আসমুদ্রহিমাচলের অজস্র শৈবতীর্থে দেবাদিদেব বিরাজিত ভারতের আদর্শরূপে, ভারতবাসীর

প্রণমামি শিবং শিবকল্পতরুম্‌ শিবক্ষেত্র কামারপুকুর উমাপতির লীলাক্ষেত্র। দিব্যজ্যোতিরূপে স্বয়ং শিব এই তীর্থে প্রকট হয়েছিলেন সংসারের যত অশিব-নাশের সংকল্পে, জীবের জীবত্বকে ক্ষয় করে শিবত্বের প্রতিষ্ঠাকল্পে। সেই শিবজ্যোতির উৎসস্থল কামারপুকুরে শ্রীরামকৃষ্ণের বাসভবনের উত্তরে যুগীদের শিবমন্দির। কথিত আছে, কামারপুকুরের যুগীপাড়ার পরম শিবভক্ত রামানন্দ যুগী এই পূর্বমুখী আটচালা-বিশিষ্ট মন্দিরটি নির্মাণ করিয়ে ‘শান্তিনাথ’ শিবকে প্রতিষ্ঠিত করেন। শ্রীরামকৃষ্ণের আবির্ভাবের আগে একদিন ঐ মন্দিরের কাছে দাঁড়িয়েই এক অপূর্ব দর্শন হয় শ্রীরামকৃষ্ণ-জননী চন্দ্রমণিদেবীর। ঠাকুরের পিতা ক্ষুদিরাম তখন গয়াধামে। চন্দ্রমণিদেবী সেদিন শিবমন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে ধনী কামারনির সঙ্গে কথা বলার সময় ল‌ক্ষ্য করেন, মহাদেবের শ্রীঅঙ্গ থেকে নির্গত এক অপার্থিব জ্যোতিতে মন্দির পূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই জ্যোতি তরঙ্গাকারে তাঁর দিকে ছুটে এসে প্রবল বেগে উদরে প্রবিষ্ট হলো। ভয়ে, বিস্ময়ে স্তম্ভিতা হয়ে তিনি জ্ঞান হারালেন। বাহ্যজ্ঞানলাভের পর বুঝলেন, তাঁর গর্ভসঞ্চারের উপক্রম হয়েছে। শ্রীরামকৃষ্ণের আবির্ভাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত যুগীদের শিবমন্দির তাই শ্রীরামকৃষ্ণ-ভক্তপরিমণ্ডলে বিশিষ্ট মর্যাদায় আসীন। আসমুদ্রহিমাচলের অজস্র শৈবতীর্থে দেবাদিদেব বিরাজিত ভারতের আদর্শরূপে, ভারতবাসীর প্রাণের দেবতা হয়ে। আবার বহু শৈবতীর্থ শ্রীরামকৃষ্ণলীলার অঙ্গনে উদ্ভাসিত হয়েছে শ্রীরামকৃষ্ণ, শ্রীমা এবং শ্রীরামকৃষ্ণ-পার্ষদগণের দিব্যস্মৃতির স্পর্শে। সেই তালিকায় বিশ্রুত ও অল্পশ্রুত দুরকমের তীর্থই আছে। এই রচনা মূলত তাঁদের স্মৃতিধন্য অল্পশ্রুত শৈবতীর্থের পুণ্যধারায় অবগাহনের ক্ষুদ্র প্রয়াস। তবে কয়েকটি অতিপরিচিত তীর্থের কথা বলতেই হয় তাদের অল্পশ্রুত ইতিহাস অনুধ্যানের প্রয়োজনে। কামারপুকুরের বুড়ো শিব বিবাহের পরে শ্রীরামকৃষ্ণ তখন দ‌ক্ষিণেশ্বরে জগন্মাতার অবিরাম দর্শনের জন্য ব্যাকুল। তাঁর বায়ুপ্রকোপ, অনিদ্রা ও গাত্রদাহ পুনরায় দেখা দিল। মথুরবাবু চিকিৎসা করালেও তার উপশম হলো না। ক্রমে সেই সংবাদ পৌঁছাল কামারপুকুরে চন্দ্রমণিদেবীর কাছে। তিনি স্থির করলেন, পুত্রের আরোগ্যকামনায় মহাদেবের কাছে হত্যা দেবেন। লীলাপ্রসঙ্গ-এ আছে—চন্দ্রমণিদেবী “কামারপুকুরে ‘বুড়ো শিব’কে জাগ্রত দেবতা জানিয়া তাঁহারই মন্দিরপ্রান্তে প্রায়োপবেশন করিয়া পড়িয়া রহিলেন।”১ অচিরেই তিনি পেলেন শিবের প্রত্যাদেশ—মুকুন্দপুরের শিবের কাছে হত্যা দিলে তাঁর মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে। শ্রীরামকৃষ্ণের বাসভবনের দ‌ক্ষিণ-পূর্বে লাহাবাবুদের বাড়ির কাছে প্রাচীন বুড়ো শিব বিরাজ করছেন।২ জানা যায়, ‌ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়ের আশ্রয়দাতা এবং কামারপুকুরের জমিদার সুখলাল গোস্বামী অথবা তাঁর...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in