে তাঁর কাছ থেকে বেদ গ্রহণ করেছিলেন। এটাই শুক্লযজুর্বেদ। আর যাজ্ঞবল্ক্যের দ্বারা পরিত্যক্ত বেদ যা বৈশম্পায়নের অপর শিষ্যগণ তিতির পাখির রূপ ধরে পুনরায় গ্রহণ করেছিলেন, তা কৃষ্ণযজুর্বেদ। প্রসঙ্গত...
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
