পরের সুখে নিজেকে নিঃশেষে নিবেদন করাই প্রেম। “স্বার্থঃ যস্য পরার্থঃ এব সঃ পুমানেকঃ সতামগ্রণী।” পরের হিতচিন্তাই যার

পরের সুখে নিজেকে নিঃশেষে নিবেদন করাই প্রেম। “স্বার্থঃ যস্য পরার্থঃ এব সঃ পুমানেকঃ সতামগ্রণী।” পরের হিতচিন্তাই যার আপন চিন্তা, নিজের বলে যার ভিন্ন কিছু নেই—সজ্জনের মধ্যে সে শ্রেষ্ঠ। সেই প্রেম একবার কুসুমিত হলে সামর্থ্যের স্বল্পতা হৃদয়কে সীমায়িত করতে পারে না। প্রসারিত বাহুপাশ তখন ভূতবর্গকে আলিঙ্গন করতে চায়। একমাত্র বিশ্বমূর্তি শ্রীভগবানই সে-প্রেমের ধারণপাত্র হতে পারেন। কারণ, প্রেমে মানুষ প্রিয়তমের সঙ্গে একাকার হতে চায়। পরপ্রেমে এতদূর স্বার্থশূন্য হওয়া যার পক্ষে সম্ভব, সে কেবল স্বার্থলেশশূন্য নিরঞ্জন ভগবানের মধ্যেই একাত্মতা খুঁজে পায়। তাই তো প্রেমসাধনার কত কত নিদর্শন আমাদের শাস্ত্রে করুণ আর্তিতে সজল হয়ে রয়েছে। রামায়ণ-এ দেখি কাঠবিড়ালীকে। বড় বড় বানরদের মতো ভারী ভারী পাথরে রামসেতু সে আর বাঁধে কেমন করে! তবু যে তার দুর্মর ভালবাসা শ্রীরামের চরণে। গায়ে সামান্য ধুলো-বালি মেখে, হাতে একখানি কাঁকর নিয়ে তাই সে ঝেড়ে যায় সেতুর ওপরে। জাগতিক গণনায় ঐ অবদান ফলহীন। কিন্তু গণনার অপেক্ষা কোন অকিঞ্চন করে, যখন ভালবেসে মেলে অমন অধরা সুধা!  

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in